হাফসা আক্তার :
বাংলাদেশের অভিভাবক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় উত্তরা জুড়ে আজ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
পুরো উত্তরা জুড়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে আজ ঢাকা-১৮ আসনের প্রতিটি থানা ওয়ার্ডে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে যুবক—সবাই অংশ নেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনায় এ সব ব্যতিক্রমী উদ্যোগে।
উত্তরখান থানা বিএনপির আয়োজনে হযরত শাহ্ কবির (রহঃ) মাজার প্রসঙ্গে বাদ আসর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটের সহস্রাধীক নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। তিনি বলেন,আজ আমরা ভারাক্রান্ত, আবেগ আপ্লুত,আমার মা গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী আজকে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, এই মূহুর্তে আল্লাহর দরবারে দোয়া করতে হবে। আমরা সবাই ওনার জন্য দোয়া করবো। তিনি আরো বলেন,শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির হাল ধরেছেন।তিনি আমাদের জন্য জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, হাসিনার পালিত পুলিশ বাহিনীর জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছেন, তবুও দেশের মানুষকেছেড়ে যান নি।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে
আজ ২৯ নভেম্বর
বিকাল ৪টায় আজমপুর নওয়াব হাবিবউল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে
মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে আবেগে আপ্লূত হয়ে উঠে নেতা কর্মীরা।
এসএম জাহাঙ্গীর বলেন,আজ সকালে আমি নেত্রীকে সালাম দিয়ে কৌশল বিনিময় করার পর তিনি আমাকে বলেছেন, তোমরা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যাও, তাদের পাশে দাঁড়াও,আমার জন্য দোয়া করতে বলো। এসএম জাহাঙ্গীর আরো বলেন, আমাদের নেত্রী আপোষহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষকে সব সময় হূদয়ে ধারণ করতেন বলেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সারাদেশের মানুষ ও বিশ্ব নেতারা দেশনেত্রীকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন। এসএম জাহাঙ্গীর বলেন,দেশ নেত্রীর প্রতি উদার ভালোবাসার আমরা দেশবাসীর নিকট কৃতজ্ঞ। বিএনপির এই ত্যাগী নেতা বলেন,শেখ হাসিনার আমলে আমাদের নেত্রীর উপর জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তবু ও তিন এ দেশের মানুষকে ছেড়ে পালিয়ে যান নি।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন খুনি হাসিনার বিচার করেছে,তাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে উত্তরা ১১নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির মাঠে মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ করেন।
আজ তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও উত্তরা এলাকাজুড়ে দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও হাজার হাজার গরীব অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব
মোস্তফা জামানের নেতৃত্বে তুরাগের রানা ভোলা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এ সময় তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতাই আজ পুরো জাতির কামনা। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন—তিনি ভোটাধিকার, গণতন্ত্র এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামের আলোকবর্তিকা।”
তিনি আরও বলেন,
“গণতন্ত্রের লড়াইয়ের নাম বেগম খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অন্যায়ের মধ্যেও তিনি সবসময় অটল থেকেছেন। আজ তিনি অসুস্থ, কিন্তু তার আদর্শ—তার সাহস—এখনও লক্ষ কোটি মানুষের মনে অমর হয়ে আছে। আমরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং এ জন্য পুরো জাতিকে দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
দলীয় নেতারা অভিযোগ করেন, অতীতের স্বৈরাচারী সরকারের আমলে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে কারাগারে নেওয়া হয় এবং তাকে যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে জীবনসংকটজনক পরিবেশে রাখা হয়েছিল। বিএনপি নেতাদের দাবি, সেই সময়কার সরকারের অবহেলা ও নিষ্ঠুর আচরণের কারণেই আজ বেগম জিয়া মারাত্মকভাবে অসুস্থ। তারা বলেন, “বেগম জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবনতির জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরাচারী নীতি ও অন্যায় আচরণই পুরোপুরি দায়ী।”