বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
অপপ্রচারে মানুষ বিশ্বাস করে না — এস এম জাহাঙ্গীর জন্মদিনে সবার ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ: মির্জা ফখরুল পিএসএলের নিলামে দেশীয়রা কে কোন ক্যাটাগরিতে ইরান নিয়ে আবার উত্তপ্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, পাশে থাকার অঙ্গীকার সৌদি আরবের বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬৪তম বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দিয়াবাড়ি আর্মি ক্যাম্পে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত কৃষকদের উন্নতি না হলে দেশের উন্নয়ন হবে না : কৃষি উপদেষ্টা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্বাচনের বিকল্প নেই : আলী রীয়াজ এস এম জাহাঙ্গীরের হাতে ধানের শীষ তুলে দিলাম দেখে শুনে রাখবেন; তারেক রহমান আগৈলঝাড়ায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে কিশোর গ্যাং সদস্যসহ মাদক কারবারি আটক

জন্মদিনে সবার ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ: মির্জা ফখরুল

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: জন্মদিনে সবার ভালোবাসায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জন্মদিনে সবার ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ২২ মিনিটে ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লিখেন, ‘বিএনপি সরকারের শাসনামলে ঠাকুরগাঁওয়ে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে, তা আজও এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই তখন ঠাকুরগাঁও বদলেছে। কৃষি, শিক্ষা, অবকাঠামো ও মানবসম্পদ, সব খাতেই ছিল পরিকল্পিত অগ্রগতি।’

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি লিখেন, ‘২০০৫ সালের মার্চ মাসে বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস ভূগর্ভস্থ সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৩৩৭টি টিউবওয়েলকে আধুনিক ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নেটওয়ার্কে রূপান্তর করা হয়। এর ফলে পানির অপচয় কমে, কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৫০ একর নতুন জমি কৃষির আওতায় আসে। এ প্রকল্পই ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ভিত শক্ত করে। আমি শুধু কৃষিতে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের দিকেও নজর দিয়েছি। গোবিন্দনগরে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভবনের শিলান্যাস উত্তরাঞ্চলে কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোই আজ হাজারো তরুণের কর্মসংস্থানের ভিত্তি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬—এই দুই মেয়াদে ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামকে গ্রামের সঙ্গে, মানুষকে মানুষের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিএনপি। নতুন গ্রামীণ সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের বিস্তারে কৃষি, ব্যবসা ও ঘরোয়া জীবনে গতি আসে। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষা পৌঁছে যায় প্রত্যন্ত এলাকায়।’

‘বিএনপি সরকারের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সব বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষক সমাজের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরে আসে। একই সময়ে ১,২৬০টি গভীর নলকূপ চালুর মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার বিপ্লব ঘটে, যা কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই উন্নয়নের পেছনে নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলাম। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে আমি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ সম্প্রসারণ এবং রপ্তানিমুখী কৃষিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিই। কৃষক সমবায় ও আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষমতায়ন ছিল আমার অন্যতম কাজ।’

মির্জা ফখরুল লেখেন, ‘আজ আমার বয়স ৭৮। গত ১৭ বছর গেছে গণতন্ত্রের সংগ্রাম এ। ১১ বার জেল। কী পেয়েছি কী করতে পেরেছি তা আল্লাহ জানেন আর মাটিতে জনগণ। কিন্তু নীতির প্রশ্নে আপস করিনি। আল্লাহ জানেন। দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাকে আরও ঋণী করেছে। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।’

পরিবারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর অনেক রহমত। আমি আছি আপনাদের সাথে। আমার স্ত্রী চাকরি করেছে ও আমার মেয়েদের বড় করেছে। মেয়েরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে। বড় মেয়ে বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে পড়েছে। ওরা নিজ নিজ কর্মস্থলে আছে। আজ আমি ওদের ধন্যবাদ দেই, আমাকে সাথ দেবার জন্য। আমি আজও এই দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখি ও কাজ করি। আজকের তরুণেরা আমার সন্তানসম। এ দেশে আমার সকল সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উল্লেখ্য, স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলামের সংসার। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ফেডারেল মেডিকেল কাউন্সিলে জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ রাজধানীর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com