হাফসা আক্তার :উত্তরায় শিশু কাজের মেয়েকে নির্যাতন মামলায় বিমানের এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে আটক করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
গতকাল রবিবার উত্তরায় প্রভাবশালী বিমানের এমডি সফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী- বিথির বিরুদ্ধে মোহনা নামের ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে উত্তরা পশ্চিম থানায় এজাহার দাখিল করেন ভুক্তভোগী পিতা মোস্তফা।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
প্রায় সাত- আট মাস আগে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে বিমানের এমডি শফিকুর রহমানের বাসায় মা হারা শিশু মোহনাকে কাজে দিয়েছেন তার পিতা মোস্তফা ।
গত শনিবার ৩১শে জানুয়ারি মেয়েকে নিতে গেলে তার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে সই নিয়ে রাতের বেলায় মেয়েকে তার হাতে তুলে দেয়। মেয়ের শরীরের এই অবস্থা দেখে পিতা মোস্তফা হাঁও মাঁও করে কাঁদতে শুরু করেন। শিশুটির হাতে কাটা ও সেলাইয়ের দাগ, পুরো শরীরজুড়ে পোড়া চিহ্ন এবং মুখের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন।
ভুক্তভোগীর পিতা মোস্তফা বলেন সে একজন অসহায় বাবা। তার মেয়ের সঙ্গে যে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, শিশু মোহনার পিতা মোস্তফা বিথী ও তার স্বামী শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দাখিলের পর গতকাল রাতে থানায় মামলা রেকর্ড হয়।
রাত আনুমানিক ৩ টার সময় তারা উত্তরায় অভিযান চালিয়ে শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথীসহ তাদের আরো দুই জন কাজের মেয়েকে গ্রেফতার করে আদালত পাঠানো হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ আরো জানান, শিশু মোহনাকে দেখতে উত্তরা থেকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল হাসপাতালে ছুটে যায় কয়েকজন সিনিয়র পুলিশ সদস্য। এ সময় ভিক্টিমের চিকিৎসার জন্য ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
শিশু মোহনার নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার করার সেক্টর এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা নির্যাতন কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।