এস চাঙমা সত্যজিৎ, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
কার্বারীদের সম্মানজনক ভাতা ও প্রথাগত প্রশাসন সংরক্ষণের দাবি ও খাগড়াছড়িতে জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রশাসন ব্যবস্থা সংরক্ষণ এবং কার্বারীদের জন্য সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা–২০২৬ এ সম্মেলনে। অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রথাগত প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য জন্য জরুরী হয়ে পড়েছে।
আজ শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬ সকালে খাগড়াছড়ি উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সম্মেলন কক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলার সভাপতি রনিক ত্রিপুরা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও মাটিরাঙা উপজেলার বেলছড়ি ইউনিয়নের অযোধ্যা মৌজার হেডম্যান জয়া ত্রিপুরা।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হেম রঞ্জন চাকমা। তিনি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান। উদ্বোধনী বক্তব্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আলো’র নির্বাহী পরিচালক অরুন কান্তি চাকমা বলেন, একজন যোগ্য কার্বারী বা হেডম্যানকে শাসনবিধি, শান্তিচুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতে হবে। তিনি কার্বারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও জোড়ালোভাবে উল্লেখ করেন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি জেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা যতীন বিকাশ চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি যুব লক্ষণ চাকমা, সিএইচটি নারী হেডম্যান-কার্বারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক হেডম্যান ইখিন চৌধুরী, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি প্রতন কুমার চাকমা এবং রামগড় কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি আনন্দ মোহন ত্রিপুরা।
বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলের প্রথাগত প্রশাসন ব্যবস্থার বর্তমান সংকট এবং তা উত্তরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। সভাপতির বক্তব্যে রনিক ত্রিপুরা বলেন, বর্তমান ভাতা কার্বারীদের জন্য সম্মানজনক নয়। পদমর্যাদার কারণে তারা দিনমজুরির মতো কাজও করতে পারেন না, ফলে অনেক কার্বারী আর্থিক সংকটে পড়ছেন। তিনি কার্বারীদের ভাতা বৃদ্ধি এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রশাসন ব্যবস্থা সুরক্ষা, কার্বারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।