মোঃ আবুল খায়ের( মনোহরগঞ্জ) কুমিল্লা
মরহুম মঞ্জুরুল আলম মজনু একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, পরিশ্রমী, সাহসী, উদ্যোক্তা এবং মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী ও মেধাবী। নিজের অধ্যবসায়, সততা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক খাতে সফলতা অর্জন করেন , এবং কি তিনি মনোহরগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ীদের কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন।
ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সম্প্রসারন করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন বিভিন্ন খামার, তার ব্যবসার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—তিনি স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
গ্রাম উন্নয়নে তার অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি সবসময় গ্রামের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন।তিনি নবীস্বর মসজিদের দীর্ঘ দিন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছেন।
শিক্ষা খাতে তার অবদান রয়েছে মঞ্জুরুল আলম মজনুর। তিনি মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাথে কাজ করেছেন। যাহা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
তার জীবনের অন্যতম স্বপ্নের প্রকল্প ছিল দিশাবন্দ নবীস্বর মসজিদকে একটি মডেল কমপ্লেক্স এ রুপান্তর করা।
রাজনৈতিক জীবনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক, বর্তমান বিএনপির কমিটিতে সহসভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং ৮ নং খিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন । এছাড়া, তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি সবসময় দলের জন্য নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন এবং প্রয়াত এমপি এটিএম আলমগীর এর ভগ্নীপতি ছিলেন। তিনি কুমিল্লা -৯ লাকসাম মনোহরগঞ্জ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ আবুল কালাম এমপির প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন।
তার মৃত্যুতে দিশাবন্দ গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। লাকসাম, মনোহরগঞ্জ এবং দিশাবন্দ গ্রামের প্রতিটি মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রিয় এই মানুষটির চলে যাওয়া যেন এক অপূরণীয় ক্ষতি—যার শূন্যতা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে। তিনি শুধু একজন সফল রাজনৈতিক ব্যক্তি নন, ছিলেন মানুষের বন্ধু, সমাজের একজন অভিভাবক।
সব মিলিয়ে, মোঃ মঞ্জুরুল আলম মজনু একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি একজন সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার জীবন আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে—নিজের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তার প্রকৃত স্বার্থকতা।
তার সামাজিক, ব্যবসায়ীক, শিক্ষার মানোন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক অবদানের জন্য মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে বেঁচে থাকবেন।
খিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আহসান হাবিব মজুমদার আমাদের প্রতিনিধিকে জানান,আমি মজনু ভাইয়ের একজন বিশ্বস্ত শীর্ষ হিসাবে উনার দিকনির্দেশনা কাজ করে এসেছি। আমি ইউনিয়ন যুবদলের ৩ বার সভাপতি ছিলাম। আমি ইউনিয়ন বিএনপির ৩ বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি তা ও মঞ্জুরুল আলম মজনু ভাইয়ের দিক নির্দেশনায়। আমি মনে করি খিলা ইউনিয়ন তথা মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি একজন অভিজ্ঞ ও চৌকস অভিভাবক কে হারিয়েছি, যা কখনো অপুরনীয়। আমি মহান বিধাতার নিকট মজনু ভাইয়ের জন্য সকলের নিকট দোয়া চাই যাতে আল্লাহ যাতে উনাকে জান্নাতের উচ্চ মোকাম দান করেন আমি সেই কামনাই করছি।
সর্বোপরি তিনি ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা তথা দিশাবন্দ গ্রামে একজন মানবাধিকার হিতোপদেষ্টা। তিনি সমাজের অসহায় মানুষের মাঝে কাজ করতেন যাহা গোপনে ও নিরবে করতেন।