টানা ২০ ঘণ্টা ধরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে অন্তত আটজন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
শনিবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এ হামলা বিকেল পর্যন্ত চলে। কয়েক দফায় শহরের আবাসিক এলাকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়। এটি দিনিপ্রো শহরের ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলা বলে জানানো হয়েছে।
বৃহত্তর দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা বলেন, ‘রাশিয়া ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভয়াবহভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।’
শহরের মেয়র বোরিস ফিলাতোভ এ হামলাকে ‘দিনিপ্রোর ওপর সবচেয়ে বড় আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, চলমান হামলার মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তারা বোমায় বিধ্বস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিত ও মৃতদের খুঁজছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ভিন্ন সময়ে দুই দফা হামলা চালানো হয়েছে।
এ হামলায় আটজন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। শহরের মেয়রের এক উপদেষ্টাও আহত হন। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে জানিয়েছেন ফিলাতোভ। এছাড়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের অন্য এলাকায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ বলেন, পাশের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলেও হামলা হয়েছে। এতে একটি বেসামরিক মিনিবাসে থাকা একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৬১৯টি ড্রোন ও ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেনে বিমান হামলার কৌশল পরিবর্তন করেছে। এখন তারা শুধু রাতে হামলা না চালিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও ধাপে ধাপে হামলা চালাচ্ছে, যা রাত থেকে শুরু হয়ে দিনের অনেকটা সময় পর্যন্ত চলে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে। তবে যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে বেসামরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে মস্কো।
হামলার পর একটি ড্রোন ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ রোমানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ২০০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে মোতায়েন ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানও উড্ডয়ন করে।
অন্যদিকে, আজারবাইজান সফররত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যেন এ ঘটনার বিষয়ে নীরব না থাকে এবং ইউরোপে রাশিয়ার এই যুদ্ধ যেন অন্য কোনো সংঘাতের আড়ালে চাপা না পড়ে।’
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাল্টা হামলা বাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত এবং এক পুরুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আরেকটি হামলায় এক ট্রাক্টরচালক আহত হন।
রাশিয়ার বড় শিল্পনগরী ইয়েকাতেরিনবুর্গে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এতে কেউ গুরুতর আহত হননি।
এছাড়া রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনী খারকিভ অঞ্চলের বোচকোভ গ্রাম দখলের দাবি করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি উদ্যোগও ব্যাহত হয়েছে।