বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
তিনি আজ সংসদে যশোর-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মুহাম্মাদ আজীজুর রহমানের আনীত জরুরী জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান।
জাতীয় সংসদে তিনি জানান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এসিইএসএস প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ রানিং মিটার ড্রেনেজ সিস্টেমসহ বন্দর ভবন, যাত্রী পার্কিং সুবিধা, ইয়ার্ড, ওয়্যারহাউস এবং শিপমেন্ট সুবিধা উন্নয়নের জন্য ৩৫৫ কোটি টাকার দুটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বর্তমানে দরপত্রের মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে এবং শিগগিরই জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অননুমোদিত প্রবেশ রোধে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্বে বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট মোতায়েন থাকলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে আবারও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মোতায়েনের মাধ্যমে একটি বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কিছু অপরাধচক্র সদস্যকে থানা পুলিশ বারবার গ্রেপ্তার করলেও তারা জামিনে বের হয়ে পুনরায় এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। এ কারণে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর শক্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পরিচালিত আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল এলাকায় সহকারী পরিচালকসহ ১০ জন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের রপ্তানি-আমদানি বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে চলমান টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুরু হওয়া উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বন্দর ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।