বিনোদন ডেস্ক: প্রথমবারের মতো মঞ্চনাটকের পরিচালনা করলেন জান্নাতুল টুম্পা। প্রখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত ও সূচনা থিয়েটার প্রযোজিত ‘অমানুষ’ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
গত ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির নিউ ব্রান্সউইকের ৯ বেয়ার্ড স্ট্রিটে স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ৩০ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে নাটকটির দুটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
সাউথ এশিয়ান থিয়েটার ফেস্টিভ্যালের ২১তম বার্ষিক আসর উপলক্ষে এ নাটকের আয়োজন করা হয়। উৎসবটির মূল আয়োজক ‘এপিক’ (এমপাওয়ারিং পিপল ইন্সপায়ারিং কমিউনিটি) এবং সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল ‘কোল্যাব আর্টস’। নাটকটির নজরকাড়া পোস্টার কনসেপ্ট ও ডিজাইন করেছেন রানা মাসুদ ও রাহি চৌধুরী।
প্রথমবার নির্দেশকের আসনে বসা প্রসঙ্গে জান্নাতুল টুম্পা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘প্রায় দুই দশক ধরে আমি নাটক প্রযোজনার সঙ্গে জড়িত। ফলে পর্দার পেছনের কাজ এবং নির্মাণ শৈলী খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। সত্যি বলতে, নিজে পরিচালনায় আসার তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না; কিন্তু শ্রদ্ধেয় নাট্যকার মামুনুর রশীদের অনুপ্রেরণা ও ইচ্ছাতেই ‘অমানুষ’ নাটকটির নির্দেশনা দেয়া। দর্শকদের ভালোবাসা ও সবার সমর্থন পেলে আগামীতেও এ কাজ নিয়মিত করে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।’
নাটকের গল্প ও প্রেক্ষাপট: ‘অমানুষ’ নাটকের মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন আদর্শবাদী শিক্ষককে কেন্দ্র করে। যিনি একটি সুন্দর, শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গড়ার স্বপ্ন বুনেন। কিন্তু চারিদিকের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম আর সামাজিক অবক্ষয়ের করাল গ্রাসে তাঁর সেই স্বপ্নগুলো একে একে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হতে থাকে। চারপাশের এ বৈরি পরিবেশের চাপে একপর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ভারসাম্য হারিয়ে চরম এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দিকে পা বাড়ান।
ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর স্ত্রী পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন—স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া মানেই জীবন শেষ নয়, বরং বৈরি পরিস্থিতিতেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখাই হলো বেঁচে থাকার আসল শক্তি। এক চরম মানসিক টানাপোড়েন, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সমাজের নির্মম বাস্তবতাকে এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে, যা দর্শকদের মনে এক বড় প্রশ্ন রেখে যায়—আমরা কি সত্যিই মানুষ হিসেবে বেঁচে আছি, নাকি চারপাশের চাপে ধীরে ধীরে ‘অমানুষ’ হয়ে উঠছি?