ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল

রাষ্ট্রপতির কাছে ২০১৮ সালের দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ

অনলাইন ডেস্ক, সিটিজেন নিউজ: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বঙ্গভবনে সোমবার বিকেল ৫টায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে কমিশনের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ প্রতিবেদন পেশ করে।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম ও সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অনুশাসন অনুসারে প্রতি বছর এ প্রতিবেদন রাষ্টপতির কাছে দাখিল করা হয়।
প্রতিবেদনটি হস্তান্তর শেষে বঙ্গভবনের বহিরাঙ্গনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করতে বলেছেন। তিনি শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য করণীয় সবকিছু করতে পরামর্শ দিয়েছেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও দুর্নীতি নির্মূলে কমিশনকে পরমর্শ দিয়ে বলেছেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পেতে হলে স্বাস্থ্য এবং মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত কর্মীদের যদি কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের খবর আসে তাও যেন কমিশনের নজরে থাকে সে বিষয়েও রাষ্ট্রপতি পরামর্শ প্রদান করেছেন।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যে বা যারা সরকারি সম্পত্তি যেমন রেলের জায়গা, সড়ক বিভাগের জায়গা, গণপূর্ত কিংবা খাস জমি, বন বিভাগের জমি, চান্দিনা ভিটা, ইত্যাদি জমি/সম্পদ অবৈধভাবে দখল করে বিলাসবহুল রিসোর্ট বানিয়েছেন কিংবা অন্য কোনোভাবে দখল করে রেখেছেন তাদের কমিশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাই এসব সম্পত্তি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থায় ফিরিয়ে দিন, জনগণের সম্পদ জনগণকে ফিরিয়ে দিতেই হবে, নইলে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট। ব্যাংক তার নিজস্ব বিধি-বিধান অনুসারে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করবে তাতে কমিশন কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। ব্যাংকিং নিয়ম-কানুন মেনে ব্যবসায়ীরা ঋণ নেবেন এবং ব্যাংকাররা ঋণ দেবেন এতে দুদক কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। তবে পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি এবং প্রতারণা করে ব্যাংকের অর্থ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে। আমাদের বক্তব্য, যারা ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে ঋণ নিয়েছেন বা ঋণ দিয়েছেন তারা জনগণের এ অর্থ সমন্বয় করুন নইলে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

দুদক সরকারের তল্পিবাহক এমন এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অসম্ভব। দুদক কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। যে কারণে দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের কাছে দাখিল না করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে বঙ্গভবনে এসে দাখিল করছি। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে দুদকের সরকার বা অন্য কোনো সংস্থার তল্পিবাহক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

দুদক শুধু চুনোপুটিদের ধরে এমন এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করেন। তারাই এ কথিত চুনোপুটির দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারে শিকার। কারণ তৃণমূল পর্যায়ে এসব চুনোপুটিরাই সরকারি সেবা প্রদান করে থাকেন। তাই গ্রামের এ সাধারণ মানুষকে যে বা যারা দুর্নীতি অনিয়মের শিকার বানাবেন তাদের ন্যূনতম ছাড় দেয়া হবে না। এসব চুনোপুটিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া আরও দৃঢ় করা হবে।

দুদকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

রাষ্ট্রপতির কাছে ২০১৮ সালের দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ

আপডেট টাইম : ০২:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক, সিটিজেন নিউজ: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বঙ্গভবনে সোমবার বিকেল ৫টায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে কমিশনের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ প্রতিবেদন পেশ করে।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম ও সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অনুশাসন অনুসারে প্রতি বছর এ প্রতিবেদন রাষ্টপতির কাছে দাখিল করা হয়।
প্রতিবেদনটি হস্তান্তর শেষে বঙ্গভবনের বহিরাঙ্গনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করতে বলেছেন। তিনি শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য করণীয় সবকিছু করতে পরামর্শ দিয়েছেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও দুর্নীতি নির্মূলে কমিশনকে পরমর্শ দিয়ে বলেছেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পেতে হলে স্বাস্থ্য এবং মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত কর্মীদের যদি কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের খবর আসে তাও যেন কমিশনের নজরে থাকে সে বিষয়েও রাষ্ট্রপতি পরামর্শ প্রদান করেছেন।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যে বা যারা সরকারি সম্পত্তি যেমন রেলের জায়গা, সড়ক বিভাগের জায়গা, গণপূর্ত কিংবা খাস জমি, বন বিভাগের জমি, চান্দিনা ভিটা, ইত্যাদি জমি/সম্পদ অবৈধভাবে দখল করে বিলাসবহুল রিসোর্ট বানিয়েছেন কিংবা অন্য কোনোভাবে দখল করে রেখেছেন তাদের কমিশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাই এসব সম্পত্তি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থায় ফিরিয়ে দিন, জনগণের সম্পদ জনগণকে ফিরিয়ে দিতেই হবে, নইলে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট। ব্যাংক তার নিজস্ব বিধি-বিধান অনুসারে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করবে তাতে কমিশন কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। ব্যাংকিং নিয়ম-কানুন মেনে ব্যবসায়ীরা ঋণ নেবেন এবং ব্যাংকাররা ঋণ দেবেন এতে দুদক কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। তবে পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি এবং প্রতারণা করে ব্যাংকের অর্থ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে। আমাদের বক্তব্য, যারা ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে ঋণ নিয়েছেন বা ঋণ দিয়েছেন তারা জনগণের এ অর্থ সমন্বয় করুন নইলে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

দুদক সরকারের তল্পিবাহক এমন এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অসম্ভব। দুদক কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। যে কারণে দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের কাছে দাখিল না করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে বঙ্গভবনে এসে দাখিল করছি। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে দুদকের সরকার বা অন্য কোনো সংস্থার তল্পিবাহক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

দুদক শুধু চুনোপুটিদের ধরে এমন এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করেন। তারাই এ কথিত চুনোপুটির দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারে শিকার। কারণ তৃণমূল পর্যায়ে এসব চুনোপুটিরাই সরকারি সেবা প্রদান করে থাকেন। তাই গ্রামের এ সাধারণ মানুষকে যে বা যারা দুর্নীতি অনিয়মের শিকার বানাবেন তাদের ন্যূনতম ছাড় দেয়া হবে না। এসব চুনোপুটিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া আরও দৃঢ় করা হবে।

দুদকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়।


প্রিন্ট