ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শোকে স্তব্ধ নরওয়ে, অষ্টম হাকনের নেতৃত্বে নতুন যুগের সূচনা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাষ্ট্রের কল্যাণে দলনিরপেক্ষভাবেই কাজ করব: রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের বৈঠক অবকাঠামো-নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই: এলজিআরডি মন্ত্রী অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তির উৎস নজরুল: রিজভী প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি: জামায়াত আমির

সিম কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি

অর্থনেতিক প্রতিবেদক : মোবাইল সিম প্রতি প্রযোজ্য ২০০ টাকা কর তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে অ্যামটব সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে এমন দাবিসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে কর ছাড় চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছে।

অ্যামটব বলছে, বর্তমানে সিম প্রতি ২০০ টাকা হারে কর দিতে হয়। এটা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হোক। অ্যামটব মনে করে, নিম্ন আয়ের মানুষদের মোবাইল সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা এই সিমকর। গ্রাহক সেবা দিতে অপারেটররা বর্তমানে এ অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেয়।

প্রস্তাবের মধ্যে আরো রয়েছে, করপোরেট কর কমানো, ন্যূনতম কর প্রত্যাহার, বিটিআরসিসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ছাড় ও দ্বৈত কর তুলে নেওয়া।

অ্যামটবের প্রস্তাবে জানানো হয়, দেশে মোবাইল শিল্পের জন্য বর্তমান করপোরেট কর ৪৫ শতাংশ। ভারতে যা ২২, পাকিস্তান ও নেপালে ৩০, শ্রীলঙ্কায় ২৮ এবং আফগানিস্তানে ২০ শতাংশ। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এই কর যৌক্তিক হারে ৩০ শতাংশ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

ন্যূনতম লেনদেন কর বা টার্নওভার করের বিধান বিষয়ে সংগঠনটি বলছে, মোবাইল অপারেটরগুলোকে ২ শতাংশ হারে কর দিতে হয়, লাভ-লোকসান যাই হোক না কেন। লোকসান হলে এই কর শেয়ারধারীদের মূলধন থেকে দিতে হয়। শিল্প টিকিয়ে রাখতে ন্যূনতম লেনদেন কর তুলে নেওয়া দরকার।

২০১২ সালের নতুন ভ্যাট ও এসডি (সম্পূরক শুল্ক) আইনে সরকারি ও নিয়ন্ত্রণক সংস্থাগুলোর জন্য ভ্যাট ছাড় সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। সংস্থাগুলো ভ্যাট নীতি অনুসরণ করছে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিবন্ধন ছাড়াই ভ্যাট দাবি বা সংগ্রহ করছে, আবার কোনো ভ্যাট চালান দিচ্ছে না। এটা ভ্যাট আইনের নীতি বিরুদ্ধ বলে মনে করে অ্যামটব।

অ্যামটব আরও জানায়, দেশের মোবাইল অপারেটরেরা তাদের মোট আয়ের সাড়ে ৫ শতাংশ রাজস্বের অংশ হিসাবে এবং ১ শতাংশ সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে (এসওএফ) বিটিআরসিকে (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) দেয়। বিটিআরসিকে দেওয়া একই রাজস্বের জন্য যখন আবার ভ্যাট প্রদান করা হয় তখন তা দ্বৈত কর হয়ে যায়। দ্বৈত কর পরিহার হওয়া উচিত

প্রস্তাবে অ্যামটব সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পুরো দেশ এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে, মোবাইল শিল্প খাতও এর বাইরে নয়। এই পরিস্থিতিতে মোবাইল শিল্প সব ধরনের যোগাযোগ, ব্যবসা, বিনোদন ইত্যাদির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে। আমরা অন্যান্য সময়ের মতো এই কঠিন সময়েও যথাযথভাবে সেবা দান করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এই খাতটি ইতিমধ্যেই করসহ নানা ধরনের সমস্যায় ভূগছে, তাই এখনই এসব দূর করে এই খাতকে উৎসাহিত করা উচিত। যাতে ভবিষ্যতে আমরা জাতিকে আরও বেশি সেবা দিতে পারি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শোকে স্তব্ধ নরওয়ে, অষ্টম হাকনের নেতৃত্বে নতুন যুগের সূচনা

সিম কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি

আপডেট টাইম : ০৯:৪৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২০

অর্থনেতিক প্রতিবেদক : মোবাইল সিম প্রতি প্রযোজ্য ২০০ টাকা কর তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে অ্যামটব সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে এমন দাবিসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে কর ছাড় চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছে।

অ্যামটব বলছে, বর্তমানে সিম প্রতি ২০০ টাকা হারে কর দিতে হয়। এটা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হোক। অ্যামটব মনে করে, নিম্ন আয়ের মানুষদের মোবাইল সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা এই সিমকর। গ্রাহক সেবা দিতে অপারেটররা বর্তমানে এ অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেয়।

প্রস্তাবের মধ্যে আরো রয়েছে, করপোরেট কর কমানো, ন্যূনতম কর প্রত্যাহার, বিটিআরসিসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ছাড় ও দ্বৈত কর তুলে নেওয়া।

অ্যামটবের প্রস্তাবে জানানো হয়, দেশে মোবাইল শিল্পের জন্য বর্তমান করপোরেট কর ৪৫ শতাংশ। ভারতে যা ২২, পাকিস্তান ও নেপালে ৩০, শ্রীলঙ্কায় ২৮ এবং আফগানিস্তানে ২০ শতাংশ। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এই কর যৌক্তিক হারে ৩০ শতাংশ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

ন্যূনতম লেনদেন কর বা টার্নওভার করের বিধান বিষয়ে সংগঠনটি বলছে, মোবাইল অপারেটরগুলোকে ২ শতাংশ হারে কর দিতে হয়, লাভ-লোকসান যাই হোক না কেন। লোকসান হলে এই কর শেয়ারধারীদের মূলধন থেকে দিতে হয়। শিল্প টিকিয়ে রাখতে ন্যূনতম লেনদেন কর তুলে নেওয়া দরকার।

২০১২ সালের নতুন ভ্যাট ও এসডি (সম্পূরক শুল্ক) আইনে সরকারি ও নিয়ন্ত্রণক সংস্থাগুলোর জন্য ভ্যাট ছাড় সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। সংস্থাগুলো ভ্যাট নীতি অনুসরণ করছে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিবন্ধন ছাড়াই ভ্যাট দাবি বা সংগ্রহ করছে, আবার কোনো ভ্যাট চালান দিচ্ছে না। এটা ভ্যাট আইনের নীতি বিরুদ্ধ বলে মনে করে অ্যামটব।

অ্যামটব আরও জানায়, দেশের মোবাইল অপারেটরেরা তাদের মোট আয়ের সাড়ে ৫ শতাংশ রাজস্বের অংশ হিসাবে এবং ১ শতাংশ সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে (এসওএফ) বিটিআরসিকে (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) দেয়। বিটিআরসিকে দেওয়া একই রাজস্বের জন্য যখন আবার ভ্যাট প্রদান করা হয় তখন তা দ্বৈত কর হয়ে যায়। দ্বৈত কর পরিহার হওয়া উচিত

প্রস্তাবে অ্যামটব সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পুরো দেশ এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে, মোবাইল শিল্প খাতও এর বাইরে নয়। এই পরিস্থিতিতে মোবাইল শিল্প সব ধরনের যোগাযোগ, ব্যবসা, বিনোদন ইত্যাদির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে। আমরা অন্যান্য সময়ের মতো এই কঠিন সময়েও যথাযথভাবে সেবা দান করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এই খাতটি ইতিমধ্যেই করসহ নানা ধরনের সমস্যায় ভূগছে, তাই এখনই এসব দূর করে এই খাতকে উৎসাহিত করা উচিত। যাতে ভবিষ্যতে আমরা জাতিকে আরও বেশি সেবা দিতে পারি।


প্রিন্ট