ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা, দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার : ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু কালিয়াকৈরে মা/দক ও অস্ত্র সহ গ্রে/ফতার -৬ কুড়িগ্রামে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নেই অনুমোদন,সুনামগঞ্জের মঙ্গলকাটায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স মিল চালাচ্ছেন মিল মালিক আব্দুস সামাল দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীর মামলা: বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা নরসিংদী জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে ৫২ কেজি পিরানহা মাছ জ/ব্দ সহ ২ হাজার টাকা জরিমানা যে কারণে ‘ট্রাইব্যুনাল’ থেকে সরে দাঁড়ালেন নুসরাত ফারিয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অলিগলিতে ‘বাংলা’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় সাইনবোর্ড লেখার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাঙালি নিজের ভাষার প্রতি আবেগ থেকেই দূর প্রবাসেও ছড়িয়ে দিয়েছে বাংলা ভাষা। আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বদেশিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লেনদেনে আগ্রহী করে তুলতে নিজ প্রতিষ্ঠানের সদর দরজা, কাচ কিংবা দেয়ালে প্রতিষ্ঠানের নাম লিখেছেন বাংলায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের যেখানেই বাংলাদেশি কমিউনিটি, সেখানেই বাংলার জয় জয়কার। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে আরো রঙিন হয়ে ধরা দিচ্ছে প্রবাসের এসব আয়োজন।

বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারি এলেই পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয় সেসব ভাষা শহিদ, ভাষা-সংগ্রামীদের, যাদের বুকের তাজা রক্তে ৫২’তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার পিচঢালা রাজপথ। ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ এ আন্দোলন শুধু ভাষার জন্য ছিল না, ছিল বাঙালির অস্তিত্বের আন্দোলন। দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বে বাংলা ভাষা ও বাংলা বর্ণমালা ছড়িয়ে দিচ্ছেন বাঙালি প্রবাসীরা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অলিগলিতে শোভা পাচ্ছে বাংলা ভাষার ব্যবহার। ছোট-বড় সুপারশপ, টাইপিং সেন্টার, হোটেল-রেস্তরাঁ, সেলুন, মাংসের দোকান, ফলমূল-সবজির দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি অফিসে বাংলায় লেখা রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও সুযোগ-সুবিধার বিবরণ। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এই এলাকায় আরবি ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বেড়েছে বাংলার ব্যবহার। অলিগলিতে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও বাংলা লেখার কারণে বাড়ছে স্বদেশিদের আনাগোনা।

আমিরাত-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক ইশতিয়াক আসিফ বলেন, দেশের বাইরে থাকি অনেকদিন ধরেই। এই দেশে থাকলেও যখন চলাফেরার পথে বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বাইরে ভেতরে বাংলা লেখা দেখি, তখন কেমন যেন একটা ভালোলাগা কাজ করে। মজার বিষয়, বাংলাদেশি এসব প্রতিষ্ঠানে ভালো ব্যবসাও হয়। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট বা মুদি দোকানগুলোই দেখুন। আবার এমন কিছু জায়গা আছে যেগুলো বাংলাদেশিদের দেওয়া নামকরণেই পরিচিত। যেমন শারজার রোলা বাংলা বাজার, দুবাইয়ের সোনাপুর ইত্যাদি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফোরকান জানান, সরকারি হিসেবে ১০ লাখের অধিক বাংলাদেশি বর্তমানে আমিরাতে বসবাস করছেন। আমিরাতের বিভিন্ন জায়গায় বাংলা বর্ণমালা দেখলে প্রবাসীরা নিজ দেশ-ভাষাকে নতুন করে খুঁজে পান। দোকান আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলার ব্যবহারে লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। দেশীয় ক্রেতাদের যেমন আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি দেশীয় প্রতিষ্ঠানে বাড়ে বিকিকিনি। বাংলা ভাষার এই চর্চায় বহির্বিশ্বে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অলিগলিতে ‘বাংলা’

আপডেট টাইম : ০৭:৫৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় সাইনবোর্ড লেখার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাঙালি নিজের ভাষার প্রতি আবেগ থেকেই দূর প্রবাসেও ছড়িয়ে দিয়েছে বাংলা ভাষা। আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বদেশিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লেনদেনে আগ্রহী করে তুলতে নিজ প্রতিষ্ঠানের সদর দরজা, কাচ কিংবা দেয়ালে প্রতিষ্ঠানের নাম লিখেছেন বাংলায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের যেখানেই বাংলাদেশি কমিউনিটি, সেখানেই বাংলার জয় জয়কার। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে আরো রঙিন হয়ে ধরা দিচ্ছে প্রবাসের এসব আয়োজন।

বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারি এলেই পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয় সেসব ভাষা শহিদ, ভাষা-সংগ্রামীদের, যাদের বুকের তাজা রক্তে ৫২’তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার পিচঢালা রাজপথ। ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ এ আন্দোলন শুধু ভাষার জন্য ছিল না, ছিল বাঙালির অস্তিত্বের আন্দোলন। দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বে বাংলা ভাষা ও বাংলা বর্ণমালা ছড়িয়ে দিচ্ছেন বাঙালি প্রবাসীরা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অলিগলিতে শোভা পাচ্ছে বাংলা ভাষার ব্যবহার। ছোট-বড় সুপারশপ, টাইপিং সেন্টার, হোটেল-রেস্তরাঁ, সেলুন, মাংসের দোকান, ফলমূল-সবজির দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি অফিসে বাংলায় লেখা রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও সুযোগ-সুবিধার বিবরণ। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এই এলাকায় আরবি ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বেড়েছে বাংলার ব্যবহার। অলিগলিতে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও বাংলা লেখার কারণে বাড়ছে স্বদেশিদের আনাগোনা।

আমিরাত-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক ইশতিয়াক আসিফ বলেন, দেশের বাইরে থাকি অনেকদিন ধরেই। এই দেশে থাকলেও যখন চলাফেরার পথে বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বাইরে ভেতরে বাংলা লেখা দেখি, তখন কেমন যেন একটা ভালোলাগা কাজ করে। মজার বিষয়, বাংলাদেশি এসব প্রতিষ্ঠানে ভালো ব্যবসাও হয়। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট বা মুদি দোকানগুলোই দেখুন। আবার এমন কিছু জায়গা আছে যেগুলো বাংলাদেশিদের দেওয়া নামকরণেই পরিচিত। যেমন শারজার রোলা বাংলা বাজার, দুবাইয়ের সোনাপুর ইত্যাদি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফোরকান জানান, সরকারি হিসেবে ১০ লাখের অধিক বাংলাদেশি বর্তমানে আমিরাতে বসবাস করছেন। আমিরাতের বিভিন্ন জায়গায় বাংলা বর্ণমালা দেখলে প্রবাসীরা নিজ দেশ-ভাষাকে নতুন করে খুঁজে পান। দোকান আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলার ব্যবহারে লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। দেশীয় ক্রেতাদের যেমন আগ্রহ বাড়ছে, তেমনি দেশীয় প্রতিষ্ঠানে বাড়ে বিকিকিনি। বাংলা ভাষার এই চর্চায় বহির্বিশ্বে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।


প্রিন্ট