ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

অর্ধেক ফুসফুসের ব্রডই ‘কিংবদন্তি’

বাবা ক্রিস ব্রড ছিলেন পুরোদস্তর ব্যাটার। কিন্তু ছেলে হবেন পেসার। সেটি যেন কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না বাবা ক্রিস। কিন্তু অবশেষে ছেলের জেদের কাছে হেরে গিয়েছিলেন ব্রডের বাবা।

২০০৬ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ান স্টুয়ার্ট ব্রড। পরের বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হয় টি-২০ বিশ্বকাপের আসর। যেখানে ভারতের যুবরাজ সিংয়ের কাছে এক ওভারেই ছয় ছক্কা হজম করেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন ধাক্কা সামলে ওঠা যে কারো জন্যই কঠিন। তবে ব্রড যেন সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়েছিলেন।

মজার ব্যাপার হলো- অর্ধেক ফুসফুস নিয়ে জন্ম নিয়েছিলেন ব্রড। ফলে অ্যাজমা-ইনহেলারের সঙ্গে নিয়মিত সখ্যতা ছিল তার। এ যেন ক্রিকেটের বাইরে অন্য আরেক দুনিয়া ছিল তার জন্য। আর এই গল্পটিই একজন জীবন যুদ্ধে জেতা ২২ গজের অদম্য সৈনিকের। যে গল্প ছবির চেয়েও সুন্দর শহর নটিংহ্যামশায়ারের স্টুয়ার্ট ক্রিস্টোফার জন ব্রডের।

অবশ্য শারীরিক দুর্বলতাকে তোয়াক্কা না করে স্টুয়ার্ট ব্রড ভেঙেছেন একটার পর একটা রেকর্ড। যার সবশেষ উদাহরণ টেস্টে ৬০০ ও অ্যাশেজে ১৫০-এর অধিক উইকেট শিকারি বোলারের তালিকায় প্রবেশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের শেষ বলে ব্যাট হাতে ছক্কা এবং উইকেট নিয়ে বিদায় বেলা রাঙিয়েছেন এ কিংবদন্তি পেসার।

ট্রেন্টব্রিজে ২০১৫ অ্যাশেজে ১৫ রানে ৮ উইকেট, ব্রডের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রেডমার্ক। গোটা ক্যারিয়ারে করেছেন ১ হাজার ৩০০ এর বেশি মেইডেন ওভার। লর্ডসের সর্বোচ্চ ১১৩ উইকেট, টেস্টে ওয়ার্নারকে ১৭ বার আউট, পেসারদের মধ্যে টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট, ক্যারিয়ারে ১০ বার ম্যান অব দ্য ম্যাচ। কতসব অর্জন। ব্যাট হাতেও আছে শতক। আছে ১৩টি ফিফটি। প্রাপ্তির ঝুলিতে ভরেছেন ‘কিংবদন্তি’ তকমা।

তবুও বিদায় নিয়ে অদ্ভূতুরে আচরণ নয়, নয় আকড়ে পড়ে থাকা। ব্রড জানেন কখন থামতে হয়, কখন বলতে হয় গুডবাই। তাইতো ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থাকার পরেও, নতুনদের জায়গা করে দিতে তার আচমকা অবসর। আপনাকে বিদায় নয়, সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ ব্রড


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রেকআপের ঠিক পরেই যে ৫টি কাজ কখনোই করা উচিত নয়

অর্ধেক ফুসফুসের ব্রডই ‘কিংবদন্তি’

আপডেট টাইম : ১২:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩

বাবা ক্রিস ব্রড ছিলেন পুরোদস্তর ব্যাটার। কিন্তু ছেলে হবেন পেসার। সেটি যেন কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না বাবা ক্রিস। কিন্তু অবশেষে ছেলের জেদের কাছে হেরে গিয়েছিলেন ব্রডের বাবা।

২০০৬ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ান স্টুয়ার্ট ব্রড। পরের বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হয় টি-২০ বিশ্বকাপের আসর। যেখানে ভারতের যুবরাজ সিংয়ের কাছে এক ওভারেই ছয় ছক্কা হজম করেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন ধাক্কা সামলে ওঠা যে কারো জন্যই কঠিন। তবে ব্রড যেন সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়েছিলেন।

মজার ব্যাপার হলো- অর্ধেক ফুসফুস নিয়ে জন্ম নিয়েছিলেন ব্রড। ফলে অ্যাজমা-ইনহেলারের সঙ্গে নিয়মিত সখ্যতা ছিল তার। এ যেন ক্রিকেটের বাইরে অন্য আরেক দুনিয়া ছিল তার জন্য। আর এই গল্পটিই একজন জীবন যুদ্ধে জেতা ২২ গজের অদম্য সৈনিকের। যে গল্প ছবির চেয়েও সুন্দর শহর নটিংহ্যামশায়ারের স্টুয়ার্ট ক্রিস্টোফার জন ব্রডের।

অবশ্য শারীরিক দুর্বলতাকে তোয়াক্কা না করে স্টুয়ার্ট ব্রড ভেঙেছেন একটার পর একটা রেকর্ড। যার সবশেষ উদাহরণ টেস্টে ৬০০ ও অ্যাশেজে ১৫০-এর অধিক উইকেট শিকারি বোলারের তালিকায় প্রবেশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের শেষ বলে ব্যাট হাতে ছক্কা এবং উইকেট নিয়ে বিদায় বেলা রাঙিয়েছেন এ কিংবদন্তি পেসার।

ট্রেন্টব্রিজে ২০১৫ অ্যাশেজে ১৫ রানে ৮ উইকেট, ব্রডের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রেডমার্ক। গোটা ক্যারিয়ারে করেছেন ১ হাজার ৩০০ এর বেশি মেইডেন ওভার। লর্ডসের সর্বোচ্চ ১১৩ উইকেট, টেস্টে ওয়ার্নারকে ১৭ বার আউট, পেসারদের মধ্যে টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট, ক্যারিয়ারে ১০ বার ম্যান অব দ্য ম্যাচ। কতসব অর্জন। ব্যাট হাতেও আছে শতক। আছে ১৩টি ফিফটি। প্রাপ্তির ঝুলিতে ভরেছেন ‘কিংবদন্তি’ তকমা।

তবুও বিদায় নিয়ে অদ্ভূতুরে আচরণ নয়, নয় আকড়ে পড়ে থাকা। ব্রড জানেন কখন থামতে হয়, কখন বলতে হয় গুডবাই। তাইতো ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থাকার পরেও, নতুনদের জায়গা করে দিতে তার আচমকা অবসর। আপনাকে বিদায় নয়, সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ ব্রড


প্রিন্ট