শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
পুশইন বন্ধে কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় সা.সু.প কেটে ফেলা উপড়ে যাওয়া গাছ অলৌকিকভাবে সোজা,শত শত মানুষের ভিড়, চলছে মানত ধামইরহাটে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান ও কল্যান তহবিলের ঈদ উপহার বঞ্চিত ভিক্ষুক ও দুস্থদের -মানববন্ধন, ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি প্রদান বিশ্বম্ভরপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন সুনামগঞ্জে জলবায়ূ মোকাবেলায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন শাহজাল বিমানবন্দরে আবারও আগুন, গাফিলতি পেলে কঠোর অ্যাকশন : প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সমর্থন চাইলেন মাহাবুবুর রহমান মহুবর কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল লালমনিরহাটের বাবা-ছেলের মোহাম্মদপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

রংপুরে ফুটপাতের দোকানে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১৭ বার পঠিত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রংপুর মহানগরীতেও জমে উঠেছে কেনাকাটা। নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সাধারণ দোকান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেশি ভিড় করছেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর ব্যস্ততম বিভিন্ন মোড়ের ফুটপাতের দোকানগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ঈদের পোশাক ও জিনিসপত্র প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে অভিজাত শপিং মল, সুপারমার্কেট, শপিং সেন্টার এবং রঙিন আলো দিয়ে সজ্জিত ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতেও ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে।

এছাড়া, অনেক হকার অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ দোকান স্থাপন করেছেন এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও অন্যান্য ঈদ সামগ্রীর স্টল সাজিয়েছেন।

অনেক ভাসমান ফেরিওয়ালা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তাদের ভ্রাম্যমাণ রিকশা-ভ্যানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক বিক্রি করছেন। নিম্নবিত্তদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও এই ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন।

রংপুর গ্র্যান্ড হোটেল মোড় থেকে টাউন হল প্রাঙ্গণ পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে ফেরিওয়ালারা পোশাক, স্যান্ডেল, জুতা, প্যান্ট-শার্ট, থ্রি-পিস, শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক, টুপি এবং সুগন্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাকের স্টল সাজিয়েছেন।

শুধু ওই রাস্তায় নয়, শহরের বিভিন্ন স্থানে- শাপলা স্কয়ার, গ্র্যান্ড হোটেল, সুপারমার্কেট, মেডিকেল মোড়, হাড়িপট্টি রোড, বদরগঞ্জ রোড, সিও বাজার এবং স্টেশন রোডসহ- ফুটপাতভিত্তিক দোকানগুলোতে ঈদের জিনিসপত্রের জমজমাট বিক্রি হচ্ছে। এই ফুটপাত ও অস্থায়ী দোকানগুলোর বেশিরভাগ ক্রেতা নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী শ্রেণির মানুষ।

তবে মধ্যবিত্তরাও তাদের ঈদের কেনাকাটার জন্য আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন।

আজ দুপুরে বাসসের সাথে আলাপকালে পায়রা চত্বরের সামনে ফুটপাতে রিকশা-ভ্যানে কাপড় বিক্রি করা আব্দুল আউয়াল বলেন, তিনি ফুটপাতে ভালো মানের কাপড় বিক্রি করছেন। যদিও কাপড়ের মান নিয়ে অনেকেই ভিন্ন চিন্তা করেন, তাদের ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন প্রচুর বিক্রি করছি, ভালো ব্যবসা হচ্ছে। আমরা যুক্তিসঙ্গত লাভ নিয়ে কাপড় বিক্রি করি। সেজন্য আমাদের ক্রেতারা কেবল নিম্নবিত্তরা নন, অনেক মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও পোশাক কিনতে আসেন।’

নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ের উত্তরে ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করা যুবক মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ঈদুল ফিতরের আরো দুই সপ্তাহ বাকি থাকলেও কয়েকদিন ধরে বিক্রি ভালো হচ্ছে।

মাসুদ বলেন, আমার মতো অনেক মৌসুমি ফেরিওয়ালা প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের আগে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে তাদের পণ্য বিক্রি করেন। তাই, ফুটপাতেও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এতে দাম কম এবং সকল শ্রেণির মানুষের জন্য সাশ্রয়ী।

ফুটপাতের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ব্যবসা পরিচালনার খরচ উন্নত শপিং মল ও বাজারের তুলনায় অনেক কম। আমাদের কোনো ভাড়া বা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না। আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের পণ্য বিক্রি করতে পারি, গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে পারি।

সুপার মার্কেট মোড়ে ক্রেতা মামুনুর রশীদ ও এনজিও কর্মী লোকমান হোসেন বলেন, তাদের মতো অনেক মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ ফুটপাত বা সাধারণ বাজার সংলগ্ন দোকান থেকে কেনাকাটা করেন।

মামুনুর রশীদ বলেন, প্রতি বছরের মতো আমি আমার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং কয়েকজন আত্মীয়ের জন্য কিছু পোশাক কিনতে এসেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি, তবে ফুটপাতের দোকানগুলোতে কেনাকাটা এখনও নাগালের মধ্যে রয়েছে।

ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানান, মূলত দুপুরের পরে ব্যবসা শুরু হয় এবং সন্ধ্যার পরে বিক্রি বৃদ্ধি পায়।

দিনমজুর নুরুন নবী ও ফরহাদ হোসেন বলেন, তারা দরিদ্র মানুষ। তারা বড় ও অভিজাত বাজার বা শপিংমলে কেনাকাটা করতে যেতে পারে না। ফুটপাতের দোকানগুলোতে আকর্ষণীয় পণ্য কম দামে পাওয়া যায়,  তবে তাও তাদের নাগালের বাইরে।

রংপুর নগরীর কেরানীপাড়া এলাকার গৃহিণী মুন্নি বেগম বলেন, আপনি যদি ১৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে কিছু কিনতে চান, তাহলে অবশ্যই ফুটপাত বা ফুটপাতের দোকানগুলোতে তা পাবেন।

তিনি বলেন, অভিজাত শপিং মল ও বাজারে সাধারণত দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকার কম দামে পোশাক পাওয়া যায় না। সেই কারণেই আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের পছন্দ এই ফুটপাত এবং সাধারণ বাজারগুলো।

নগরীর নুরপুর এলাকার গৃহিণী নূর জাহান বলেন, আপনি যখন ফুটপাতের দোকানগুলোতে যান, তখন দেখতে পাবেন শিশুদের পোশাক ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা বা তার একটু বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে। তরুণরা ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায় সব ধরণের পোশাক কিনতে পারছে।

রংপুর চেম্বারের সভাপতি মো. এমদাদুল হোসেন এমদাদ বলেন, এবার রংপুর মহানগর ও অঞ্চলজুড়ে হকাররা ভালো ব্যবসা করছেন।

তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ নগরীর ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে তাদের নাগালের মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে ঈদের জিনিসপত্র কিনছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com