মাধবপুর প্রতিনিধি :ফোরকান উদ্দিন রোমান :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ২নং চৌমুহনী ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে এক ব্যতিক্রমধর্মী উন্নয়নমূলক আয়োজনের মধ্য দিয়ে খালকাটা কর্মসূচি ও একটি মিনি বিনোদন পার্কের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফরিদ খানের নির্দেশক্রমে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বেলাল। তিনি বাঘদাছড়া খালের খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই খালটি পুনরায় খননের ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন,
“আমাদের গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ দিতে হবে। এই খালটি একসময় এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ভরাট হয়ে পড়ে, ফলে কৃষি ও পরিবেশ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমি মনে করি, খাল খননের মাধ্যমে আমরা শুধু পানি প্রবাহই ফিরিয়ে আনছি না, বরং গ্রামের প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার পিতার স্মৃতিকে ধারণ করে এই মিনি বিনোদন পার্কটি নির্মাণ করেছি, যাতে আমাদের এলাকার শিশু-কিশোররা সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে সময় কাটাতে পারে। বর্তমান প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। আমি চাই, এই পার্কটি শুধু বিনোদনের স্থান নয়, বরং একটি সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হোক।”
খাল খনন কার্যক্রমের পাশাপাশি একই স্থানে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বেলাল তার পিতার নামে একটি মিনি বিনোদন পার্কেরও উদ্বোধন করেন। পার্কটিতে শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা, বসার স্থান এবং পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দারা খাল খনন ও বিনোদন পার্ক স্থাপনের জন্য সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বেলালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা আশা করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে মাধবপুর উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।