আসিক হাসান স্টাফ রিপোর্ট যশোর :
০৩ এপ্রিল ২০২৬
শার্শায় জমি দখলের নামে মা-মেয়েকে নির্মম নির্যাতন: মাজার হাড় ভেঙে ৬ দিন পর থানায় অভিযোগ
যশোরের শার্শায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক মা ও তাঁর মেয়েকে পিটিয়ে মাজারের হাড় ভেঙে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী রবিউল ইসলাম ওরফে ‘রবি গুন্ডা’ সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জনাব মফিকুল হাসানের নাম ভাঙিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এই পরিবারটির ওপর জুলুম ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে।

মা ও তাঁর মেয়েকে পিটিয়ে মাজার (কোমর) হাড় ভেঙে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। ২০ লাখ টাকা চাঁদা অথবা সমপরিমাণ জমি লিখে না দেওয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এই নির্মম হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার ৬ দিন পর গত বুধবার ভুক্তভোগী মিতু বেগম ৬ জনকে অভিযুক্ত করে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার মূল কারণ: মিথ্যে ঋণের দাবি ও চাঁদাবাজি
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, ভুক্তভোগী মিতু বেগমের চাচা আব্দুল খালেক দাবি করেন যে, মিতুর বাবা আলী আহমেদ ২৫ বছর আগে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। অথচ মিতুর বাবা মারা গেছেন ৩০ বছর আগে। এই কাল্পনিক ঋণের অজুহাতে চাচার জামাতা, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী রবিউল ইসলাম ওরফে ‘রবি গুন্ডা’ মিতু বেগমদের ওপর ২০ লাখ টাকা চাঁদা অথবা সমপরিমাণ জমি লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিল।
নির্মম হামলার বিবরণ
গত ২৬ মার্চ দাবি করা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় রবিউল ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মিতু বেগম ও তাঁর মা আনোয়ার বেগমের (৫৬) ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মিতু বেগমের মাজারের হাড় ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, পরে নাভারন হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলে সেখানেও মিতুর ভাই জাহিদুল ইসলাম (৩২) ও ভাগ্নে মনির হোসেনকে (২৮) বেধড়ক মারধর করে একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। এই ছিনতাই হওয়া আলামত শার্শা থানার এসআই এবারাত জব্দ করেছেন।
চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা
আহত মিতু বেগমকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (বুরুজ বাগান) থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তাঁর মা আনোয়ার বেগম বর্তমানে শার্শা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।
হুমকি ও আতঙ্কে পরিবার
থানায় অভিযোগ করায় সন্ত্রাসী রবিউল এখন ভুক্তভোগী পরিবারটিকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রাণের ভয়ে মিতু ও তাঁর ভাই নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। স্থানীয় যুবদল নেতা আল মামুন বাবুল জানান, রবিউল কারো কথা শোনে না এবং গ্রামের সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিজের পক্ষে সাক্ষী দিতে বাধ্য করছে।
অভিযুক্তদের তালিকা
১. রবিউল ইসলাম (৪৮) (পিতা: দালমিয়া) – মূল অভিযুক্ত ও সন্ত্রাসী।
২. আছিয়া বেগম (৩০) (রবিউলের স্ত্রী)
৩. আব্দুল খালেক (৫৫) (মিতুর চাচা)
৪. জাহানারা জানু (৪৫) (আব্দুল খালেকের স্ত্রী)
৫. নার্গিস (৩৪) (আব্দুল খালেকের মেয়ে)
৬. হবিবার রহমান (৪৮) (পিতা: রহিম বক্স)
সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন।
পুলিশের বক্তব্য
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, মিতু বেগম বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।