সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বিভিন্ন ধাপে ইঞ্জিনিয়ারিং, এনফোর্সমেন্ট, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা ভিত্তিক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি আজ সংসদে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সরকারি দলের সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
শেখ রবিউল আলম আরো জানান, বাংলাদেশের সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিতকরণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে জ্যামিতিক উন্নয়ন, রাস্তা সরলীকরণ করা, সাইন-সিগনাল, মার্কিং ইত্যাদি বসানো হচ্ছে। রোড ফার্নিচার উন্নয়ন-গার্ডরেল, ডেলিনিয়েটর, স্পিড ব্রেকার, সাইনবোর্ড ইত্যাদি বসানো এবং পথচারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা-বাজার/হাট এলাকায় ওভারপাস, ফুটওভার ব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং, সার্ভিস রোড নির্মাণ হচ্ছে।
তিনি জানান, ধীরগতির যানবাহনের জন্য সড়কের পাশে প্রশস্ত শোল্ডার বা আলাদা লেন রাখা হয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার-এর অংশ হিসেবে আইটিএস- ইন্টিলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, ভেহিক্যাল ডিটেকশন সিস্টেম (ভিডিএস), স্পিড এনফোর্সমেন্ট সিস্টেম যা বর্তমানে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সারা দেশের মহাসড়কে এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের জন্য বিশেষ ইউনিট- রোড ডিজাইন এন্ড সেফটি সার্কেল গঠন করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনা রোধে-কুমিল্লার নিমসার, সিরাজগঞ্জের পাঁচলিয়া, মাগুরার লক্ষ্মীকান্দর ও হবিগঞ্জের জগদীশপুরে দূরপাল্লার চালকদের জন্য চারটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বিশ্রামাগারে রয়েছে শয়নকক্ষ, গোসলখানা, পার্কিং, ক্যান্টিন, চিকিৎসাকক্ষ ও বিনোদনকেন্দ্রসহ আধুনিক সুবিধা।
এছাড়া, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর উদ্যোগে দেশের সড়ক/মহাসড়কে চলাচলরত গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিপিএস প্রযুক্তি চালু হলে গণপরিবহনের অবস্থান ও গতি সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ফলে সড়কে যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এছাড়া কোন গণপরিবহন সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম ও ট্রাফিক আইন অমান্য করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার রেকর্ড সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহনের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।