হাফসা আক্তার : মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
আজ সকালে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন বামনারটেক এলাকার অলি মাদবর বাড়ির বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তুরাগ মধ্য থানা জামায়াতের আমীর গাজী মনির হোসাইনের সভাপতিত্বে ও নায়েবে আমীর কামরুল হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুরুজ্জামান। আরও উপস্থিত ছিলেন ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী জয়নব বেগম, জামায়াত নেতা মাওলানা ওয়ারেস আলী মুরাদ, জুলফিকার আলী, মাঈন উদ্দিন, সাইদুর রহমান ও ওলিদ প্রমুখ।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ কেজি চাল, ১৫ কেজি অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, নতুন কাপড় ও লুঙ্গি প্রদান করা হয়।
সেলিম উদ্দিন বলেন, “আর্ত-মানবতার কল্যাণ ও মুক্তিই জামায়াতের রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে ইবাদত হিসেবে মনে করি। দেশ ও জাতির যেকোনো ক্রান্তিকালে জামায়াত নিজেদের সকল সামর্থ্য উজাড় করে দিয়ে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। বিপদ-আপদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব।”
তিনি তুরাগে অগ্নিদুর্গতদের দুর্দশা লাঘব ও পুনর্বাসনে সরকার, রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি দাতা সংস্থাসহ সমাজের বিত্তবান মানুষদের মুক্ত হস্তে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। তাই যেকোনো বিপদে ভেঙে পড়লে চলবে না, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সবর ও নামাজের মাধ্যমে আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। নাগরিকের যেকোনো আপদকালীন সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু তুরাগের অগ্নিকাণ্ডের পর সরকারের তেমন কোনো তৎপরতা নেই। সমাজে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও নাগরিকের সকল অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করতে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার কোনো বিকল্প নেই।”