সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: গরম পুরোপুরি না এলেও তাপমাত্রার দাপটে অনেক ঘরেই এখন নিয়মিত চলছে এসি। আর এই বাড়তি ব্যবহারের মাঝেই লুকিয়ে থাকে বড় ধরনের ঝুঁকি যদি সঠিকভাবে যত্ন না নেওয়া হয়। অবহেলা করলে এসি শুধু খারাপই হয় না, কখনো কখনো আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের মতো বিপজ্জনক ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই কিছু সতর্ক সংকেত আগে থেকেই চিনে রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি চালানোর সময় অস্বাভাবিক শব্দ বা পোড়া গন্ধ অনুভূত হলে তা যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈদ্যুতিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, যা সময়মতো নজর না দিলে বড় দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে। তাই কিছু সতর্ক সংকেত আগে থেকেই চিহ্নিত করা জরুরি-
১. এসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কম্প্রেসর। এটি স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সার্ভিসিং করানোই নিরাপদ।
২. আউটার ইউনিট কোথায় স্থাপন করা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরাসরি রোদের মধ্যে থাকলে ইউনিট দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে, এতে এসির কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। তাই ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা বা প্রয়োজন অনুযায়ী সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উত্তম।
৩. বিদ্যুতের ওঠানামাও এসির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। হঠাৎ ভোল্টেজ বেড়ে যাওয়া বা কমে গেলে যন্ত্রের ভেতরের সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে মানসম্মত ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করলে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
৪. গ্যাস লিকেজের বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। আউটার ইউনিটের পাইপে তেলতেলে বা আঠালো দাগ দেখা গেলে সেটি গ্যাস লিকের লক্ষণ হতে পারে। এতে এসির কুলিং ক্ষমতা কমে যায় এবং মেশিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া উচিত।
৫. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত পাওয়া যায় শব্দ ও গন্ধ থেকে। এসি চালানোর সময় যদি অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায় বা আগের তুলনায় ভিন্ন ধরনের শব্দ পাওয়া যায়, তবে সেটি ভেতরের যান্ত্রিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। একইভাবে পোড়া গন্ধ বা ধোঁয়ার মতো গন্ধ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে এসি বন্ধ করে দেওয়া জরুরি। এসব উপসর্গ উপেক্ষা করলে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সতর্ক ব্যবহারই এসিকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।