অনলাইন ডেক্স :
পূর্ব ইউরোপের দেশ রোমানিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া সহ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের তৈরি হয়েছিল সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। নতুন শ্রমবাজার খোজার অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে একনাগারে চেষ্টার পর এই দেশগুলোতে তৈরি হয়েছিল বংলাদেশিদের জন্য বড় সুযোগ। কিন্তু আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসে সরকারের এক সচিব একাই ধ্বংস করে দিয়েছিলেন এই সম্ভাবনা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশির কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সচিব হওয়া রুহুল আমিন বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও ছিলেন দোর্দন্ড প্রতাপশালী। তাই এতদিন পর তার কর্মকান্ডের বিষয়ে মূখ খুলতে শুরু করেছেন শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় অভিযোগ জমা পরেছে দুদকেও।
দুদকে দেয়া অভিযোগ অনুসারে, সাবেক প্রবাসী কল্যান সচিব রুহুল আমিন নিজের লোক দিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করতে গিয়ে রোমানিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোর নিয়োগ কর্তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করেন। জিটুজি পদ্ধতি চালু করে শ্রমবাজার কুক্ষিগত রাখার চেষ্টা করেন। পরে ব্যর্থ হয়ে তার অধন্তন এক নারী কর্মকর্তাকে দিয়ে তিনি তিনি রোমানিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়ার নিয়োগকর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেন নির্দিষ্ট এজেন্সীর সিন্ডিকেট তৈরির বিষয়ে। কিন্তু তাতে রাজি না হয়ে নিজেরাই ঢাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প বসিয়ে ভিসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকায় আসে রোমানিয়ার কনস্যুলার দল। কিন্তু সিন্ডিকেটের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত রাতের আধারে কাউকে কিছু না বলে বাংলাদেশ থেকে অস্থায়ী ভিসা ক্যাম্প গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয় রোমানিয়া।
জানা যায়, বলকান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে রোমানিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় মূলত ২০২০ সাল থেকে কয়েকজন করে অল্প অল্প করে কর্মী নেওয়া শুরু করে রোমানিয়া। দীর্ঘ আলোচনার পর ঢাকায় রোমানিয়ার ভিসা ইস্যুর সুযোগ তৈরি হয়েছিল । ২০২২ সালে তিন মাস অবস্থান করে সাড়ে ৫ হাজার ভিসা ইস্যু করে রোমানিয়ার কনস্যুলার দল। ২০২৩ সালে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাস অবস্থান করে ইস্যু করার কথা ছিল ১৫ হাজার ভিসা। সে হিসেবে তাদের সকল ব্যবস্থাও করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। প্রবাসী ভবনে সরকারের দেয়া জায়গায় শুরুও হয়েছিল কনস্যুলার ক্যাম্প। ইস্যু করা শুরু হয় ভিসা। কিন্তু কয়েকদিনের মাথায় হঠাৎ করেই ক্যাম্প গুটিয়ে চলে যায় রোমানিয়ার প্রতিনিধিরা।
রপ্তানি কারকদের অভিযোগ, সর্বশেষ মিশন শুরুর পরপরই ভিসার সাক্ষাতকার ও ইস্যুর জন্য কাছে তদবির ও কনস্যূলার কর্মকর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের একটি বিশেষ গং। এমনকি ভিসা প্রতি এক হাজার ডলার আদায় করতে গড়ে উঠেছিল । এই গংয়ের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ আছে বিএমইটির এক শাখা প্রধানের বিরুদ্ধে। তাদের মাধ্যমে ভিসার জন্য সাক্ষাতকার দেয়াদের বড় একটি অংশের ভিসা রিফিউজ হলে হুমকি ধামকি দেয়া হয়েছে রোমানিয়ার প্রতিনিধিদের। ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বিদেশি এসব প্রতিনিধিদের জন্য। তাদের উপর হামলা হতে পারে, এমন খবরও ছড়িয়ে দেয়া হয়। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। দুদকে দেয়া অভিযোগ অনুসারে, কোন যৌক্তিক কারন ছাড়াই তৎকালীন সচিব রুহুল আমিন ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নর্থ মেসিডোনিয়ার প্রায় ১২ হাজার ভিসা ভিসা রিফিউজ করে। এরমধ্যে ৯ হাজার ছিল স্ট্যাম্পিং করা ভিসা ছিল। একই বছর মার্চ মাসে ব্যাক্তিগত শত্রুতায় একটি রিক্রুটিং এজেন্সীর রোমানিয়ার ৫ হাজার বৈধ নিয়োগপত্র এবং অ্যাম্বাসি অ্যাপ্রুভ করা ৯ শ ফাইল রিসিভ করতে বাধা দেয় সচিব রুহুল আমিন। জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে বর্তমানে ওএসপি থাকা সচিব রুহুল আমিন সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।