বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন আইজিপিকে র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী দাবি না মানলে গভর্নরের পদত্যাগে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি রাষ্ট্রের ‘অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয়’ বিষয় প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন রাষ্ট্রপতি: জামায়াত উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেফতার সাংবাদিকদের সঙ্গে ইফতার ও উন্মুক্ত মতবিনিময়: উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যমকে পাশে চান এমপি ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন সেনাবাহিনীর মনোবল ভাঙতেই ৫৭ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়: মির্জা ফখরুল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা চূড়ান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৩৪১ টাকা হলেও গোদাগাড়ীতে ভিন্ন চিত্র;সিন্ডিকেটের কারসাজিতে জিম্মি সাধারণ ক্রেতা! বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পিলখানায় নিহত সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দাবি না মানলে গভর্নরের পদত্যাগে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত

 নিজস্ব প্রতিবেদক: তিন কর্মকর্তার শোকজ নোটিশ, বদলি প্রত্যাহার ও অন্যান্য দাবি না মানলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে কলম বিরতিতে যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩০তলা ভবনের নিচে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ব্যানারে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ এ ঘোষণা দেন।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, গভর্নর বিভিন্ন স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের তিনজনকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে; এর জবাব দেওয়ার আগেই বদলি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য ওনার কাছে গেলেও দেখা করেন না। তাই আমরা আমাদের শোকজ নোটিশ ও বদলি প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবি-দাওয়া আজকের মধ্যে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। যদি তা বাস্তবায়ন না করা হয় তাহলে আগামীকাল থেকে প্রতীকী কলম বিরতিতে যাবো। আর রোববার সর্বস্থরের কর্মকর্তাদের আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, আমরা চেয়েছি বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন কিন্তু পেয়েছি স্বৈরশাসন। এই স্বৈরশাসনে আমরা থাকতে চাই না। আমাদের কিছু ন্যায্য দাবি নিয়ে বারবার গভর্নরের কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু তিনি সেগুলো আমলে নেননি। বরং তিনি দমন নিপীড়নের আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে ভড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ওনার অনেক উপদেষ্টা ও পরামর্শক প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্থনীতির জন্য কোনো কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে দেখি না। উনি ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে মনোবল ভেঙে দিচ্ছেন। এছাড়া ব্যাংক খাত নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করে যাচ্ছেন তাতে ব্যাংকিং সেক্টরের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গভর্নরের ইচ্ছামতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলবে না। সবকিছু নিয়ে ওনাকে জবাবদিহি করতে হবে।

এ সময় তিনি শোকজ ও বদলি প্রত্যাহারের দাবি জানান। তা না হলে সবাইকে শোকজ ও বদলির দাবি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি হেড অব বিএফআইইউ মফিজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, বিগত সাত-আট মাস ধরে ন্যায্য দাবি উত্থাপন করেছি গভর্নরের কাছে। কিন্তু তিনি তা মানেননি। আজ তাই এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করতে হয়েছে। আমরা আশা করি উনি আমাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মেনে নেবেন। কোনো অন্যায্য দাবি জানানো হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলন করে গভর্নরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করা বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়।

শোকজের পর বদলি হওয়া তিন কর্মকর্তারা হলেন— নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ।

তাদের মধ্যে নওশাদ মোস্তফাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বরিশাল অফিস, মাসুম বিল্লাকে রংপুর এবং গোলাম মোস্তফা শ্রাবণকে বগুড়া অফিসে বদলি করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে তারা গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগসহ একাধিক ইস্যুতে প্রশ্ন তোলেন। এই ঘটনায় ওই তিন কর্মকর্তাকে এরইমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তাদের ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তরে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com