আগৈলঝাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাছের ঘেরের মালিককে মাদক ব্যবসার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করার সন্দেহে কর্মচারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী ঘের মালিক শেখর বসুর বিরুদ্ধে। জেল থেকে বের হয়ে কর্মচারী নারায়ন হালদারকে ঘরে আটকে রশি দিয়ে বেঁেধ, মারধর করে মাথার চুল কেটে দেয় এবং পানি চাইলে মুখে প্রস্রাব করে দেয়। এঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মচারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কোদালধোয়া গ্রামের মৃত.নরেন বসুর ছেলে শেখর বসু (৪৫)’র কদমবাড়ি গ্রামে একটি বড় মাছের ঘের রয়েছে। ওই ঘেরে একাধিক কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারী ঘের মালিক শেখর বসুকে মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি) গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করে। শেখর বসু ১২ দিন জেল খেটে ২২ ফেব্রুয়ারী জামিনে বের হয়ে নিজের ঘের পাড়ের ঘরে সকল কর্মচারীকে ২৪ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডেকে তার গ্রেফতারের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে সকল কর্মচারী ছেড়ে দেয়। এসময় বাকাল গ্রামের মৃত.হরলাল হালদারের ছেলে নারায়ন হালদারকে ঘের মালিক শেখর বসুকে গ্রেফতারের তথ্য দেওয়ার সন্দেহে ঘরে আটক করে রশি দিয়ে বেঁেধ মারধর করে মাথার চুল কেটে দেয়। এসময় নারায়ন হালদার অসুস্থ্য হয়ে পরলে পানি খেতে চাইলে ঘের মালিক শেখর বসু তার মুখে প্রস্রাব করে দেয়। নির্যাতনের ঘটনার পর শেখর বসু তার মাকে ভিডিও কলে দেখালে তার মা নারায়ন হালদারকে ছেড়ে দিতে বললে মোবাইল, টাকা, টচলাইট রেখে ছেড়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নারায়ন হালদারকে পরিবারের লোকজন আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী নারায়ন হালদার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত শেখর বসু সাংবাদিকদের জানান, নারায়ন হালদারকে নির্যাতনের সাথে আমি জড়িত নই। ষড়যন্ত্রের শিকার আমি। অসুস্থ্য হয়ে বরিশালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
এব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন শুক্রবার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যাতা স্বীকার করে বলেন, পুরো ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।