গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি, রেকর্ড ১৫ বারের বিজয়ী রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে পর্তুগালে স্পোর্টিং লিসবন দারুণ প্রত্যাবর্তনে করে বোডো/গ্লিমটের চমকপ্রদ যাত্রার ইতি টেনেছে।
গত মৌসুমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিন্স লিগ শিরোপা জয়ী পিএসজি যেন আবারও সেই ফর্মে ফিরে এসেছে।। ফরাসি ক্লাবটি লন্ডনে শেষ ষোলর দ্বিতীয় লেগে চেলসিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৮-২ ব্যবধানে এগিয়ে জয় নিশ্চিত করে।
গত সপ্তাহের প্রথম লেগে শেষ দিকে ভেঙে পড়ায় চেলসির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। গতকাল পিএসজি দ্রুতই ইংলিশ ক্লাবটির সম্ভাবনা শেষ করে দেয়।
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই কাভিচা কাভারাটসখেলিয়া গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন। প্রথম লেগের তিনি জোড়া গোল করেছিলেন।
১৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা আচরাফ হাকিমির পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। এরপর ম্যাচের এক ঘণ্টা পেরোতে বদলি খেলোয়াড় সেনি মায়ুলু তৃতীয় গোল করলে দর্শকরা স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করে।
পিএসজি কোচ লুইস এনরিক বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পেরে আমরা খুব খুশি এবং এটি সম্পূর্ণভাবে আমাদের প্রাপ্য ছিল।”
গত বছরের শুরু থেকে দুই লেগের নকআউট পর্বে ইংলিশ দলগুলোর বিপক্ষে পিএসজির এটি চতুর্থ জয়। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা লিভারপুল বা গ্যালাতাসারের মুখোমুখি হবে।
এদিকে দুইবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন চেলসি একমাত্র ইংলিশ দল হিসেবে বাদ পড়েনি। ম্যানচেস্টার সিটি ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিয়েছে।
স্পেনে প্রথম লেগে ফেডেরিকো ভালভার্দের হ্যাটট্রিকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রিয়াল। ম্যাচের ২০ মিনিটে বার্নার্ডো সিলভা গোল ঠেকাতে হাত দিয়ে বল থামানোর কারণে লাল কার্ড দেখলে সিটি ১০ জনের দলে পরিনত হয়। আর এতেই রিয়ালের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।
ভিনিসিয়াস জুনিযয়র পেনাল্টি থেকে গোল করেন। যদিও হাফটাইমের আগে আর্লিং হালান্ড মৌসুমের ৩০তম গোল করে সমতা ফেরান। যদিও সেই গোল পরবর্তীতে কোন কাজে আসেনি। ইনজুরি টাইমে ভিনি আরও এক গোল করলে বড় হারের লজ্জা নিয়ে বিদায় নেই সিটি।
ভিনিসিয়াস বলেন, “আমরা সবাই জানি ভালো ম্যাচগুলো সামনে আসছে, আর এই প্রতিযোগিতায় মাদ্রিদ খেললে সবকিছু বদলে যায়।”
এনিয়ে রিয়াল টানা তৃতীয় মৌসুমে সিটিকে বিদায় করলো। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ বায়ার্ন মিউনিখ। আটালান্টার বিপক্ষে প্রথম লেগে বায়ার্ন ৬-১ গোলে এগিয়ে আছে।
প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দল আর্সেনাল বায়ার লেভারকুসেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে। এবেরেচি এজে ও ডেকলান রাইসের গোলে গানার্সদের জয় নিশ্চিত হয়।
আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বলেন, “আমাদের আরও কয়েকটি সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা সম্পূর্ণভাবে জয়ের যোগ্য ছিলাম।”
শেষ আগে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ স্পোর্টিং লিসবন।
স্পোর্টিং গত সপ্তাহের প্রথম লেগে ৩-০ পিছিয়ে থেকেও লিসবনে অতিরিক্ত সময়ের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে ৫-০ গোলে জিতে নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে।
প্রথমার্ধ গোলশুন্য থাকার পর গনসালো ইনাসিও ও পেদ্রো গনসালভেস পরপর দুই গোল করেন। এরপর ৭৮ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের পেনাল্টি ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়।
৯২ মিনিটে ম্যাক্সি আরাউজো প্রথমবারের মতো স্পোর্টিংকে এগিয়ে দেন এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রাফায়েল নেল পঞ্চম গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
এই পরাজয়ে বোডো/গ্লিমটের চমকপ্রদ যাত্রা এখানেই শেষ হয়। আর স্পোর্টিং ১৯৮৩ সালের পর প্রথমবারের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়।