মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশে তথ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে এক ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের
বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়নের বিজুল কঞ্চিগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আমিনুল ইসলাম (৪৮) দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে বামনাহার এলাকায় একটি অটো চুরির ঘটনায় ২নং অভিযুক্তের নাম উঠে আসে। ওই মামলার প্রেক্ষিতে গত ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে পুলিশ বিজুল বাজার এলাকায় গিয়ে অভিযুক্ত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করলে,ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম তাকে শনাক্ত করতে সহায়তা করেন বলে জানা যায়। এরই জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। অভিযোগে বলা হয়,গত ২৬ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ২নং অভিযুক্ত কৌশলে আমিনুল ইসলামকে বিজুল বাজারের একটি নির্জন গলিতে ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এবিযয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং অত্যন্ত নৃশংস। তারা দ্রুত এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রথমে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় ও পরবর্তীতে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা বলে, “আজ লোকজনের কারণে বেঁচে গেছিস,ভবিষ্যতে আবার পুলিশকে কিছু বললে তোকে মেরে ফেলবো এবং তোর পরিবারের বড় ক্ষতি করবো।” এ ধরনের হুমকিতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার পর চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে কিছুটা বিলম্বে ভুক্তভোগী বিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে,এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিরামপুর থানার একটি সূত্র জানায়,অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
বিরামপুরে সংঘটিত এই নৃশংস হামলার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কত দ্রুত ও কঠোরভাবে পদক্ষেপ নিয়ে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারে।