রানা মাহমুদ:
রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকা কেরানীগঞ্জের ব্রাক্ষনকীত্তায় অবস্থিত “সেন্ট্রাল এ,জে এ্যাগ্রোভেট” নামক একটি পশু ঔষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই এবং অনুমোদিত ক্যামিষ্ট এর উপস্থিতি ব্যতীত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঔষুধ উৎপাদন করা হচ্ছে।
তদন্তে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ইউনিটে নেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নেই সঠিক তাপমাত্রায় ঔষুধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা কিংবা আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার। অপরিষ্কার ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে অদক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে কেমিক্যাল মিশ্রীত ঔষুধ।
প্রস্তুতকারী শ্রমিকদের নেই সিভিল সার্জন এর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো কাগজপত্র, নেই কর্মরত শ্রমিকদের বৈধ নিয়োগ পত্র।
এতে করে যা সরাসরি পশুর স্বাস্থ্য এবং পরোক্ষভাবে মানুষের জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে ও সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে জানা যায়, উৎপাদিত ঔষুধ গুলো যথাযথ পরীক্ষণ ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এতে করে খামারিরা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি তাদের গবাদিপশুর জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।
অনেক ক্ষেত্রে ঔষুধ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও জানা গেছে।
বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি পশু মোটাতাজাকরণে ব্যবহৃত ভিটামিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অসাধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নিম্নমানের পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঔষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশিক্ষিত ক্যামিষ্ট এর উপস্থিতি এবং উৎপাদন কাজে কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সনদ থাকা বাধ্যতামূলক। এসব নিয়ম উপেক্ষা করে উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হলে তা জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা—প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এসব অনিয়মের বিষয়ে “সেন্ট্রাল এ,জে এ্যাগ্রোভেট” কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক মো: জুয়েলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রথমত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের মালিক মো: জুয়েলের সাথে কথা বলে প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কথা জানতে চাইলে সে বলে আমার সব কিছু ঠিকঠাক আছে এবং আমি প্রশাসন হতে শুরু করে সবাইকে ম্যানেজ করে প্রতিষ্ঠান চালাই। যদি আপনাদের এখানে অনিয়ম মনে হয় তাহলে যা খুসি তাই করতে পারেন।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কয়েকদিন আগে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এসে দেখে গেছে কিন্তু তারাও এ ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করে নাই। এ বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসি ও সচেতন মহলের দাবি অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।