জাকির হোসেনঃ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বায়নের খালে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি সংকটে ভোগা প্রায় ৪০ হাজার পরিবারের মাঝে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, খালটি দীর্ঘদিন কচুরিপানায় আচ্ছাদিত থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার, কৃষি সেচ ও দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের নির্দেশনায় কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সম্প্রতি খালটির দুরবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র বড়াল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. শামীম হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মাসুম বিল্লাহ, ইউপি সদস্যবৃন্দ, বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের একটি জনদুর্ভোগ নিরসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর পরিচর্যার অভাবে খালটি প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছিল।
পানির ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকায় পানি সংকটের পাশাপাশি ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। কচুরিপানা অপসারণের মাধ্যমে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং কৃষি ও জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, “বায়নের খাল ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো খাল পরিষ্কার করা হবে, যাতে এলাকাবাসী নিরাপদ ও ব্যবহার উপযোগী পানি পায় এবং কৃষি কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকে।”
এদিকে, স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কচুরিপানা অপসারণ শেষে খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আবারও কচুরিপানার দখলে না যায় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে।