মীম আক্তার :
আশুলিয়া বাজার ঘাটে নৌকাযোগে মিছিলের চেষ্টার সময় পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছে। ঘটনার পর অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত হতাহতের তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২২ জুন ২০২৬ বেলা আনুমানিক ২টা ৩০ থেকে ৩টার মধ্যে তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিকের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী নৌকায় করে আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট থেকে আশুলিয়া বাজার ঘাটে আসার চেষ্টা করেন।
রুস্তমপুর ঘাট থেকে আম্বর আলীর মালিকানাধীন একটি নৌকায় মাঝি অজয়কে নিয়ে তারা ঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। ঘাটে পৌঁছে নৌকা থেকে নামার চেষ্টা করলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া দেন। এ সময় তারা দ্রুত নৌকায় উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। তাড়াহুড়ায় নৌকার নোঙর তুলতে ব্যর্থ হন।
পুলিশ নৌকার নোঙর ধরে ফেললে আতঙ্কিত হয়ে নৌকায় থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে। বাকিরা সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করে।
পুলিশ জানায়, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ২ জন পানিতে তলিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি টের পাওয়া যায়নি। পরদিন ২৩ জুন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকায় মরদেহ বিকৃত হয়ে যায়।
নিহতরা হলেন: সুমন,ঠিকানা: তুরাগ, ঢাকা।
২,মো. আরিফুল ইসলাম,পিতা আব্দুল হাই, গ্রাম আরিজর হরিশ্বর, থানা কাউনিয়া, জেলা রংপুর।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আরও কয়েকজনের মৃত্যু ও নিখোঁজের দাবি করে প্রচার চালানো হচ্ছে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে ৭ জন নিখোঁজ, ৪ জনের লাশ উদ্ধার ও আরও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সরকারি দলের এমপি ও পুলিশকে দায়ী করে হিংসাত্মক প্রচারণাও চলছে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ বলছে, স্বশরীরে তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার বা অধিকসংখ্যক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তে অনলাইনে প্রচারিত অতিরঞ্জিত হতাহতের তথ্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।