ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুরের সম্মান ও সেবামুখী ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার; মানুষের আস্থা অর্জনেই গুরুত্ব নিকুঞ্জে হ/ত্যাচেষ্টা মা//মলার আ/সা/মি ও মা/দক কারবারি ‘গা/ঞ্জা রিফাত’ আ/টক অজস্র কলমের ছোঁয়া -এর দশম সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত। পটুয়াখালীতে টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, পানির নিচে আমনের বীজতলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব : মোনায়েম মুন্না হিলিতে ‘কেনা প্রশ্নপত্রে’ অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ, অভিভাবকদের ক্ষোভ পেলে-ম্যারাডোনার ক্লাবে বেলিংহাম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রীর শোক চিলমারীতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দেড় শতাধিক পরিবার ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলা শাখার বন্যায় কবলিত মানুষদের ত্রান সামগ্রী বিতরণ।

যা করলে গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস সারানো যাবে!

বমি বমি ভাব এবং বমি, যা সাধারণত মর্নিং সিকনেস নামে পরিচিত। এই সমস্যা প্রায় ৭০-৮০% গর্ভবতী নারীদের প্রভাবিত করে, বিশেষ করে প্রথম ত্রৈমাসিকে। যদিও একে ‘মর্নিং’ সিকনেস বলা হয়, এর লক্ষণগুলো দিনের যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে। যদিও হালকা বমি বমি ভাব গর্ভাবস্থার একটি স্বাভাবিক অংশ, এটি খাওয়া-দাওয়া, পানিপান এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক প্রতিকার রয়েছে যা এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে-

১. ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন বি৬ গর্ভাবস্থাজনিত বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে বলে প্রমাণিত হয়েছে। কলা, আলু, ছোলা, বাদাম, বীজ এবং মুরগির মাংসের মতো খাবারের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই এর গ্রহণ বাড়াতে পারেন। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করার আগে সব সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

২. অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার

খালি পেটে থাকলে বমি বমি ভাব বেড়ে যায়। প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর অল্প অল্প করে খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং উপসর্গগুলো কমতে পারে। টোস্ট, ক্র্যাকার্স, সাদা ভাত, দই, খিচুড়ি বা কলার মতো হালকা ও সহজে হজমযোগ্য খাবার বেছে নিন।

৩. শরীরকে আর্দ্র রাখুন

পানিশূন্যতা বমি বমি ভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একবারে বেশি পরিমাণে পানি পান না করে, সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে পানি পান করুন। ডাবের পানি, পরিষ্কার স্যুপ, লেবুর পানি এবং ওরস্যালাইন (যদি আপনার ডাক্তার পরামর্শ দেন) শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করতে পারে।

৪. পুদিনা

পুদিনা চা বা শুধু পুদিনার গন্ধ শোঁকার মাধ্যমে বমি বমি ভাব কমানো যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় পরিমিত পরিমাণে পুদিনা সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তবে আপনার যদি অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকে, তাহলে পুদিনা আপনার এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৫. আকুপ্রেশার

বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, আকুপ্রেশার রিস্টব্যান্ড ব্যবহার করে কব্জির ভেতরের দিকে P6 (নেইগুয়ান) বিন্দুতে চাপ প্রয়োগ করলে বমি বমি ভাব কমাতে উপকার পাওয়া যায়। এই ব্যান্ডগুলো শরীরে কোনো রকম কাটাছেঁড়া ছাড়াই ব্যবহার করা যায় এবং উপসর্গ হালকা থেকে মাঝারি হলে এটি চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।

৬. তীব্র উদ্দীপক এড়িয়ে চলুন

গর্ভাবস্থায়ই গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। যেসব খাবার, পারফিউম বা রান্নার গন্ধ বমি বমি ভাব তৈরি করে, সেগুলো শনাক্ত করে এড়িয়ে চললে উপকার পাওয়া যেতে পারে। ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার খাবার খেলেও উপকার হতে পারে, কারণ গরম খাবারের তুলনায় এগুলোতে গন্ধ কম ছড়ায়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুরের সম্মান ও সেবামুখী ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার; মানুষের আস্থা অর্জনেই গুরুত্ব

যা করলে গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস সারানো যাবে!

আপডেট টাইম : ০২:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বমি বমি ভাব এবং বমি, যা সাধারণত মর্নিং সিকনেস নামে পরিচিত। এই সমস্যা প্রায় ৭০-৮০% গর্ভবতী নারীদের প্রভাবিত করে, বিশেষ করে প্রথম ত্রৈমাসিকে। যদিও একে ‘মর্নিং’ সিকনেস বলা হয়, এর লক্ষণগুলো দিনের যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে। যদিও হালকা বমি বমি ভাব গর্ভাবস্থার একটি স্বাভাবিক অংশ, এটি খাওয়া-দাওয়া, পানিপান এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক প্রতিকার রয়েছে যা এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে-

১. ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন বি৬ গর্ভাবস্থাজনিত বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে বলে প্রমাণিত হয়েছে। কলা, আলু, ছোলা, বাদাম, বীজ এবং মুরগির মাংসের মতো খাবারের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই এর গ্রহণ বাড়াতে পারেন। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করার আগে সব সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

২. অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার

খালি পেটে থাকলে বমি বমি ভাব বেড়ে যায়। প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর অল্প অল্প করে খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং উপসর্গগুলো কমতে পারে। টোস্ট, ক্র্যাকার্স, সাদা ভাত, দই, খিচুড়ি বা কলার মতো হালকা ও সহজে হজমযোগ্য খাবার বেছে নিন।

৩. শরীরকে আর্দ্র রাখুন

পানিশূন্যতা বমি বমি ভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একবারে বেশি পরিমাণে পানি পান না করে, সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে পানি পান করুন। ডাবের পানি, পরিষ্কার স্যুপ, লেবুর পানি এবং ওরস্যালাইন (যদি আপনার ডাক্তার পরামর্শ দেন) শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করতে পারে।

৪. পুদিনা

পুদিনা চা বা শুধু পুদিনার গন্ধ শোঁকার মাধ্যমে বমি বমি ভাব কমানো যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় পরিমিত পরিমাণে পুদিনা সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তবে আপনার যদি অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকে, তাহলে পুদিনা আপনার এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৫. আকুপ্রেশার

বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, আকুপ্রেশার রিস্টব্যান্ড ব্যবহার করে কব্জির ভেতরের দিকে P6 (নেইগুয়ান) বিন্দুতে চাপ প্রয়োগ করলে বমি বমি ভাব কমাতে উপকার পাওয়া যায়। এই ব্যান্ডগুলো শরীরে কোনো রকম কাটাছেঁড়া ছাড়াই ব্যবহার করা যায় এবং উপসর্গ হালকা থেকে মাঝারি হলে এটি চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।

৬. তীব্র উদ্দীপক এড়িয়ে চলুন

গর্ভাবস্থায়ই গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। যেসব খাবার, পারফিউম বা রান্নার গন্ধ বমি বমি ভাব তৈরি করে, সেগুলো শনাক্ত করে এড়িয়ে চললে উপকার পাওয়া যেতে পারে। ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার খাবার খেলেও উপকার হতে পারে, কারণ গরম খাবারের তুলনায় এগুলোতে গন্ধ কম ছড়ায়।


প্রিন্ট