ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুরের সম্মান ও সেবামুখী ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার; মানুষের আস্থা অর্জনেই গুরুত্ব নিকুঞ্জে হ/ত্যাচেষ্টা মা//মলার আ/সা/মি ও মা/দক কারবারি ‘গা/ঞ্জা রিফাত’ আ/টক অজস্র কলমের ছোঁয়া -এর দশম সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত। পটুয়াখালীতে টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, পানির নিচে আমনের বীজতলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব : মোনায়েম মুন্না হিলিতে ‘কেনা প্রশ্নপত্রে’ অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ, অভিভাবকদের ক্ষোভ পেলে-ম্যারাডোনার ক্লাবে বেলিংহাম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রীর শোক চিলমারীতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দেড় শতাধিক পরিবার ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ চট্টগ্রাম জেলা শাখার বন্যায় কবলিত মানুষদের ত্রান সামগ্রী বিতরণ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালকে শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ বললেন স্কালোনি

সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পার হওয়ার পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল “শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ”।

শনিবার কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে সমতাসূচক গোলটি করেন সুইজারল্যান্ডের ড্যান এনডোয়ে।

কয়েক মিনিট পরই সুইজারল্যান্ডের জন্য বিপর্যয় নেমে আসে। অভিনয় করে ফাউল আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে ব্রিল এমবোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইসরা।

এরপর অতিরিক্ত সময়ের ১১২তম মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ অসাধারণ এক গোলে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা লটারো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটি যোগ করেন।

এবার আর্জেন্টিনার লক্ষ্য আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল, যা উত্তেজনাপূর্ণ এক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচগুলোর ইতিহাস মাঠের নানা উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। সেই প্রতিদ্বন্দ্বীতার পেছনে রয়েছে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ।

১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সেনারা দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করার পর সেগুলো পুনর্দখলে সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছিল ব্রিটেন।

তবে অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে জয়ের পর স্কালোনি রাজনীতিকে এক পাশে সরিয়ে রাখতে চাইলেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আমার বার্তা একটাই এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, “এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং আমরা খুব শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলব। তাদের একজন দুর্দান্ত কোচ আছেন। এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়।”

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ৪০ বছর পর।

মেক্সিকো সিটির আজতেকায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। এরপর বিশ্বকাপে দুই দল আরও দুবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৮ সালে টাইব্রেকারে জিতেছিল আর্জেন্টিনা, আর চার বছর পর ২০০২ সালে ইংল্যান্ড প্রতিশোধ নেয়।

স্কালোনি স্বীকার করেছেন, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে কঠিন ৩-২ ব্যবধানের জয়ের পর সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তার দলকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরও ভালো খেলতে হবে।

স্কালোনি বলেন, ‘আমরা জিতেছি আমাদের জয়ের প্রবল ইচ্ছার কারণে। আমরা ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিতে চাইনি। এখানে খেলার মানের চেয়ে জয়ের আকাঙ্খার বিষয়ই বেশি ছিল। আমরা এখন সেমিফাইনালে। ফুটবলে এটি একটি বিশেষ অবস্থান, যেটিকে হয়তো আমরা অনেক সময় স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। কিন্তু এখানে পৌঁছানো মোটেও সহজ নয়। খুশি হওয়ার, সন্তুষ্ট থাকার এবং রোমাঞ্চিত হওয়ার আমাদের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এখন আমরা শেষ পর্যন্ত সর্বশক্তি দিয়ে লড়ব। আমাদের শরীরের শেষ শক্তি আর শেষ ফোঁটা ঘামটুকু দিয়েও আমরা সবকিছু উজাড় করে দেব। যদি আমরা সফল হই, তাহলে দারুণ। আর যদি না-ও পারি, তবুও আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব। এ নিয়ে যেন কারও কোনো সন্দেহ না থাকে।”


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুরের সম্মান ও সেবামুখী ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার; মানুষের আস্থা অর্জনেই গুরুত্ব

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালকে শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ বললেন স্কালোনি

আপডেট টাইম : ০৫:১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পার হওয়ার পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল “শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ”।

শনিবার কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তবে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে সমতাসূচক গোলটি করেন সুইজারল্যান্ডের ড্যান এনডোয়ে।

কয়েক মিনিট পরই সুইজারল্যান্ডের জন্য বিপর্যয় নেমে আসে। অভিনয় করে ফাউল আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে ব্রিল এমবোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইসরা।

এরপর অতিরিক্ত সময়ের ১১২তম মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ অসাধারণ এক গোলে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা লটারো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটি যোগ করেন।

এবার আর্জেন্টিনার লক্ষ্য আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল, যা উত্তেজনাপূর্ণ এক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচগুলোর ইতিহাস মাঠের নানা উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। সেই প্রতিদ্বন্দ্বীতার পেছনে রয়েছে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ।

১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সেনারা দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করার পর সেগুলো পুনর্দখলে সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছিল ব্রিটেন।

তবে অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে জয়ের পর স্কালোনি রাজনীতিকে এক পাশে সরিয়ে রাখতে চাইলেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আমার বার্তা একটাই এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, “এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং আমরা খুব শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলব। তাদের একজন দুর্দান্ত কোচ আছেন। এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়।”

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ৪০ বছর পর।

মেক্সিকো সিটির আজতেকায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। এরপর বিশ্বকাপে দুই দল আরও দুবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯৮ সালে টাইব্রেকারে জিতেছিল আর্জেন্টিনা, আর চার বছর পর ২০০২ সালে ইংল্যান্ড প্রতিশোধ নেয়।

স্কালোনি স্বীকার করেছেন, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে কঠিন ৩-২ ব্যবধানের জয়ের পর সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তার দলকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরও ভালো খেলতে হবে।

স্কালোনি বলেন, ‘আমরা জিতেছি আমাদের জয়ের প্রবল ইচ্ছার কারণে। আমরা ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিতে চাইনি। এখানে খেলার মানের চেয়ে জয়ের আকাঙ্খার বিষয়ই বেশি ছিল। আমরা এখন সেমিফাইনালে। ফুটবলে এটি একটি বিশেষ অবস্থান, যেটিকে হয়তো আমরা অনেক সময় স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। কিন্তু এখানে পৌঁছানো মোটেও সহজ নয়। খুশি হওয়ার, সন্তুষ্ট থাকার এবং রোমাঞ্চিত হওয়ার আমাদের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এখন আমরা শেষ পর্যন্ত সর্বশক্তি দিয়ে লড়ব। আমাদের শরীরের শেষ শক্তি আর শেষ ফোঁটা ঘামটুকু দিয়েও আমরা সবকিছু উজাড় করে দেব। যদি আমরা সফল হই, তাহলে দারুণ। আর যদি না-ও পারি, তবুও আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব। এ নিয়ে যেন কারও কোনো সন্দেহ না থাকে।”


প্রিন্ট