ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে সংবাদ সংগ্রহ করার সময় এস এ টিভির উপজেলা প্রতিনিধি সহ আ/হত ২ কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত কালীগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গণ মিছিল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পিরোজপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জামায়াতের গণমিছিল ও সমাবেশ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বাসচাপায় পথচারী নিহত হরিরামপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শহীদদের প্রতি পুষ্প অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন কালিয়াকৈরে জাল রাজস্ব স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ২৫ লক্ষ টাকার নকল সিগারেট জব্দ আটক ২ জন উলিপুরে জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে।

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আজ বুধবার দিবসটি উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানউল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার।

অনুষ্ঠানে নেপাল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ, সার্ক সচিবালয় ও আইসিআইএমওডিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ, সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংকের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং নেপালের জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আমানউল্লাহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে বয়স, ধর্ম ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পতনের পথ প্রশস্ত করেছিল। তিনি প্রশাসন, শিক্ষা, আর্থিকসহ বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল তা তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্কের মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা গ্রহণের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি সুশাসন, জনগণের মর্যাদা, অধিকার এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটা ছিল জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনগণের সম্মিলিত আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। তিনি বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই নীতির আওতায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নের এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানের বক্তারা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত

আপডেট টাইম : ০৭:৪১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে।

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আজ বুধবার দিবসটি উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানউল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার।

অনুষ্ঠানে নেপাল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ, সার্ক সচিবালয় ও আইসিআইএমওডিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ, সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংকের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং নেপালের জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আমানউল্লাহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে বয়স, ধর্ম ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পতনের পথ প্রশস্ত করেছিল। তিনি প্রশাসন, শিক্ষা, আর্থিকসহ বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল তা তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্কের মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা গ্রহণের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি সুশাসন, জনগণের মর্যাদা, অধিকার এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটা ছিল জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনগণের সম্মিলিত আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। তিনি বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই নীতির আওতায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নের এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানের বক্তারা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


প্রিন্ট