ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দাদির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ভাঙনরোধে উন্নতমানের কাজের দাবি কনস্টেবল শফিকুলের প্রিয়নবী মানবীয় অসুস্থতা ও আরোগ্যের উর্ধ্বে, চাহার শোম্বা নামে এই ধরনের কিছু ইসলামে নেই- আল্লামা ইমাম হায়াত বরিশালে খাল খননের অব্যয়িত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত ইউএনও’র ভালো কাজের প্রলোভনে সৌদি গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার মৌলভীবাজারের নারী প্রবাসী, দেশে ফেরার আকুতি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঢাকার বুড়িগঙ্গার নদী তীরে বৃক্ষ বৃদ্ধি ও সবুজ নগর গঠন কর্মসূচী পালিত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কমায় তেলের দাম আরও বাড়ল বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ১২ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা, খুড়িয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী এক জীবনের বেদনাদায়ক গল্প, মনোয়ার হাসান জীবনের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার নেতাকর্মীরা

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কমায় তেলের দাম আরও বাড়ল

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্তত একবার সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশাও জোরালো হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যদিও মাসের শুরুতে হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, যেকোনো শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে তিনি ইরানের কাছে সংঘাতের ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন। কয়েক দশক ধরে চলা হামলা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করে এই দাবি জানান।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা তেহরানের দাবির সরাসরি জবাব। ইরান সংকটের সমাধানে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

এর একদিন আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান ‘কিছুটা নমনীয়’ করছেন। এতে ধারণা তৈরি হয়েছিল, নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিবর্তে তিনি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারেন।

তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দ্রুত কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুই আন্তর্জাতিক চুক্তির দামই প্রায় ৫ শতাংশ করে বেড়েছে। মঙ্গলবারও দাম আরও বাড়ে।

বিএনজেডের জেসন ওং বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনায় ইতিবাচক কোনো খবর না থাকায় তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।’

কুইনটেক্স ইন্টেলের বৈশ্বিক কৌশলবিদ স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘মূলত কোনো পক্ষই আর গুলি ছোড়া ছাড়াই তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে চাইছে, আর তেহরান সেই গুরুত্বপূর্ণ পথটি চেপে ধরছে, যেটি দিয়ে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর তেলও পরিবহন হয়।’

তিনি পরিস্থিতিকে ‘দুই পক্ষের ঝুঁকিপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তেলের দাম কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রত্যাশার চেয়ে ২০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কিছুটা কমেছিল। তবে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বেড়ে যেতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করতে পারে।

ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক সোমবার ইয়াহু ফাইন্যান্সকে বলেন, ‘সাধারণভাবে বললে, ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ালে অর্থনীতিতে খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। তাই সম্ভবত একাধিকবার সুদের হার পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে কতবার পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে আমি আগেভাগে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার এই পরিস্থিতির মধ্যেই ব্যবসায়ীরা বুধবার প্রকাশিতব্য ভোক্তা মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিটে আগের দিনের লেনদেন কিছুটা দুর্বল থাকার পর এশিয়ার শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

সাংহাই, ওয়েলিংটন, তাইপে ও ম্যানিলার শেয়ারবাজার কিছুটা কমেছে। বিপরীতে হংকং, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও সিউলের বাজারে সূচক বেড়েছে।

ছুটির কারণে মঙ্গলবার টোকিওর শেয়ারবাজার বন্ধ ছিল।

 


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দাদির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ভাঙনরোধে উন্নতমানের কাজের দাবি কনস্টেবল শফিকুলের

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কমায় তেলের দাম আরও বাড়ল

আপডেট টাইম : ০২:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্তত একবার সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশাও জোরালো হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যদিও মাসের শুরুতে হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, যেকোনো শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে তিনি ইরানের কাছে সংঘাতের ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন। কয়েক দশক ধরে চলা হামলা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করে এই দাবি জানান।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা তেহরানের দাবির সরাসরি জবাব। ইরান সংকটের সমাধানে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

এর একদিন আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান ‘কিছুটা নমনীয়’ করছেন। এতে ধারণা তৈরি হয়েছিল, নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিবর্তে তিনি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারেন।

তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দ্রুত কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুই আন্তর্জাতিক চুক্তির দামই প্রায় ৫ শতাংশ করে বেড়েছে। মঙ্গলবারও দাম আরও বাড়ে।

বিএনজেডের জেসন ওং বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনায় ইতিবাচক কোনো খবর না থাকায় তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।’

কুইনটেক্স ইন্টেলের বৈশ্বিক কৌশলবিদ স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘মূলত কোনো পক্ষই আর গুলি ছোড়া ছাড়াই তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে চাইছে, আর তেহরান সেই গুরুত্বপূর্ণ পথটি চেপে ধরছে, যেটি দিয়ে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর তেলও পরিবহন হয়।’

তিনি পরিস্থিতিকে ‘দুই পক্ষের ঝুঁকিপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তেলের দাম কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রত্যাশার চেয়ে ২০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কিছুটা কমেছিল। তবে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বেড়ে যেতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করতে পারে।

ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক সোমবার ইয়াহু ফাইন্যান্সকে বলেন, ‘সাধারণভাবে বললে, ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ালে অর্থনীতিতে খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। তাই সম্ভবত একাধিকবার সুদের হার পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে কতবার পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে আমি আগেভাগে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার এই পরিস্থিতির মধ্যেই ব্যবসায়ীরা বুধবার প্রকাশিতব্য ভোক্তা মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিটে আগের দিনের লেনদেন কিছুটা দুর্বল থাকার পর এশিয়ার শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

সাংহাই, ওয়েলিংটন, তাইপে ও ম্যানিলার শেয়ারবাজার কিছুটা কমেছে। বিপরীতে হংকং, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও সিউলের বাজারে সূচক বেড়েছে।

ছুটির কারণে মঙ্গলবার টোকিওর শেয়ারবাজার বন্ধ ছিল।

 


প্রিন্ট