ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপালী মৎস্যে ভরবো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ চিলমারীতে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির পথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা। তার সাফল্যের শিক্ষা হোক আমাদের প্রজন্মের অনুপ্রেরণা উলিপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সাথে বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ চিলমারীতে কীটনাশক পান করে আ/ত্মহত্যার চেষ্টা সেবাবান্ধব পুলিশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশের মোটিভেশন ট্রেনিং ও নৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত কোর্স এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজ উত্তরায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির পথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা। তার সাফল্যের শিক্ষা হোক আমাদের প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

মঈনউদ্দিন মনি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

স্বপ্ন ছিল বিদেশে পড়াশোনা করা, আর নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করা। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছেন ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ স্কলারশিপ এ মাস্টার্স করার সুযোগ পান। সেখানে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণাকর্মেও তিনি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে তিনি তাঁর গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেছেন এবং গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এভাবে একজন বাংলাদেশি তরুণ গবেষক হিসেবে আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলেও নিজের পরিচিতি তৈরি করছেন তিনি।

গবেষণার পাশাপাশি একাডেমিক ফলাফলেও সাফল্য ধরে রাখেন ফাহমিদা। মাস্টার্স সফলভাবে সম্পন্ন করার পরপরই একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পূর্ণ স্কলারশিপে পিএইচডির অফার পেয়েছেন তিনি। এই পিএইচডির ফান্ডিংয়ের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকারও বেশি। তাঁর এই অর্জন নিঃসন্দেহে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গর্বের। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও গবেষণার মতো কঠিন ক্ষেত্রে তাঁর এই সাফল্য দেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার।

ফাহমিদার এই পথচলার শুরুতে ছিলেন তাঁর বাবা। নানা বাধা ও প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও বাবা তাঁকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান এবং সবসময় পড়াশোনায় উৎসাহ ও সহযোগিতা করেন। বাবার সেই বিশ্বাস ও সমর্থনেই তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পান। আর বিয়ের পর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর স্বামী। বিদেশে পড়াশোনা করা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার স্বপ্নকে তিনি সবসময় সম্মান করেছেন, সাহস দিয়েছেন এবং এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছেন।

ফাহমিদার গল্প শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। স্বপ্নকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। সুযোগ সীমিত মনে হলেও চেষ্টা, মেধা ও অধ্যবসায় থাকলে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থীও বিশ্বের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জায়গা করে নিতে পারেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য ফাহমিদার পথচলা হতে পারে একটি সাহসী উদাহরণ। বিয়ে কোনো নারীর স্বপ্নের শেষ নয়। একজন নারী চাইলে সংসার ও দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার ও স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে পারেন। প্রয়োজন নিজের প্রতি বিশ্বাস এবং এমন পরিবার ও জীবনসঙ্গী, যারা তাঁর স্বপ্নকে সম্মান করবে।

আজকের ফাহমিদা আগামী দিনের অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হয়তো নতুন করে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবেন—বিদেশে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা কিংবা বিজ্ঞানের জটিল কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন।
একজনের সাফল্য যখন অন্য হাজার জনকে স্বপ্ন দেখায়, তখন সেই সাফল্য আর শুধু ব্যক্তিগত থাকে না—তা হয়ে ওঠে একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভার এই পথচলা তাই বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে একটাই বার্তা দেয়—স্বপ্ন দেখুন, চেষ্টা করুন, বাধাকে ভয় পাবেন না। আপনার শুরুটা যত ছোটই হোক, আপনার গন্তব্য হতে পারে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত।বর্তমানে ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা তার স্বামী ডাক্তার রোমান খাঁনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রূপালী মৎস্যে ভরবো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ

নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির পথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা। তার সাফল্যের শিক্ষা হোক আমাদের প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

আপডেট টাইম : ০৮:০৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

মঈনউদ্দিন মনি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

স্বপ্ন ছিল বিদেশে পড়াশোনা করা, আর নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করা। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছেন ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ স্কলারশিপ এ মাস্টার্স করার সুযোগ পান। সেখানে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণাকর্মেও তিনি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে তিনি তাঁর গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেছেন এবং গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এভাবে একজন বাংলাদেশি তরুণ গবেষক হিসেবে আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলেও নিজের পরিচিতি তৈরি করছেন তিনি।

গবেষণার পাশাপাশি একাডেমিক ফলাফলেও সাফল্য ধরে রাখেন ফাহমিদা। মাস্টার্স সফলভাবে সম্পন্ন করার পরপরই একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পূর্ণ স্কলারশিপে পিএইচডির অফার পেয়েছেন তিনি। এই পিএইচডির ফান্ডিংয়ের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকারও বেশি। তাঁর এই অর্জন নিঃসন্দেহে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গর্বের। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও গবেষণার মতো কঠিন ক্ষেত্রে তাঁর এই সাফল্য দেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার।

ফাহমিদার এই পথচলার শুরুতে ছিলেন তাঁর বাবা। নানা বাধা ও প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও বাবা তাঁকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান এবং সবসময় পড়াশোনায় উৎসাহ ও সহযোগিতা করেন। বাবার সেই বিশ্বাস ও সমর্থনেই তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পান। আর বিয়ের পর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর স্বামী। বিদেশে পড়াশোনা করা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার স্বপ্নকে তিনি সবসময় সম্মান করেছেন, সাহস দিয়েছেন এবং এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছেন।

ফাহমিদার গল্প শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। স্বপ্নকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। সুযোগ সীমিত মনে হলেও চেষ্টা, মেধা ও অধ্যবসায় থাকলে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থীও বিশ্বের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জায়গা করে নিতে পারেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য ফাহমিদার পথচলা হতে পারে একটি সাহসী উদাহরণ। বিয়ে কোনো নারীর স্বপ্নের শেষ নয়। একজন নারী চাইলে সংসার ও দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার ও স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে পারেন। প্রয়োজন নিজের প্রতি বিশ্বাস এবং এমন পরিবার ও জীবনসঙ্গী, যারা তাঁর স্বপ্নকে সম্মান করবে।

আজকের ফাহমিদা আগামী দিনের অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হয়তো নতুন করে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবেন—বিদেশে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা কিংবা বিজ্ঞানের জটিল কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন।
একজনের সাফল্য যখন অন্য হাজার জনকে স্বপ্ন দেখায়, তখন সেই সাফল্য আর শুধু ব্যক্তিগত থাকে না—তা হয়ে ওঠে একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভার এই পথচলা তাই বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে একটাই বার্তা দেয়—স্বপ্ন দেখুন, চেষ্টা করুন, বাধাকে ভয় পাবেন না। আপনার শুরুটা যত ছোটই হোক, আপনার গন্তব্য হতে পারে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত।বর্তমানে ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা তার স্বামী ডাক্তার রোমান খাঁনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।


প্রিন্ট