ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নে সরকার সচেষ্ট : স্পিকার জগন্নাথপুর স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনে যুক্তরাজ্যে সভা অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে সড়ক দু/র্ঘটনায় মোটর সাইকেল আরোহী নি/হ/ত তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা নতুন আইনে তদন্ত কার্যক্রম চালাতে পারবে এপিবিএন ; ডিআইজি শাহজাহান ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধন করলেন পর্যটন মন্ত্রী, লক্ষ্য জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৯ শতাংশ আদালতের রায়ে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও ছাএলীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজনের মৃত্যুদন্ডের রায়ের প্রতিবাদে মিছিল

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল।প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।

চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর। আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন।

চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।

দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে।
ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়।

সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।

সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ‘নজরানা’ বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে ৬৭টি বাঁশের ভূড় মহাবিশ্ব ওরশ শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা

আপডেট টাইম : ০৭:৫০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর নৌযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মুসলিমদের ৬৩ টি ভূড় ও হিন্দুদের ৪ টি ভূড়।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকে মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ ২০২৭ সালের উত্তরবঙ্গের নজরানার বাঁশের ভুর বিদায়ী মাহফিল।প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।

চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে মোঃ ইউসুফ আলী জানান বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর র়ংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা ফজরের নামাজের পর ৬৭ টি ভূড় নিয়ে যাত্রা করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩ টি ভূড় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ টি ভূড় । প্রতিটি ভূড়ে ২০/২৫ জন। ভূড় গুলো বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। গন্তব্য বিশ্ব জাকের মঞ্জিল (আটরশি), থানা- সদরপুর, জেলা -ফরিদপুর। আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন।

চয়নি কান্ত ( লালমনিরহাট) ও তপন কুমার (চিলমারী) জানান একসাথে ভূড় গুলো ছেড়ে যাবে এবং জাকের মঞ্জিলে একই সমাবেশে সমোবেত হবে।ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভূড় স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে বিশালাকার মজবুত ভেলা বা ভূড় তৈরি করা হয়। এসব ভেলায় লজিং বা থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি তৈরি করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে।

দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিতে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে যমুনা ও পদ্মা নদী হয়ে ভক্তরা ফরিদপুর সদরপুরের আটরশি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাবে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে।
ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ সময় এই ভেলাগুলো ইঞ্জিন ছাড়া কেবল লগি, বৈঠা এবং নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে চালানো হয়।ঝুঁকিপূর্ণ দীর্ঘ নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা নদীর বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই ভেলাগুলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশিতে পৌঁছায়।

সম্মিলিত যাত্রা ও জিকির-আসকার যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে মাইক বা লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত এবং মোর্শেদি গান গাওয়া হয়। সারি সারি ভেলার এই দৃশ্য নদীতে এক অভূতপূর্ব ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সারি সারি বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের জাকের ভক্তদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রেওয়াজ।প্রতি বছর আটরশি দরবার শরীফের বার্ষিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে চিলমারী এবং এর আশেপাশের এলাকার শত শত আশেকান ও জাকের ভক্তরা এই অনন্য উপায়ে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দেন।

সমাবেশ শেষে নজরানার বাঁশ উত্তরবঙ্গের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চিলমারী , নাগেশবরী ও রাজারহাট এলাকার ভক্তরা কয়েকশত বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এই বিশালাকৃতির ভূড় বা ভেলা প্রস্তুত করেন। এগুলো মূলত দরবার শরিফ মঞ্জিলের মহা সমাবেশ ২০২৭ সফল করার লক্ষ্যে বহনকারী বাঁশের ভূড় গুলো উরস শরিফের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ‘নজরানা’ বা উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়।


প্রিন্ট