ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিতে দক্ষ জনবল গড়তে এটিসি বেসিক কোর্স শুরু উল্লাপাড়ায় তাঁত বোর্ড চেয়ারম্যানকে ইউসুফ সরকারের ফুলেল শুভেচ্ছা উল্লাপাড়ায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় শিক্ষক নিহত কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল রহমান সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়মেই হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বঙ্গভবনে নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু কোরবান নগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের জন্য নতুন পরিকল্পনা ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিমের’ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে মাস্টার অব এডুকেশন-২০২৫ এর গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পিরোজপুর পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

ওএমএস কার্ডে ইউপি মেম্বারের টিপসই, চাল পায়নি দরিদ্ররা

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বারে দরিদ্র মানুষের নামে কার্ড করে নিজে টিপসই দিয়ে চাল তোলার অভিযোগ উঠেছে সুবিল ইউনিয়নের ৮ নং ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী জানান, তাদের নামে যে ওএমওস এর কার্ড আছে সেটা তারা জানেন না। ১৪ এপ্রিল তাদের হাতে কার্ড তুলে দেন গ্রাম পুলিশ আক্তার হোসেন। কিন্তু ওই কার্ডে দেখা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে টিপসই দিয়ে চাল তোলা হয়েছে।

এই গ্রাম পুলিশ জানান, এখন থেকে তারা ১০ টাকা কেজির চাল পাবেন।

টিপসই বা আঙ্গুলের ছাপের বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিম পোমকাড়া গ্রামের স্বপন মজুমদার জানান, ‘আমার নামে যে কার্ড আছে, সেটাই সেটাই আমি জানি না। আমাকে এই কার্ডটা দিয়ে গেছে। দেখি ওরা ১৫টা টিপসই দিয়ে রাখছে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, আরও ১২টি পরিবার এমন ভুক্তভোগী। তারা হলেন: স্বপন মজুমদার, মো শফিকুল ইসলাম, রফিজ, চাঁন মিয়া, কাবিল, খাইরুল, দেলোয়ারা বেগম, ফুল মিয়া, শহীদ মিয়া, দেলোয়ার হোসেন। তাদের দাবি, তাদের নামে যে কার্ড আছে এটা তারাও জানতেন না। প্রত্যেকের কার্ডে ইউপি মেম্বার নিজের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে চাল তুলে আত্মসাৎ করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওএমএস এর কার্ডগুলো যাচাই করে দেখা যায়, প্রত্যেক গ্রাহকের কার্ড ব্যবহার করে চাল তোলা হয়েছে কমপক্ষে ১৩ থেকে ১৭ বার, যা ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত সুবিল ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে দরিদ্র বেশি। তাই সবাইকে ত্রাণ দিতে গিয়ে একজনের নামের কার্ড দিয়ে অন্যজনকে চাল দিতে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওএমএস-এর ৮০টি মতো কার্ড রয়েছে তার ওয়ার্ডে।

এদিকে ১১ এপ্রিল সুবিল ইউনিয়নে ওএমএস-এর ডিলার ও ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বারের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলায় সব প্রতিনিধিদের গ্রাহকের হাতে কার্ড পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, চাল আত্মসাতের বিষয়ে এর আগেও আমাদের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। আমরা তদন্ত করে এক মেম্বর ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। সুবিল ইউনিয়নের ৮ নং ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে টিপসই দিয়ে গরিবের চাল আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়েও আমরা তদন্ত করবো। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিতে দক্ষ জনবল গড়তে এটিসি বেসিক কোর্স শুরু

ওএমএস কার্ডে ইউপি মেম্বারের টিপসই, চাল পায়নি দরিদ্ররা

আপডেট টাইম : ০৯:০১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বারে দরিদ্র মানুষের নামে কার্ড করে নিজে টিপসই দিয়ে চাল তোলার অভিযোগ উঠেছে সুবিল ইউনিয়নের ৮ নং ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী জানান, তাদের নামে যে ওএমওস এর কার্ড আছে সেটা তারা জানেন না। ১৪ এপ্রিল তাদের হাতে কার্ড তুলে দেন গ্রাম পুলিশ আক্তার হোসেন। কিন্তু ওই কার্ডে দেখা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে টিপসই দিয়ে চাল তোলা হয়েছে।

এই গ্রাম পুলিশ জানান, এখন থেকে তারা ১০ টাকা কেজির চাল পাবেন।

টিপসই বা আঙ্গুলের ছাপের বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিম পোমকাড়া গ্রামের স্বপন মজুমদার জানান, ‘আমার নামে যে কার্ড আছে, সেটাই সেটাই আমি জানি না। আমাকে এই কার্ডটা দিয়ে গেছে। দেখি ওরা ১৫টা টিপসই দিয়ে রাখছে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, আরও ১২টি পরিবার এমন ভুক্তভোগী। তারা হলেন: স্বপন মজুমদার, মো শফিকুল ইসলাম, রফিজ, চাঁন মিয়া, কাবিল, খাইরুল, দেলোয়ারা বেগম, ফুল মিয়া, শহীদ মিয়া, দেলোয়ার হোসেন। তাদের দাবি, তাদের নামে যে কার্ড আছে এটা তারাও জানতেন না। প্রত্যেকের কার্ডে ইউপি মেম্বার নিজের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে চাল তুলে আত্মসাৎ করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওএমএস এর কার্ডগুলো যাচাই করে দেখা যায়, প্রত্যেক গ্রাহকের কার্ড ব্যবহার করে চাল তোলা হয়েছে কমপক্ষে ১৩ থেকে ১৭ বার, যা ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত সুবিল ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে দরিদ্র বেশি। তাই সবাইকে ত্রাণ দিতে গিয়ে একজনের নামের কার্ড দিয়ে অন্যজনকে চাল দিতে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওএমএস-এর ৮০টি মতো কার্ড রয়েছে তার ওয়ার্ডে।

এদিকে ১১ এপ্রিল সুবিল ইউনিয়নে ওএমএস-এর ডিলার ও ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বারের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলায় সব প্রতিনিধিদের গ্রাহকের হাতে কার্ড পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, চাল আত্মসাতের বিষয়ে এর আগেও আমাদের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। আমরা তদন্ত করে এক মেম্বর ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। সুবিল ইউনিয়নের ৮ নং ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে টিপসই দিয়ে গরিবের চাল আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়েও আমরা তদন্ত করবো। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রিন্ট