ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম পটুয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার কুমিল্লায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৯ ট্রেডে প্রশিক্ষণ শুরু নোয়াখালীতে অনিয়মের অভিযোগে দুই হাসপাতালকে জরিমানা

চাহিদা ১৬ লাখ, জেআরপি পাচ্ছে ১৩ লাখ রোহিঙ্গা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় লাখ লাখ রোহিঙ্গা। সে সময় থেকে এসব রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের সঙ্গে কাজ করছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় প্রতিবছর তৈরি করছে যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা বা জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি)। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ তত কমছে। এবার ১৬ লাখ মানুষের (রোহিঙ্গা ও স্থানীয়) সহায়তার প্রয়োজন থাকলেও জেআরপি হচ্ছে ১৩ লাখ মানুষের জন্য।

২০২৪ সালের জেআরপির খসড়া থেকে এ তথ্য জানা যায়।

খসড়া অনুযায়ী, চলতি বছর জেআরপিতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চাহিদা ধরা হচ্ছে ৮৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ মানুষকে সহায়তা প্রদানের। কিন্তু সহায়তা প্রয়োজন ১৬ লাখ মানুষের; জেআরপির খসড়াতেই সে কথা রয়েছে। গত বছর রোহিঙ্গা ও ক্যাম্পের আশপাশের ১৫ লাখ মানুষের সবার জন্যই জেআরপি করেছিল জাতিসংঘ। চাহিদা ধরা হয়েছিল ৮৭ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ সহায়তা চাহিদায় এ বছর ঘাটতি রয়েছে এবং ঐ ঘাটতি মেটাতে উপকারভোগী কম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

আগের বছরের তুলনায় এবার জেআরপিতে কম সংখ্যক মানুষকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ সম্পর্কে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের যৌথ প্রচেষ্টায় কক্সবাজার ও ভাসানচরে থাকা রোহিঙ্গা এবং ক্যাম্পের আশপাশের বাসিন্দাদের মানবিক সহায়তার জন্য জেআরপি করা হয়। এ বছর জেআরপি দ্রুত প্রকাশ করতে চাই। কারণ, বৈশ্বিকভাবে অনেক স্থানে মানবিক সংকট চলছে। ফলে তহবিলের ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত প্রকাশ করে যত বেশি সম্ভব তহবিল সংগ্রহ করতে চাই।

এ বছরের চাহিদা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ নিয়ে কাজ চলছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটুকু বলা যায়, গত বছরের মতোই চাহিদা ধরা হচ্ছে, যা ৮০ কোটি ডলারের কিছুটা ওপরে।

রোহিঙ্গাদের জন্য গত বছর আন্তর্জাতিক সহায়তা আসে সবচেয়ে কম– ৪৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা জেআরপির ৫০ শতাংশ। এর বাইরে অবশ্য ৬ কোটি ৮৬ লাখ ডলার সহায়তা পায় রোহিঙ্গারা। তার আগে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা আসে জেআরপির ৭৩ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৫ শতাংশ, ২০২০ সালে ৫৯ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭৩ শতাংশ ও ২০২২ সালে ৬৯ শতাংশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব যেভাবে রোহিঙ্গাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তার প্রভাব বাংলাদেশে তো পড়বেই; এ অঞ্চল ও পুরো বিশ্বে পড়বে। তাই তহবিল সংকট মোকাবিলায় দায়িত্বশীল রাষ্ট্রগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

২০২২ সালের জেআরপিতে মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর অগ্রাধিকারে ছিল স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংহতি স্থাপন। এ জন্য কমিউনিটি সুরক্ষা ফোরাম, কমিউনিটিভিত্তিক সংলাপ ও আর্মড পুলিশের মধ্যে যোগাযোগ শক্তিশালী করতে কাজ করা হয়। ২০২৩ সালে বিষয়টি অগ্রাধিকার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। আর এবারের জেআরপিতে অগ্রাধিকার রয়েছে পুষ্টি, সম্মানজনক আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং স্যানিটেশনে (ওয়াশ)।

তহবিল কমে আসায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। তবে জাতিসংঘ চাচ্ছে, সাশ্রয়ীভাবে প্রকল্প পরিচালনা করতে এবং রোহিঙ্গারা যেন নিজেরাই জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

জাতিসংঘ বলছে, খাদ্য সহায়তা কমে গেলে রোহিঙ্গারা মরিয়া হয়ে উঠবে, যা ক্যাম্পে সহিংসতা ও অস্থিরতা বাড়াবে। পরিস্থিতি উদ্বেগের দিকে যেতে পারে। মানব পাচারের ঝুঁকিও বাড়বে, বিশেষ করে শিশু ও নারীদের।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার

চাহিদা ১৬ লাখ, জেআরপি পাচ্ছে ১৩ লাখ রোহিঙ্গা

আপডেট টাইম : ১২:৫৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় লাখ লাখ রোহিঙ্গা। সে সময় থেকে এসব রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের সঙ্গে কাজ করছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় প্রতিবছর তৈরি করছে যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা বা জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি)। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ তত কমছে। এবার ১৬ লাখ মানুষের (রোহিঙ্গা ও স্থানীয়) সহায়তার প্রয়োজন থাকলেও জেআরপি হচ্ছে ১৩ লাখ মানুষের জন্য।

২০২৪ সালের জেআরপির খসড়া থেকে এ তথ্য জানা যায়।

খসড়া অনুযায়ী, চলতি বছর জেআরপিতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চাহিদা ধরা হচ্ছে ৮৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ মানুষকে সহায়তা প্রদানের। কিন্তু সহায়তা প্রয়োজন ১৬ লাখ মানুষের; জেআরপির খসড়াতেই সে কথা রয়েছে। গত বছর রোহিঙ্গা ও ক্যাম্পের আশপাশের ১৫ লাখ মানুষের সবার জন্যই জেআরপি করেছিল জাতিসংঘ। চাহিদা ধরা হয়েছিল ৮৭ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ সহায়তা চাহিদায় এ বছর ঘাটতি রয়েছে এবং ঐ ঘাটতি মেটাতে উপকারভোগী কম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

আগের বছরের তুলনায় এবার জেআরপিতে কম সংখ্যক মানুষকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ সম্পর্কে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের যৌথ প্রচেষ্টায় কক্সবাজার ও ভাসানচরে থাকা রোহিঙ্গা এবং ক্যাম্পের আশপাশের বাসিন্দাদের মানবিক সহায়তার জন্য জেআরপি করা হয়। এ বছর জেআরপি দ্রুত প্রকাশ করতে চাই। কারণ, বৈশ্বিকভাবে অনেক স্থানে মানবিক সংকট চলছে। ফলে তহবিলের ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত প্রকাশ করে যত বেশি সম্ভব তহবিল সংগ্রহ করতে চাই।

এ বছরের চাহিদা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ নিয়ে কাজ চলছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটুকু বলা যায়, গত বছরের মতোই চাহিদা ধরা হচ্ছে, যা ৮০ কোটি ডলারের কিছুটা ওপরে।

রোহিঙ্গাদের জন্য গত বছর আন্তর্জাতিক সহায়তা আসে সবচেয়ে কম– ৪৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা জেআরপির ৫০ শতাংশ। এর বাইরে অবশ্য ৬ কোটি ৮৬ লাখ ডলার সহায়তা পায় রোহিঙ্গারা। তার আগে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা আসে জেআরপির ৭৩ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৫ শতাংশ, ২০২০ সালে ৫৯ শতাংশ, ২০২১ সালে ৭৩ শতাংশ ও ২০২২ সালে ৬৯ শতাংশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব যেভাবে রোহিঙ্গাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তার প্রভাব বাংলাদেশে তো পড়বেই; এ অঞ্চল ও পুরো বিশ্বে পড়বে। তাই তহবিল সংকট মোকাবিলায় দায়িত্বশীল রাষ্ট্রগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

২০২২ সালের জেআরপিতে মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর অগ্রাধিকারে ছিল স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংহতি স্থাপন। এ জন্য কমিউনিটি সুরক্ষা ফোরাম, কমিউনিটিভিত্তিক সংলাপ ও আর্মড পুলিশের মধ্যে যোগাযোগ শক্তিশালী করতে কাজ করা হয়। ২০২৩ সালে বিষয়টি অগ্রাধিকার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। আর এবারের জেআরপিতে অগ্রাধিকার রয়েছে পুষ্টি, সম্মানজনক আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং স্যানিটেশনে (ওয়াশ)।

তহবিল কমে আসায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। তবে জাতিসংঘ চাচ্ছে, সাশ্রয়ীভাবে প্রকল্প পরিচালনা করতে এবং রোহিঙ্গারা যেন নিজেরাই জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

জাতিসংঘ বলছে, খাদ্য সহায়তা কমে গেলে রোহিঙ্গারা মরিয়া হয়ে উঠবে, যা ক্যাম্পে সহিংসতা ও অস্থিরতা বাড়াবে। পরিস্থিতি উদ্বেগের দিকে যেতে পারে। মানব পাচারের ঝুঁকিও বাড়বে, বিশেষ করে শিশু ও নারীদের।


প্রিন্ট