রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম পৌরসভার আয়োজনে ইফতার মাহফিল ভোটের কালি না শুকাতেই নির্বাচন পূর্বের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে মোঃ আবুল কালাম এমপি ফেনীতে বিশ্বভোক্তা অধিকার দিবসে আলোচনা সভা কালের সাক্ষী সুনামগঞ্জের হুরার কান্দা জামে মসজিদ, সংরক্ষণের দাবি এলাকাবাসীর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড বিষয়ে বৈঠক প্রাথমিকে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা: সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা বরগুনা জেলা উন্নয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মির্জা আব্বাসকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের পথে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স খাগড়াছড়িতে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপন পাকিস্তানের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর তালিকা পুনরায় যাচাই করা হবে : ফারজানা শারমীন

গোদাগাড়ী থানায় নারী এএসআই লতিফার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ঘুষ ও দুর্ব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৩ বার পঠিত

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিবেদকঃ

 

 

রাজশাহী রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় কর্মরত নারী এএসআই (নিঃ) লতিফা খাতুনের বিরুদ্ধে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ঘুষ গ্রহণ, টাকা দাবি এবং চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। জিডি থেকে শুরু করে অভিযোগ দায়ের—সবক্ষেত্রেই তার লালসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি দরিদ্র ভ্যানচালক কিংবা ৮৫ বছরের বৃদ্ধের টাকা হাতিয়ে নিতেও তার হাত কাঁপছে না বলে জানা গেছে।

​জিডি করতেও গুনতে হয় টাকা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক ভুক্তভোগী তার গাড়ির কাগজ হারিয়ে যাওয়ায় থানায় জিডি করতে যান। অভিযোগ রয়েছে, জিডি লিখে দেওয়ার নাম করে এএসআই লতিফা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ২০০ টাকা হাতিয়ে নেন। এখানেই শেষ নয়, জিডি জমা দেওয়ার সময় তিনি আরও ১০০০ টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে থানায় কর্মরত অন্য এক পুলিশ সদস্যের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ওই ১০০০ টাকা নিতে ব্যর্থ হন লতিফা খাতুন।

​ছাড় পাচ্ছেন না ভ্যানচালক ও বৃদ্ধরাও লতিফা খাতুনের অনৈতিক দাবির শিকার হয়েছেন দিগ্রাম এলাকার এক অসহায় ভ্যানচালকও। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওই ভ্যানচালকের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন এই নারী পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া বিদিরপুর এলাকার ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোঃ শাজাহান আলীও তার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ তালিকা অনুসন্ধানে জানা গেছে, এএসআই লতিফা খাতুনের হাতে বিভিন্ন সময় আর্থিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা হয়েছেন:

১. শ্রী মুকুল মিঞ্জ (৩২), আগলপুর বাগানপাড়া।

২. মৌসুমি বেগম (৩৫), মাটিকাটা কারির মোড়।

৩. মোসাঃ মানসুরা বেগম, মহব্বতপুর।

৪. মোসাঃ মিলিয়ারা (৩০), দেবিনগর কলিকাতা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।

৫. শুনিল মুর্মু, পাথরঘাটা।

৬. মোঃ মাফিকুল ইসলাম (৫৫), চর বয়ারমারি।

৭. মোঃ আমিনুল ইসলাম (ফারুক), মোমিন পাড়া।

৮. মোসাঃ বেলিয়ারা বেগম, কলিপুর।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাউকে ২০০, কাউকে ৫০০, আবার কাউকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য করেছেন লতিফা। টাকা ছাড়া তার কলম চলে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

​আচরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এএসআই লতিফার আচার-ব্যবহার এবং ভাষা অপেশাদারিত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে কারণে-অকারণে রাগারাগি ও দুর্ব্যবহার করা তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তার এমন আচরণের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

​বিপরীত চিত্রে ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তা আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্থানীয়রা গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং তদন্ত কর্মকর্তার সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের মতে, ঊর্ধ্বতন এই দুই কর্মকর্তা অত্যন্ত আন্তরিক এবং জনবান্ধব। তবে এএসআই লতিফার মতো অধস্তন কর্মকর্তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে পুরো থানার সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

​গোদাগাড়ীর সাধারণ মানুষ এই দুর্নীতিবাজ ও রূঢ় আচরণের নারী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষ দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com