ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাত বছর পর নাটকে ফিরলেন শার্লিন ফারজানা `২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল’ অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা সামনে কাজে লাগাতে চান শান্ত থাইল্যান্ডে একযোগে ৫১ হামলা ও অগ্নিসংযোগ: আইএসওসি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিমের বিশ্বব্যাপী প্রচার-প্রচারণা জোরদার প্রবাসীদের অধিকার, মানবিক সহায়তা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে নতুন উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ বঙ্গভবনে নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিতে দক্ষ জনবল গড়তে এটিসি বেসিক কোর্স শুরু উল্লাপাড়ায় তাঁত বোর্ড চেয়ারম্যানকে ইউসুফ সরকারের ফুলেল শুভেচ্ছা উল্লাপাড়ায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় শিক্ষক নিহত

`২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি ছিল মূল যুদ্ধের প্রস্তুতি ও মহড়া। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে জেগে ওঠা মানুষ এখনো সজাগ এবং যেকোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় প্রস্তুত।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪-কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল। ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

জামায়াতের আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা, এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।

জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি মনে করি, যারা সচেতন নাগরিক, তাদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এখানে ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যারা পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের তুলে ধরা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের হাতে যখন আসছে, তখন অনেক নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও সেখানে ছিল।

তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। আপনারা সেই সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের কথা জানেন, যাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর কী না অত্যাচার করা হয়েছে। আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতি ছিল, সেটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি ভালো লক্ষণ নয়। ক্ষমতায় যারা আসে, এসেই বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাত বছর পর নাটকে ফিরলেন শার্লিন ফারজানা

`২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল’

আপডেট টাইম : ০৫:১১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি ছিল মূল যুদ্ধের প্রস্তুতি ও মহড়া। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে জেগে ওঠা মানুষ এখনো সজাগ এবং যেকোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় প্রস্তুত।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। এরা যেন ২৪-কে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল। ২০২৪ সালের পর আশা করেছিলাম, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

জামায়াতের আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে। এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা, এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।

জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমি মনে করি, যারা সচেতন নাগরিক, তাদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এখানে ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যারা পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের তুলে ধরা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের হাতে যখন আসছে, তখন অনেক নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও সেখানে ছিল।

তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। আপনারা সেই সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের কথা জানেন, যাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর কী না অত্যাচার করা হয়েছে। আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতি ছিল, সেটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি ভালো লক্ষণ নয়। ক্ষমতায় যারা আসে, এসেই বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি। বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


প্রিন্ট