ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা সামনে কাজে লাগাতে চান শান্ত থাইল্যান্ডে একযোগে ৫১ হামলা ও অগ্নিসংযোগ: আইএসওসি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিমের বিশ্বব্যাপী প্রচার-প্রচারণা জোরদার প্রবাসীদের অধিকার, মানবিক সহায়তা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে নতুন উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ বঙ্গভবনে নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিতে দক্ষ জনবল গড়তে এটিসি বেসিক কোর্স শুরু উল্লাপাড়ায় তাঁত বোর্ড চেয়ারম্যানকে ইউসুফ সরকারের ফুলেল শুভেচ্ছা উল্লাপাড়ায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় শিক্ষক নিহত কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল রহমান সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়মেই হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

থাইল্যান্ডে একযোগে ৫১ হামলা ও অগ্নিসংযোগ: আইএসওসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের বিদ্রোহকবলিত দক্ষিণাঞ্চলে শনিবার রাতে বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিতভাবে চালানো ৫১টি অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন এবং সরকারি স্থাপনাসহ বিভিন্ন সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে ।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযান কমান্ড (আইএসওসি) এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ৫১টি হামলায় একটি স্থানীয় সরকারি দপ্তর ভবন, একটি সেভেন-ইলেভেন দোকান এবং একটি চুরি করা গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

আইএসওসি জানায়, শনিবার রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে এসব সমন্বিত হামলা চালানো হয়।

সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে নারাথিওয়াত প্রদেশে। সেখানে দুজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং রাতে কারফিউ জারি করা হয়। পার্শ্ববর্তী ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ডের দক্ষিণতম প্রদেশগুলোতে ২০০৪ সাল থেকে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলের বিদ্রোহীরা বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

শনিবারের হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

নারাথিওয়াতের গভর্নর বুনচুয়াই হোমইয়ামিয়েন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, রোববার কর্তৃপক্ষ হামলাস্থলগুলোতে তদন্ত শুরু করেছে। এসব স্থানের মধ্যে স্থানীয় সরকারি কার্যালয়, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং বিদ্যুতের খুঁটিও রয়েছে।

গভর্নর বলেন, রোববার সকালে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আহতদের বিষয়ে তার কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই।

নারাথিওয়াতের সামরিক কমান্ড শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছিল।

আইএসওসি জানায়, হামলার সময় নারাথিওয়াতের একটি উপজেলা প্রশাসনিক সংস্থার কার্যালয় থেকে একটি গাড়ি চুরি করা হয়। ওই হামলায় ভবনটিতে আগুন ধরে যায়।

পরে আগুনে পুড়ে যাওয়া পিকআপ গাড়িটি একটি সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহীরা নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থাকে। কর্মকর্তারা ওই অঞ্চলে সফরে যাওয়ার আগেও এমন হামলা হয়েছে।

গত মাসে নারাথিওয়াতের একটি চেকপোস্টে গুলি ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হয়।

এদিকে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলীয় সংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই শহরে দুই দিনের সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, সফরে বিনিয়োগ প্রকল্প, বন্যা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা সামনে কাজে লাগাতে চান শান্ত

থাইল্যান্ডে একযোগে ৫১ হামলা ও অগ্নিসংযোগ: আইএসওসি

আপডেট টাইম : ০৫:০০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের বিদ্রোহকবলিত দক্ষিণাঞ্চলে শনিবার রাতে বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিতভাবে চালানো ৫১টি অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন এবং সরকারি স্থাপনাসহ বিভিন্ন সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে ।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অভিযান কমান্ড (আইএসওসি) এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ৫১টি হামলায় একটি স্থানীয় সরকারি দপ্তর ভবন, একটি সেভেন-ইলেভেন দোকান এবং একটি চুরি করা গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

আইএসওসি জানায়, শনিবার রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে এসব সমন্বিত হামলা চালানো হয়।

সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে নারাথিওয়াত প্রদেশে। সেখানে দুজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং রাতে কারফিউ জারি করা হয়। পার্শ্ববর্তী ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ডের দক্ষিণতম প্রদেশগুলোতে ২০০৪ সাল থেকে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলের বিদ্রোহীরা বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

শনিবারের হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

নারাথিওয়াতের গভর্নর বুনচুয়াই হোমইয়ামিয়েন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, রোববার কর্তৃপক্ষ হামলাস্থলগুলোতে তদন্ত শুরু করেছে। এসব স্থানের মধ্যে স্থানীয় সরকারি কার্যালয়, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং বিদ্যুতের খুঁটিও রয়েছে।

গভর্নর বলেন, রোববার সকালে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আহতদের বিষয়ে তার কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই।

নারাথিওয়াতের সামরিক কমান্ড শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছিল।

আইএসওসি জানায়, হামলার সময় নারাথিওয়াতের একটি উপজেলা প্রশাসনিক সংস্থার কার্যালয় থেকে একটি গাড়ি চুরি করা হয়। ওই হামলায় ভবনটিতে আগুন ধরে যায়।

পরে আগুনে পুড়ে যাওয়া পিকআপ গাড়িটি একটি সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহীরা নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থাকে। কর্মকর্তারা ওই অঞ্চলে সফরে যাওয়ার আগেও এমন হামলা হয়েছে।

গত মাসে নারাথিওয়াতের একটি চেকপোস্টে গুলি ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হয়।

এদিকে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলীয় সংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই শহরে দুই দিনের সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, সফরে বিনিয়োগ প্রকল্প, বন্যা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।


প্রিন্ট