স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক তরুণ ও প্রতিবাদী এক সাংবাদিককে গত মঙ্গলবার ২৪ মার্চ বিকেলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা। হত্যার শিকার ওই সাংবাদিকের নাম দ্বীন ইসলাম (৩০) সে কসবা উপজেলার শিমরাইল গ্রামের মধ্য পাড়ার শফিকুল ইসলামের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন কসবা থাকার ওসি নাজনীন সুলতানা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মাদক কারবারীরা স্থানীয় সাংবাদিক এবং প্রশাসনকে হাত করে এমন অবৈধ কার্যক্রম করে আসছে।
নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম ও মা পারুল বেগম জানান, মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতো তাদের ছেলে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। দ্বীন ইসলাম নিহতের ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীরা জড়িত।
এখনো প্রকৃত খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক এবং মানবাধিকার মহল।
এ ঘটনায় জাতীয় সম্মিলিত প্রেসক্লাবের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রিমন হোসেন বলেছেন, দ্বীন ইসলামের সঙ্গে আমার নিয়মিত জোগাজোগ হতো আমি তার সাহসী সাংবাদিকতা দেখে মুগ্ধ হয়ে তার সাথে জোগাজোগ রাখি, বিশেষ করে আমাদের দেশে মাদক আসছে নিয়মিত, এটি বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। এখন সে নেই বরং তার খুনিরা এখনো গ্রেফতার হচ্ছেনা। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। সকল সাংবাদিক সংগঠন এক হোন যাতে ভবিষ্যতে কোন সহকর্মীকে এমনভাবে শেষ হতে না হয়।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: আবুল হোসেন গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এভাবে একজন সাংবাদিককে পিটিয়ে মেরে ফেলা যায় না। বিষয়টি গোটা দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম পরিচালিত অনলাইন পেইজটি ভিজিট করে দেখা গেছে সে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে ছাড় দিতনা। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং কতিপয় সাংবাদিকদের সঙ্গে তার সাপেনেউলে সম্পর্ক বিরাজ করছিল। নিজের নিরাপত্তার কারণে বেশ কিছু দিন ধরে কুমিল্লা শহরে বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করে। ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়িতে আসে। বিএমএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দ্বীন ইসলামের সাথে পূর্ব শত্রুতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হতে পারে।