মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আজ সোমবার বৈঠকে বসছেন জি৭ দেশের মন্ত্রীরা।
ফরাসি সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তেই থাকায় এই আলোচনা জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালায়। জবাবে তেহরান অঞ্চলটির তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
এর পাশাপাশি ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে জ্বালানি পরিবহনও বন্ধ করে দিয়েছে।
সরবরাহে এই চাপের কারণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে নানা শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থায়।
ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেস্কুর বলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জ্বালানি ও অর্থ মন্ত্রীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
তিনি আরও বলেন, সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ায় পার্থক্য রয়েছে। মূলত এই সংকটে কার কতটা প্রভাব পড়ছে, তার ওপরই তা নির্ভর করছে।
বিশেষ করে, এশিয়া অঞ্চল বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান রোলাঁ লেস্কুর।
ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আর্থিক বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব নিয়ে মতবিনিময়ের জন্যই এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, গত অর্ধশতাব্দীতে এই প্রথম এমন ফরম্যাটে জি৭ বৈঠক হচ্ছে।
জি৭ হলো বিশ্বের ধনী সাতটি দেশের একটি অনানুষ্ঠানিক জোট। এই জোটে রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান।
বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে এই জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধ ঠেকাতে জি৭-এর সমর্থন চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহের বৈঠকের পর জি৭-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা বলেন, এই প্রণালীতে অবাধ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ‘অত্যন্ত জরুরি’।
একই সঙ্গে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা ও সংঘাত কতদিন চলবে— এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাব ও পরিস্থিতি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সরকারগুলো কার্যকর নীতি নির্ধারণে হিমশিম খাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধের লক্ষ্য প্রায় অর্জিত হয়েছে। তবুও নজিরবিহীন সামরিক জোরদারে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।
ইরানের বাইরে থাকা কর্মীরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি বেসামরিক নাগরিক।
অন্যদিকে লেবাননের কর্মকর্তারা বলেছেন, ২ মার্চ হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরাইলের আক্রমণ শুরুর পর, সেখানে সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
ইসরাইল ও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশে হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।