ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসঙ্গে কাজ করছি: জামায়াত আমির ঢাকায় যাত্রাবিরতি ভুটানের রাজার, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

‎মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের সাবেক কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর কাঁঠালিয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনি নিয়মিত অফিস না করায় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এদিকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় নিয়মিত অফিস করতে পারছিলেন না। ঘটনার দিন সকালে আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী মোসাঃ রানী বেগমকে নিয়ে অফিসে এসে কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিকেলে মো. কামরুল ইসলাম অফিসে এসে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে রানী বেগমের মুখে আঘাত করেন। এতে তার দাড়ি ও গাল কেটে রক্তক্ষরণ হলে তিনি চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় জানানো হয়। এরপর রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী রানী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “সকালে স্বামীকে নিয়ে অফিসে এসে সারাদিন অপেক্ষা করি। বিকেলে কর্মকর্তা অফিসে আসলে তার স্বামী সালাম দিলে কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো আমার স্বামীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং নানা অভিযোগ তুলতে থাকেন। একপর্যায়ে কর্মকর্তা তার স্বামীকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মুখে আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তবে অভিযুক্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তারা নিজেরাই এমনটা করছে। আমি কাউকে মারধর করিনি।” আপনি যা পারেন করেন বলে মুঠোফোন কেটে দেয়।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৭:১৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

‎মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের সাবেক কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর কাঁঠালিয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনি নিয়মিত অফিস না করায় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এদিকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় নিয়মিত অফিস করতে পারছিলেন না। ঘটনার দিন সকালে আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী মোসাঃ রানী বেগমকে নিয়ে অফিসে এসে কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিকেলে মো. কামরুল ইসলাম অফিসে এসে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে রানী বেগমের মুখে আঘাত করেন। এতে তার দাড়ি ও গাল কেটে রক্তক্ষরণ হলে তিনি চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় জানানো হয়। এরপর রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী রানী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “সকালে স্বামীকে নিয়ে অফিসে এসে সারাদিন অপেক্ষা করি। বিকেলে কর্মকর্তা অফিসে আসলে তার স্বামী সালাম দিলে কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো আমার স্বামীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং নানা অভিযোগ তুলতে থাকেন। একপর্যায়ে কর্মকর্তা তার স্বামীকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মুখে আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তবে অভিযুক্ত উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তারা নিজেরাই এমনটা করছে। আমি কাউকে মারধর করিনি।” আপনি যা পারেন করেন বলে মুঠোফোন কেটে দেয়।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


প্রিন্ট