ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হালিশহরে সত্য আর মানবতার মহান ঈদে আজম উপলক্ষে সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত। গফরগাঁওয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে ৩ বছরের ২ শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রামে খ্রিস্টানদের প্রতারণা-হুমকির অভিযোগ, আলেমদের সহায়তায় ইসলামে ফিরলেন দেলু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্ম উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী সুনামগঞ্জে জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত তাহিরপুরে দোকানের গোডাউনের তালা ভেঙে ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরির মামলায় এক যুবক আটক ‎ সাব্বাস ট্রাফিক পুলিশ নবীপ্রেমে আদাবর ১০ নম্বর এলাকায় মিলাদ মাহফিল, আয়োজনে বশির মাইজভান্ডারী শিবপুরে তৃনমুল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়ার চিহ্নিত করন, ও বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত জমি জালিয়াতি, বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ; পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

নাসিককে মাদকমুক্ত আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা হবে : সাখাওয়াত হোসেন খান

যানজট, হকারের দৌরাত্ম্য এবং ভাঙাচোরা রাস্তা যেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) এক চেনা রূপ। নাগরিক জীবনের এই স্থবিরতা কাটিয়ে নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত, আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন নাসিকের নতুন প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নগরীর সংকট নিরসনে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি নুসরাত সুপ্তি।

নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার ৯০০ অটো রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এটা ছোট শহরের জন্য অকল্পনীয়। আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো : এই যানজট ও হকার সমস্যা সমাধান করা। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মূল সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না।’

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অন্যতম অগ্রাধিকার পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরে পানির লাইনে লিকেজ থাকায় মানুষ সুপেয় পানি পাচ্ছে না। আমরা বড় প্রজেক্ট নিয়েছি। ৩৪টি পাম্পের মধ্যে ৩২টিই পরিবর্তন করা হবে এবং পুরোনো পাইপলাইন বদলে ফেলা হবে। এছাড়া সামনে মশার মৌসুম আসছে। আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে একযোগে মশক নিধন অভিযান শুরু করেছি।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৬টি খাল আছে। এগুলোতে খনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে আমি নারায়ণগঞ্জ শহরকে ঝকঝকে করে তুলতে চাই।

নগরীর তরুণ সমাজের উন্নয়নেও নাসিক প্রশাসকের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে আমরা কাজ করছি। ৪২টি মাঠ উন্নয়নের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট ছোট খেলার মাঠ তৈরি করা হবে, যাতে কিশোররা বিপথে না যায়। আমি প্রশাসক হিসেবে নিরপেক্ষ থেকে সব দলের মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চাই

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান রাজপথের এক লড়াকু সৈনিক। নাসিক-এর প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার আগে তার রয়েছে দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক। প্রজ্ঞাবান এই রাজনীতিবিদ বাসসের সাথে আলাপকালে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আমি রাজপথ থেকে উঠে আসা কর্মী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমার আদর্শ। বিগত সরকারের আমলে আমাকে ও আমার পরিবারকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। গডফাদার শামীম ওসমান ও সাবেক ডিবি কর্মকর্তা হারুনের রোষানলে পড়েছি। আমার একমাত্র সন্তানকে অপহরণ করা হয়েছিল। আমাকেও বহুবার হত্যার চেষ্টা হয়েছে।

সাত খুন মামলা নিয়ে তার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, সে সময় আমি আইনজীবী হিসেবে নয়, একজন সচেতন মানুষ হিসেবে লড়াই করেছি। খুনিদের বিচার নিশ্চিতে কাজ করেছি। আমাকে অনেক টাকার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু আমি আদর্শ বিচ্যুত হইনি।

দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক কর্মকা- পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ অনিবার্য। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক সিটি করপোরেশন গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজের আত্মপ্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই প্রাজ্ঞ রাজনীতিক।
বাসসের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জীবনটাই চ্যালেঞ্জের। সৎ নিয়ত থাকলে কোনো বাঁধাই টলাতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমি এই শহরকে একটি আধুনিক নগরীতে পরিণত করব। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন নগরবাসীর চাহিদা পূরণে এমনভাবে কাজ করে যাবো, নগরবাসী যেন মনে রাখে যে, আমি তাদের জন্য কাজ করেছি। প্রশাসক হিসেবে আমি নিরপেক্ষ থাকব।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাসিকের উন্নয়নে সার্বিক নির্দেশনা দিয়েছেন।’

নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি তার ভালোবাসা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী অত্যন্ত সহজ-সরল। তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। তবে শহরকে সুন্দর রাখতে হলে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই মিলে এগিয়ে এলে আমরা একটি বাসযোগ্য আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে পারব।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হালিশহরে সত্য আর মানবতার মহান ঈদে আজম উপলক্ষে সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত।

নাসিককে মাদকমুক্ত আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা হবে : সাখাওয়াত হোসেন খান

আপডেট টাইম : ০৬:৩০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

যানজট, হকারের দৌরাত্ম্য এবং ভাঙাচোরা রাস্তা যেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) এক চেনা রূপ। নাগরিক জীবনের এই স্থবিরতা কাটিয়ে নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত, আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন নাসিকের নতুন প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নগরীর সংকট নিরসনে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি নুসরাত সুপ্তি।

নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার ৯০০ অটো রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এটা ছোট শহরের জন্য অকল্পনীয়। আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো : এই যানজট ও হকার সমস্যা সমাধান করা। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মূল সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না।’

নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অন্যতম অগ্রাধিকার পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরে পানির লাইনে লিকেজ থাকায় মানুষ সুপেয় পানি পাচ্ছে না। আমরা বড় প্রজেক্ট নিয়েছি। ৩৪টি পাম্পের মধ্যে ৩২টিই পরিবর্তন করা হবে এবং পুরোনো পাইপলাইন বদলে ফেলা হবে। এছাড়া সামনে মশার মৌসুম আসছে। আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে একযোগে মশক নিধন অভিযান শুরু করেছি।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৬টি খাল আছে। এগুলোতে খনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে আমি নারায়ণগঞ্জ শহরকে ঝকঝকে করে তুলতে চাই।

নগরীর তরুণ সমাজের উন্নয়নেও নাসিক প্রশাসকের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে আমরা কাজ করছি। ৪২টি মাঠ উন্নয়নের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট ছোট খেলার মাঠ তৈরি করা হবে, যাতে কিশোররা বিপথে না যায়। আমি প্রশাসক হিসেবে নিরপেক্ষ থেকে সব দলের মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চাই

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান রাজপথের এক লড়াকু সৈনিক। নাসিক-এর প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার আগে তার রয়েছে দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক। প্রজ্ঞাবান এই রাজনীতিবিদ বাসসের সাথে আলাপকালে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আমি রাজপথ থেকে উঠে আসা কর্মী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমার আদর্শ। বিগত সরকারের আমলে আমাকে ও আমার পরিবারকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। গডফাদার শামীম ওসমান ও সাবেক ডিবি কর্মকর্তা হারুনের রোষানলে পড়েছি। আমার একমাত্র সন্তানকে অপহরণ করা হয়েছিল। আমাকেও বহুবার হত্যার চেষ্টা হয়েছে।

সাত খুন মামলা নিয়ে তার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, সে সময় আমি আইনজীবী হিসেবে নয়, একজন সচেতন মানুষ হিসেবে লড়াই করেছি। খুনিদের বিচার নিশ্চিতে কাজ করেছি। আমাকে অনেক টাকার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু আমি আদর্শ বিচ্যুত হইনি।

দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক কর্মকা- পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ অনিবার্য। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক সিটি করপোরেশন গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজের আত্মপ্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই প্রাজ্ঞ রাজনীতিক।
বাসসের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জীবনটাই চ্যালেঞ্জের। সৎ নিয়ত থাকলে কোনো বাঁধাই টলাতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমি এই শহরকে একটি আধুনিক নগরীতে পরিণত করব। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন নগরবাসীর চাহিদা পূরণে এমনভাবে কাজ করে যাবো, নগরবাসী যেন মনে রাখে যে, আমি তাদের জন্য কাজ করেছি। প্রশাসক হিসেবে আমি নিরপেক্ষ থাকব।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাসিকের উন্নয়নে সার্বিক নির্দেশনা দিয়েছেন।’

নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি তার ভালোবাসা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী অত্যন্ত সহজ-সরল। তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। তবে শহরকে সুন্দর রাখতে হলে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই মিলে এগিয়ে এলে আমরা একটি বাসযোগ্য আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে পারব।


প্রিন্ট