ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর ব্ল্যাক কফি কী সত্যিই ওজন কমাতে পারে? ঝগড়ার পরে সম্পর্ক ঠিক করতে কী করবেন? ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ বিলিয়ন ডলার’ গণমাধ্যমের ওপর সরকারি পদক্ষেপে বিরোধী দলকে পাশে চাইলেন সম্পাদকরা সালমান শাহ হত্যা: ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি চড়া দামে বিক্রি হল ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল

পিরোজপুর পৌরসভায় পানির জন্য তীব্র হাহাকার

জাকির হোসেনঃ

 

 

 

পিরোজপুর পৌরসভায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পুরানো পদ্ধতি বিদ্যমান থাকায় শুকনো মৌসুমসহ বছর জুড়ে নৈরাজ্যকর অবস্থা লেগেই থাকে। বর্তমানে পৌরবাসীর মধ্যে পানির জন্য হাহাকার চলছে।

৩৫০০ সংযোগে পানি সরবরাহে সক্ষম ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দিয়ে দিনে প্রায় ৮০০০ সংযোগে পানি দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ শুধু হিমশিমই খাচ্ছে না, পৌরবাসীর কাছে একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসাবে সুনাম অর্জন করেছেন। এই দুরাবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সম্প্রতি এক দল নাগরিক পৌর ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নেন এবং কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সার্বিক অবস্থায় পানি সরবরাহসহ পৌর সেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পৌর ভবনে নাগরিকদের সাথে কর্তৃপক্ষ এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত পৌর নাগরিকগণ দ্রুত পানি সমস্যা সমাধান দাবী করেন।

পিরোজপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজ সেবক হাসান মাতুব্বর জানান, তার ওয়ার্ডে বাসিন্দা প্রায় ১৫ হাজার। সেখানে তিন দিনেও একবার পানি পাওয়া যায় না। ৭নং ওয়ার্ডের , সাংবাদিক সোহরাব হোসেন জুয়েল , আব্দুর রাজ্জাক, এনামুল কবির , মাওলানা শওকত ,ব্যবসায়ী আজাদ, কর্মকর্তা নাসির, আলমগীর, বেলায়েত হোসেন, ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ,রানু বিবি ,অভিযোগ করে বলেন, শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা হয়েও ১ দিন একবার অনিয়মিত ভাবে স্বল্প সময় পানি পাওয়া যায়। ৭নং ওয়ার্ডের মাতৃসদন সড়কের বাসিন্দা বশির আহমেদ খান অভিযোগ করে বলেন, পৌরসভার লাইনে ৩ দিনেও পানি আসে না। তিনি গভীর নলকূপের সাহায্যে পানি সংগ্রহ করেন। বিশিষ্ট পৌর নাগরিক পজিটিভ পিরোজপুর নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, পিরোজপুর পৌরসভার আয়ের উৎস হচ্ছে পানি সরবরাহ খাত থেকে প্রাপ্ত কর। এই অর্থ দিয়ে পৌরসভার বেশীরভাগ ব্যয় মেটানো হয়। কিন্তু পানি সরবরাহ প্রকল্পের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাত অবহেলিত থাকছে।

পিরোজপুর রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা কাজী আব্দুর রউফ বলেন, তাদের এলাকার বাসিন্দারা পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুরানো গ্রাহক হলেও কাঙ্খিত পানি পান না।

শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সালাম খান, সাংবাদিক নেছার উদ্দিন বলেন, আমরা নিয়মিত পানির বিল দিচ্ছি, পৌর কর দিচ্ছি, অথচ পৌরসবা থেকে নূন্যতম নাগরিক সুবিধাটুকুও পাচ্ছি না। পৌর এলাকায় পানির জন্য হাহাকার চলছে। পানির অভাবে গোসল করা যাচ্ছেনা, এমনকি বাথরুমের জন্যও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পৌর পানি সরবরাহের ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি নাগরিক সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ, বলেশ্বরনদীতে পানির স্বল্পতা, পুকুর ভরাট হওয়া, দীর্ঘদিনের প্রাচীন ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ছোট-বড় ব্যয়বহুল মেরামত ইত্যাদি সমস্যায় নিমজ্জিত। এসব প্রতিবন্ধকতার কারনে পৌর এলাকার মাত্র ৪০ শতাংশ এলাকায় পানি সরবরাহকারী প্রকল্পটি নাগরিকদের সন্তোষজনক সুবিধা প্রদানেও অক্ষম। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪, ৫ ও ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রায় ৮০০০ সংযোগের মধ্যে নিয়মিত-অনিয়মিত পানি সুবিধা পাচ্ছে। আধা ইঞ্চি থেকে চার ইঞ্চি ডায়া ও ব্যাসের ৮৫ কিলোমিটার বিতরন লাইন ও ৮০ কিলোমিটার সেকশন লাইনের মাধ্যমে এই তিনটি ওয়ার্ডের সম্পূর্ন এলাকা এবং ২, ৬ ও ৮নং ওয়ার্ডের অতি সীমিত এলাকার মানুষ পানি সরবরাহভূক্ত। ১, ৩ ও ৯ নং ওয়ার্ড প্রকল্প এলাকায় আদৌ কোন সুবিধা পায় না।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ১৬.০ একর জমির উপর পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরী করে ১৯৯৯ সালে পিরোজপুর পৌরসভাকে হস্তান্তর করে। তখন থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ করে শহরে পানি সরবরাহ করে আসছে। পিরোজপুর পৌর এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানিতে লবনাক্ততা, আর্সেনিকসহ অনেক প্রকার ক্ষতিকর জীবানু রয়েছে। তাছাড়া পানির স্তর না থাকায় বিকল্প সারফেস ওয়াটার অর্থাৎ নদীর পানি উত্তোলন করে তা বিশুদ্ধকরণ করে শহরে সরবরাহ করা হয়। দু’টি ওভারহেড ট্যাংকে রেখে পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় বলে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কর্মচারী রইস উদ্দিন জানান। প্রতিটি ওভারহেড ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ছয় লাখ ৮০ হাজার লিটার। প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘন্টা ছয়টি মটর পাম্পের মাধ্যমে শহরের শতকরা ৪০ শতাংশ এলাকায় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পিরোজপুর পৌরসভায় পানির জন্য তীব্র হাহাকার

আপডেট টাইম : ০৩:০৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

জাকির হোসেনঃ

 

 

 

পিরোজপুর পৌরসভায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পুরানো পদ্ধতি বিদ্যমান থাকায় শুকনো মৌসুমসহ বছর জুড়ে নৈরাজ্যকর অবস্থা লেগেই থাকে। বর্তমানে পৌরবাসীর মধ্যে পানির জন্য হাহাকার চলছে।

৩৫০০ সংযোগে পানি সরবরাহে সক্ষম ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দিয়ে দিনে প্রায় ৮০০০ সংযোগে পানি দিতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ শুধু হিমশিমই খাচ্ছে না, পৌরবাসীর কাছে একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসাবে সুনাম অর্জন করেছেন। এই দুরাবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সম্প্রতি এক দল নাগরিক পৌর ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নেন এবং কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সার্বিক অবস্থায় পানি সরবরাহসহ পৌর সেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পৌর ভবনে নাগরিকদের সাথে কর্তৃপক্ষ এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত পৌর নাগরিকগণ দ্রুত পানি সমস্যা সমাধান দাবী করেন।

পিরোজপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজ সেবক হাসান মাতুব্বর জানান, তার ওয়ার্ডে বাসিন্দা প্রায় ১৫ হাজার। সেখানে তিন দিনেও একবার পানি পাওয়া যায় না। ৭নং ওয়ার্ডের , সাংবাদিক সোহরাব হোসেন জুয়েল , আব্দুর রাজ্জাক, এনামুল কবির , মাওলানা শওকত ,ব্যবসায়ী আজাদ, কর্মকর্তা নাসির, আলমগীর, বেলায়েত হোসেন, ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ,রানু বিবি ,অভিযোগ করে বলেন, শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা হয়েও ১ দিন একবার অনিয়মিত ভাবে স্বল্প সময় পানি পাওয়া যায়। ৭নং ওয়ার্ডের মাতৃসদন সড়কের বাসিন্দা বশির আহমেদ খান অভিযোগ করে বলেন, পৌরসভার লাইনে ৩ দিনেও পানি আসে না। তিনি গভীর নলকূপের সাহায্যে পানি সংগ্রহ করেন। বিশিষ্ট পৌর নাগরিক পজিটিভ পিরোজপুর নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, পিরোজপুর পৌরসভার আয়ের উৎস হচ্ছে পানি সরবরাহ খাত থেকে প্রাপ্ত কর। এই অর্থ দিয়ে পৌরসভার বেশীরভাগ ব্যয় মেটানো হয়। কিন্তু পানি সরবরাহ প্রকল্পের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাত অবহেলিত থাকছে।

পিরোজপুর রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা কাজী আব্দুর রউফ বলেন, তাদের এলাকার বাসিন্দারা পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুরানো গ্রাহক হলেও কাঙ্খিত পানি পান না।

শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সালাম খান, সাংবাদিক নেছার উদ্দিন বলেন, আমরা নিয়মিত পানির বিল দিচ্ছি, পৌর কর দিচ্ছি, অথচ পৌরসবা থেকে নূন্যতম নাগরিক সুবিধাটুকুও পাচ্ছি না। পৌর এলাকায় পানির জন্য হাহাকার চলছে। পানির অভাবে গোসল করা যাচ্ছেনা, এমনকি বাথরুমের জন্যও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পৌর পানি সরবরাহের ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি নাগরিক সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ, বলেশ্বরনদীতে পানির স্বল্পতা, পুকুর ভরাট হওয়া, দীর্ঘদিনের প্রাচীন ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ছোট-বড় ব্যয়বহুল মেরামত ইত্যাদি সমস্যায় নিমজ্জিত। এসব প্রতিবন্ধকতার কারনে পৌর এলাকার মাত্র ৪০ শতাংশ এলাকায় পানি সরবরাহকারী প্রকল্পটি নাগরিকদের সন্তোষজনক সুবিধা প্রদানেও অক্ষম। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪, ৫ ও ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রায় ৮০০০ সংযোগের মধ্যে নিয়মিত-অনিয়মিত পানি সুবিধা পাচ্ছে। আধা ইঞ্চি থেকে চার ইঞ্চি ডায়া ও ব্যাসের ৮৫ কিলোমিটার বিতরন লাইন ও ৮০ কিলোমিটার সেকশন লাইনের মাধ্যমে এই তিনটি ওয়ার্ডের সম্পূর্ন এলাকা এবং ২, ৬ ও ৮নং ওয়ার্ডের অতি সীমিত এলাকার মানুষ পানি সরবরাহভূক্ত। ১, ৩ ও ৯ নং ওয়ার্ড প্রকল্প এলাকায় আদৌ কোন সুবিধা পায় না।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ১৬.০ একর জমির উপর পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরী করে ১৯৯৯ সালে পিরোজপুর পৌরসভাকে হস্তান্তর করে। তখন থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ করে শহরে পানি সরবরাহ করে আসছে। পিরোজপুর পৌর এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানিতে লবনাক্ততা, আর্সেনিকসহ অনেক প্রকার ক্ষতিকর জীবানু রয়েছে। তাছাড়া পানির স্তর না থাকায় বিকল্প সারফেস ওয়াটার অর্থাৎ নদীর পানি উত্তোলন করে তা বিশুদ্ধকরণ করে শহরে সরবরাহ করা হয়। দু’টি ওভারহেড ট্যাংকে রেখে পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় বলে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কর্মচারী রইস উদ্দিন জানান। প্রতিটি ওভারহেড ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ছয় লাখ ৮০ হাজার লিটার। প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘন্টা ছয়টি মটর পাম্পের মাধ্যমে শহরের শতকরা ৪০ শতাংশ এলাকায় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়।


প্রিন্ট