ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর ব্ল্যাক কফি কী সত্যিই ওজন কমাতে পারে? ঝগড়ার পরে সম্পর্ক ঠিক করতে কী করবেন? ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ বিলিয়ন ডলার’ গণমাধ্যমের ওপর সরকারি পদক্ষেপে বিরোধী দলকে পাশে চাইলেন সম্পাদকরা সালমান শাহ হত্যা: ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি চড়া দামে বিক্রি হল ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল

জীবন্ত মানুষকে খাচ্ছে পোকা, খবর পেয়ে ছুটে গেলেন সাংসদ এসএম জাহাঙ্গীর

 

হাফসা আক্তার :
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের কাছে গতকাল দুপুরে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র ফটোগ্রাফার মো. খালেদ ইবনে এম এ রব। কান্নামাখা কণ্ঠে খালেদ বলেন, “ভাই, এয়ারপোর্ট ফুটওভার ব্রিজের নিচে একজন মহিলার মাথা পোকায় খাচ্ছে। সম্ভবত দুর্ঘটনায় মাথা ফেটে গিয়েছিল। এরপর আর চিকিৎসা হয়নি। মাথার ক্ষতস্থানে সংক্রমণ এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে সেখানে অসংখ্য পোকা বাসা বেঁধেছে।”

ঘটনা শুনে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি ওখানে যাচ্ছি।” পাশে থাকা তাঁর সহধর্মিণীও বললেন, “আমিও সঙ্গে যাব।”

এর মধ্যে এস এম জাহাঙ্গীর বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে অসুস্থ নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলেন। পরে তাঁকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের আসার খবর পেয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমানও ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। ঘটনা শুনে টেলিফোনে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আমান।

কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ নারীর মাথায় শত শত পোকা বাসা বেঁধেছে। সেগুলো বের হয়ে আসছে হাসপাতালের বিছানায়। চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁকে সুস্থ করে তুলতে।

এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “যে কোনো প্রয়োজনে আমি সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।” হাসপাতালের পরিচালক অসুস্থ নারীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে আফসোস করে বলেন, “এমন বাস্তুহারা রোগীর চিকিৎসা আগেও করেছি। কিন্তু চিকিৎসা শেষে তাঁদের হস্তান্তর করার মতো কাউকে পাই না।”
এ কথা শুনে সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী রাজিয়া সুলতানা বলেন, “চিকিৎসা শেষে এই নারীর পুনর্বাসনের দায়িত্ব আমি নেব।”

এমন গৃহহীন, স্বজনহীন ও অসহায় মানুষের সংখ্যা আমাদের সমাজে কম নয়। কিন্তু তাঁদের দিকে আমরা সচরাচর ফিরেও তাকাই না। অথচ দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে তাঁদের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষ হিসেবে আমাদের সবারই চেষ্টা করা উচিত যার যার অবস্থান থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জীবন্ত মানুষকে খাচ্ছে পোকা, খবর পেয়ে ছুটে গেলেন সাংসদ এসএম জাহাঙ্গীর

আপডেট টাইম : ০৪:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

হাফসা আক্তার :
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের কাছে গতকাল দুপুরে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র ফটোগ্রাফার মো. খালেদ ইবনে এম এ রব। কান্নামাখা কণ্ঠে খালেদ বলেন, “ভাই, এয়ারপোর্ট ফুটওভার ব্রিজের নিচে একজন মহিলার মাথা পোকায় খাচ্ছে। সম্ভবত দুর্ঘটনায় মাথা ফেটে গিয়েছিল। এরপর আর চিকিৎসা হয়নি। মাথার ক্ষতস্থানে সংক্রমণ এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে সেখানে অসংখ্য পোকা বাসা বেঁধেছে।”

ঘটনা শুনে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি ওখানে যাচ্ছি।” পাশে থাকা তাঁর সহধর্মিণীও বললেন, “আমিও সঙ্গে যাব।”

এর মধ্যে এস এম জাহাঙ্গীর বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে অসুস্থ নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলেন। পরে তাঁকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের আসার খবর পেয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমানও ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। ঘটনা শুনে টেলিফোনে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আমান।

কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ নারীর মাথায় শত শত পোকা বাসা বেঁধেছে। সেগুলো বের হয়ে আসছে হাসপাতালের বিছানায়। চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁকে সুস্থ করে তুলতে।

এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “যে কোনো প্রয়োজনে আমি সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।” হাসপাতালের পরিচালক অসুস্থ নারীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে আফসোস করে বলেন, “এমন বাস্তুহারা রোগীর চিকিৎসা আগেও করেছি। কিন্তু চিকিৎসা শেষে তাঁদের হস্তান্তর করার মতো কাউকে পাই না।”
এ কথা শুনে সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী রাজিয়া সুলতানা বলেন, “চিকিৎসা শেষে এই নারীর পুনর্বাসনের দায়িত্ব আমি নেব।”

এমন গৃহহীন, স্বজনহীন ও অসহায় মানুষের সংখ্যা আমাদের সমাজে কম নয়। কিন্তু তাঁদের দিকে আমরা সচরাচর ফিরেও তাকাই না। অথচ দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে তাঁদের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষ হিসেবে আমাদের সবারই চেষ্টা করা উচিত যার যার অবস্থান থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর।


প্রিন্ট