ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম পটুয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার কুমিল্লায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৯ ট্রেডে প্রশিক্ষণ শুরু নোয়াখালীতে অনিয়মের অভিযোগে দুই হাসপাতালকে জরিমানা

জীবন্ত মানুষকে খাচ্ছে পোকা, খবর পেয়ে ছুটে গেলেন সাংসদ এসএম জাহাঙ্গীর

 

হাফসা আক্তার :
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের কাছে গতকাল দুপুরে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র ফটোগ্রাফার মো. খালেদ ইবনে এম এ রব। কান্নামাখা কণ্ঠে খালেদ বলেন, “ভাই, এয়ারপোর্ট ফুটওভার ব্রিজের নিচে একজন মহিলার মাথা পোকায় খাচ্ছে। সম্ভবত দুর্ঘটনায় মাথা ফেটে গিয়েছিল। এরপর আর চিকিৎসা হয়নি। মাথার ক্ষতস্থানে সংক্রমণ এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে সেখানে অসংখ্য পোকা বাসা বেঁধেছে।”

ঘটনা শুনে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি ওখানে যাচ্ছি।” পাশে থাকা তাঁর সহধর্মিণীও বললেন, “আমিও সঙ্গে যাব।”

এর মধ্যে এস এম জাহাঙ্গীর বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে অসুস্থ নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলেন। পরে তাঁকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের আসার খবর পেয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমানও ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। ঘটনা শুনে টেলিফোনে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আমান।

কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ নারীর মাথায় শত শত পোকা বাসা বেঁধেছে। সেগুলো বের হয়ে আসছে হাসপাতালের বিছানায়। চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁকে সুস্থ করে তুলতে।

এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “যে কোনো প্রয়োজনে আমি সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।” হাসপাতালের পরিচালক অসুস্থ নারীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে আফসোস করে বলেন, “এমন বাস্তুহারা রোগীর চিকিৎসা আগেও করেছি। কিন্তু চিকিৎসা শেষে তাঁদের হস্তান্তর করার মতো কাউকে পাই না।”
এ কথা শুনে সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী রাজিয়া সুলতানা বলেন, “চিকিৎসা শেষে এই নারীর পুনর্বাসনের দায়িত্ব আমি নেব।”

এমন গৃহহীন, স্বজনহীন ও অসহায় মানুষের সংখ্যা আমাদের সমাজে কম নয়। কিন্তু তাঁদের দিকে আমরা সচরাচর ফিরেও তাকাই না। অথচ দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে তাঁদের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষ হিসেবে আমাদের সবারই চেষ্টা করা উচিত যার যার অবস্থান থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার

জীবন্ত মানুষকে খাচ্ছে পোকা, খবর পেয়ে ছুটে গেলেন সাংসদ এসএম জাহাঙ্গীর

আপডেট টাইম : ০৪:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

হাফসা আক্তার :
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের কাছে গতকাল দুপুরে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র ফটোগ্রাফার মো. খালেদ ইবনে এম এ রব। কান্নামাখা কণ্ঠে খালেদ বলেন, “ভাই, এয়ারপোর্ট ফুটওভার ব্রিজের নিচে একজন মহিলার মাথা পোকায় খাচ্ছে। সম্ভবত দুর্ঘটনায় মাথা ফেটে গিয়েছিল। এরপর আর চিকিৎসা হয়নি। মাথার ক্ষতস্থানে সংক্রমণ এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে সেখানে অসংখ্য পোকা বাসা বেঁধেছে।”

ঘটনা শুনে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি ওখানে যাচ্ছি।” পাশে থাকা তাঁর সহধর্মিণীও বললেন, “আমিও সঙ্গে যাব।”

এর মধ্যে এস এম জাহাঙ্গীর বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে অসুস্থ নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলেন। পরে তাঁকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের আসার খবর পেয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমানও ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। ঘটনা শুনে টেলিফোনে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আমান।

কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ নারীর মাথায় শত শত পোকা বাসা বেঁধেছে। সেগুলো বের হয়ে আসছে হাসপাতালের বিছানায়। চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁকে সুস্থ করে তুলতে।

এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “যে কোনো প্রয়োজনে আমি সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।” হাসপাতালের পরিচালক অসুস্থ নারীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে আফসোস করে বলেন, “এমন বাস্তুহারা রোগীর চিকিৎসা আগেও করেছি। কিন্তু চিকিৎসা শেষে তাঁদের হস্তান্তর করার মতো কাউকে পাই না।”
এ কথা শুনে সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী রাজিয়া সুলতানা বলেন, “চিকিৎসা শেষে এই নারীর পুনর্বাসনের দায়িত্ব আমি নেব।”

এমন গৃহহীন, স্বজনহীন ও অসহায় মানুষের সংখ্যা আমাদের সমাজে কম নয়। কিন্তু তাঁদের দিকে আমরা সচরাচর ফিরেও তাকাই না। অথচ দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে তাঁদের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষ হিসেবে আমাদের সবারই চেষ্টা করা উচিত যার যার অবস্থান থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর।


প্রিন্ট