ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ২০২৬-২০২৮ সাধারণ গ্রুপের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে তালম ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিডি ও তরুণীর অনশন উন্মোচিত চার ভাইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য নরসিংদী তে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট জনগণের ভালোবাসায় মির্জা ফখরুল: নীতি, আদর্শ ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ সংসদ কক্ষে নিজের আসনে বসে ভোট গ্রহণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর আপনারা যেমন তার যত্ন করেন ঠিক সেইভাবে শিশু চারাটিকেও প্রতিদিন যত্ন করতে হবে-ইউএনও, এটিএম কামরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রত্যাশা সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে অসংখ্য মানুষ ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায়। এই সমস্যাটি থাকলে বাড়ে হার্টের রোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি। তাই সুস্থ থাকতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। বেশিরভাগ মানুষ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ খান। তবে কেবল ওষুধ নয়, এজন্য লাইফস্টাইলেও জোর দিতে হবে।

বিশেষ করে খেতে হবে বুঝেশুনে। বেশি লবণ খাওয়া যাবে না। পাতে রাখতে হবে কাঁচা সবজি, শাক, দানাশস্য, ফল ইত্যাদি। এছাড়াও কিছু পানীয় রয়েছে যা রোজ সকালে খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। কী সেগুলো? চলুন জানা যাক-

জবা ফুলের চা (হিবিস্কাস টি)
যাদের ক্যাফেইনে সমস্যা আছে, তারা গ্রিন টি-র বদলে জবা ফুলের চা বেছে নিতে পারেন। এই চা ঠাণ্ডা বা গরম— দুইভাবেই খাওয়া যায়।

জবা ফুলে থাকা ‘পলিফেনল’ রক্তনালিগুলোকে শিথিল করে দেয়, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই চা রক্তচাপের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো করে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

বেদানার রস
বেদানা কেবল সুস্বাদু ফলই নয়, এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের প্রদাহ (ইনফ্লেমেশন) কমাতে সাহায্য করে। বেদানার রস রক্তনালি সচল রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

তবে বাজার থেকে কেনা চিনিযুক্ত জুস না খেয়ে, বাড়িতে তৈরি করা খাঁটি বেদানার রস খাওয়া বেশি কার্যকরী।

বিটের রস
বিট হলো ‘ডায়েটারি নাইট্রেট’-এর একটি দুর্দান্ত উৎস। এই রস শরীরে যাওয়ার পর নাইট্রেট উপাদানটি ‘নাইট্রিক অক্সাইড’-এ পরিণত হয়। এটি রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই রস যেমন উপকারি, তেমনই এটি শারীরিক কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

লেবু পানি
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা ঈষদুষ্ণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। লেবুর রসে থাকে ভিটামিন সি, যা শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এই পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। তাই রোজ সকাল শুরু করুন এক গ্লাস লেবু-পানি দিয়ে।

ডাবের পানি
প্রেশারের রোগীরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাবের পানি খান। এই পানীয় শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ডাবের পানিতে সোডিয়ামও থাকে পরিমিত মাত্রায়। তাই এটি পানে রক্তচাপ বাড়ে না। বরং, এই পানীয় শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সকালে শরীরচর্চা করার পর ডাবের পানি খেতে পারেন।

গ্রিন টি
চিনি-দুধ দিয়ে চা বা কফি খাওয়া বাদ দিন। তার বদলে গ্রিন টি পান করুন। গ্রিন টি’র মধ্যেও ক্যাফেইন রয়েছে, কিন্তু এতে ক্যাটেচিনের মাত্রা বেশি। এই উপাদান রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। দিনে ২-৩ কাপ গ্রিন টি খেতে পারেন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবল পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রেশার মাপা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সুষম জীবনযাপন করা জরুরি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে যৌথ অভিযানে ভারতীয় ১৩ লাখ টাকার মোবাইলসহ এনামুল আ/টক

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়

আপডেট টাইম : ১০:৫১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে অসংখ্য মানুষ ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায়। এই সমস্যাটি থাকলে বাড়ে হার্টের রোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি। তাই সুস্থ থাকতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। বেশিরভাগ মানুষ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ খান। তবে কেবল ওষুধ নয়, এজন্য লাইফস্টাইলেও জোর দিতে হবে।

বিশেষ করে খেতে হবে বুঝেশুনে। বেশি লবণ খাওয়া যাবে না। পাতে রাখতে হবে কাঁচা সবজি, শাক, দানাশস্য, ফল ইত্যাদি। এছাড়াও কিছু পানীয় রয়েছে যা রোজ সকালে খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। কী সেগুলো? চলুন জানা যাক-

জবা ফুলের চা (হিবিস্কাস টি)
যাদের ক্যাফেইনে সমস্যা আছে, তারা গ্রিন টি-র বদলে জবা ফুলের চা বেছে নিতে পারেন। এই চা ঠাণ্ডা বা গরম— দুইভাবেই খাওয়া যায়।

জবা ফুলে থাকা ‘পলিফেনল’ রক্তনালিগুলোকে শিথিল করে দেয়, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই চা রক্তচাপের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো করে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

বেদানার রস
বেদানা কেবল সুস্বাদু ফলই নয়, এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের প্রদাহ (ইনফ্লেমেশন) কমাতে সাহায্য করে। বেদানার রস রক্তনালি সচল রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

তবে বাজার থেকে কেনা চিনিযুক্ত জুস না খেয়ে, বাড়িতে তৈরি করা খাঁটি বেদানার রস খাওয়া বেশি কার্যকরী।

বিটের রস
বিট হলো ‘ডায়েটারি নাইট্রেট’-এর একটি দুর্দান্ত উৎস। এই রস শরীরে যাওয়ার পর নাইট্রেট উপাদানটি ‘নাইট্রিক অক্সাইড’-এ পরিণত হয়। এটি রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই রস যেমন উপকারি, তেমনই এটি শারীরিক কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

লেবু পানি
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা ঈষদুষ্ণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। লেবুর রসে থাকে ভিটামিন সি, যা শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এই পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। তাই রোজ সকাল শুরু করুন এক গ্লাস লেবু-পানি দিয়ে।

ডাবের পানি
প্রেশারের রোগীরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাবের পানি খান। এই পানীয় শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ডাবের পানিতে সোডিয়ামও থাকে পরিমিত মাত্রায়। তাই এটি পানে রক্তচাপ বাড়ে না। বরং, এই পানীয় শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সকালে শরীরচর্চা করার পর ডাবের পানি খেতে পারেন।

গ্রিন টি
চিনি-দুধ দিয়ে চা বা কফি খাওয়া বাদ দিন। তার বদলে গ্রিন টি পান করুন। গ্রিন টি’র মধ্যেও ক্যাফেইন রয়েছে, কিন্তু এতে ক্যাটেচিনের মাত্রা বেশি। এই উপাদান রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। দিনে ২-৩ কাপ গ্রিন টি খেতে পারেন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবল পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রেশার মাপা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সুষম জীবনযাপন করা জরুরি।


প্রিন্ট