ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে অসংখ্য মানুষ ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায়। এই সমস্যাটি থাকলে বাড়ে হার্টের রোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি। তাই সুস্থ থাকতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। বেশিরভাগ মানুষ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ খান। তবে কেবল ওষুধ নয়, এজন্য লাইফস্টাইলেও জোর দিতে হবে।

বিশেষ করে খেতে হবে বুঝেশুনে। বেশি লবণ খাওয়া যাবে না। পাতে রাখতে হবে কাঁচা সবজি, শাক, দানাশস্য, ফল ইত্যাদি। এছাড়াও কিছু পানীয় রয়েছে যা রোজ সকালে খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। কী সেগুলো? চলুন জানা যাক-

জবা ফুলের চা (হিবিস্কাস টি)
যাদের ক্যাফেইনে সমস্যা আছে, তারা গ্রিন টি-র বদলে জবা ফুলের চা বেছে নিতে পারেন। এই চা ঠাণ্ডা বা গরম— দুইভাবেই খাওয়া যায়।

জবা ফুলে থাকা ‘পলিফেনল’ রক্তনালিগুলোকে শিথিল করে দেয়, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই চা রক্তচাপের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো করে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

বেদানার রস
বেদানা কেবল সুস্বাদু ফলই নয়, এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের প্রদাহ (ইনফ্লেমেশন) কমাতে সাহায্য করে। বেদানার রস রক্তনালি সচল রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

তবে বাজার থেকে কেনা চিনিযুক্ত জুস না খেয়ে, বাড়িতে তৈরি করা খাঁটি বেদানার রস খাওয়া বেশি কার্যকরী।

বিটের রস
বিট হলো ‘ডায়েটারি নাইট্রেট’-এর একটি দুর্দান্ত উৎস। এই রস শরীরে যাওয়ার পর নাইট্রেট উপাদানটি ‘নাইট্রিক অক্সাইড’-এ পরিণত হয়। এটি রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই রস যেমন উপকারি, তেমনই এটি শারীরিক কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

লেবু পানি
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা ঈষদুষ্ণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। লেবুর রসে থাকে ভিটামিন সি, যা শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এই পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। তাই রোজ সকাল শুরু করুন এক গ্লাস লেবু-পানি দিয়ে।

ডাবের পানি
প্রেশারের রোগীরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাবের পানি খান। এই পানীয় শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ডাবের পানিতে সোডিয়ামও থাকে পরিমিত মাত্রায়। তাই এটি পানে রক্তচাপ বাড়ে না। বরং, এই পানীয় শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সকালে শরীরচর্চা করার পর ডাবের পানি খেতে পারেন।

গ্রিন টি
চিনি-দুধ দিয়ে চা বা কফি খাওয়া বাদ দিন। তার বদলে গ্রিন টি পান করুন। গ্রিন টি’র মধ্যেও ক্যাফেইন রয়েছে, কিন্তু এতে ক্যাটেচিনের মাত্রা বেশি। এই উপাদান রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। দিনে ২-৩ কাপ গ্রিন টি খেতে পারেন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবল পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রেশার মাপা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সুষম জীবনযাপন করা জরুরি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যেসব পানীয়

আপডেট টাইম : ১০:৫১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে অসংখ্য মানুষ ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায়। এই সমস্যাটি থাকলে বাড়ে হার্টের রোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি। তাই সুস্থ থাকতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। বেশিরভাগ মানুষ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ খান। তবে কেবল ওষুধ নয়, এজন্য লাইফস্টাইলেও জোর দিতে হবে।

বিশেষ করে খেতে হবে বুঝেশুনে। বেশি লবণ খাওয়া যাবে না। পাতে রাখতে হবে কাঁচা সবজি, শাক, দানাশস্য, ফল ইত্যাদি। এছাড়াও কিছু পানীয় রয়েছে যা রোজ সকালে খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। কী সেগুলো? চলুন জানা যাক-

জবা ফুলের চা (হিবিস্কাস টি)
যাদের ক্যাফেইনে সমস্যা আছে, তারা গ্রিন টি-র বদলে জবা ফুলের চা বেছে নিতে পারেন। এই চা ঠাণ্ডা বা গরম— দুইভাবেই খাওয়া যায়।

জবা ফুলে থাকা ‘পলিফেনল’ রক্তনালিগুলোকে শিথিল করে দেয়, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি-তে ভরপুর এই চা রক্তচাপের পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজম ভালো করে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

বেদানার রস
বেদানা কেবল সুস্বাদু ফলই নয়, এটি হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের প্রদাহ (ইনফ্লেমেশন) কমাতে সাহায্য করে। বেদানার রস রক্তনালি সচল রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

তবে বাজার থেকে কেনা চিনিযুক্ত জুস না খেয়ে, বাড়িতে তৈরি করা খাঁটি বেদানার রস খাওয়া বেশি কার্যকরী।

বিটের রস
বিট হলো ‘ডায়েটারি নাইট্রেট’-এর একটি দুর্দান্ত উৎস। এই রস শরীরে যাওয়ার পর নাইট্রেট উপাদানটি ‘নাইট্রিক অক্সাইড’-এ পরিণত হয়। এটি রক্তনালিকে প্রসারিত ও শিথিল করে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই রস যেমন উপকারি, তেমনই এটি শারীরিক কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

লেবু পানি
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা ঈষদুষ্ণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। লেবুর রসে থাকে ভিটামিন সি, যা শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এই পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। তাই রোজ সকাল শুরু করুন এক গ্লাস লেবু-পানি দিয়ে।

ডাবের পানি
প্রেশারের রোগীরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাবের পানি খান। এই পানীয় শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ডাবের পানিতে সোডিয়ামও থাকে পরিমিত মাত্রায়। তাই এটি পানে রক্তচাপ বাড়ে না। বরং, এই পানীয় শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সকালে শরীরচর্চা করার পর ডাবের পানি খেতে পারেন।

গ্রিন টি
চিনি-দুধ দিয়ে চা বা কফি খাওয়া বাদ দিন। তার বদলে গ্রিন টি পান করুন। গ্রিন টি’র মধ্যেও ক্যাফেইন রয়েছে, কিন্তু এতে ক্যাটেচিনের মাত্রা বেশি। এই উপাদান রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। দিনে ২-৩ কাপ গ্রিন টি খেতে পারেন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেবল পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রেশার মাপা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সুষম জীবনযাপন করা জরুরি।


প্রিন্ট