ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিত অনফিশিয়াল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের হার বাংলাদেশ এ দলের ‘কালো দাগ’ মুক্ত সিরিয়া, খুললো উন্নয়নের পথ : প্রেসিডেন্ট শারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী দেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা দিতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর ব্ল্যাক কফি কী সত্যিই ওজন কমাতে পারে? ঝগড়ার পরে সম্পর্ক ঠিক করতে কী করবেন?

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত মুস্তাফা মনোয়ার

বিনোদন প্রতিবেদক: ফুলেল শ্রদ্ধা, গার্ড অব অনার এবং তিন দফা জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী ও দেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সেখানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তার শ্বশুর তোফায়েল উদ্দিন আহমেদের কবরের পাশে। এর আগে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিল্পীর মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এর আগে দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ৯১ বছর বয়সী এই গুণী শিল্পী। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তবে তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। প্রয়াত খ্যাতনামা কবি গোলাম মোস্তফা এবং মা জমিলা খাতুনের সুযোগ্য সন্তান ছিলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিলেন।

তবে মনের টানে সেখান থেকে সরে এসে ভর্তি হন কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে। ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে কৃতিত্বের সাথে পাস করেন তিনি। ভারত থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরার পর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পরামর্শে আর্ট কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন এই কিংবদন্তি।

শিক্ষকতার বাইরেও দেশের সাংস্কৃতিক খাতের আমূল পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। চিত্রকলার পাশাপাশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, শিশুতোষ বিনোদন বিশেষ করে বাংলাদেশে পাপেট চর্চাকে জনপ্রিয় করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন।

দাফনের পূর্বে আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণেই তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন দেশের জ্যেষ্ঠ অভিনেতা আবুল হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, রাশেদ মামুন অপু, হাবিবুর রহমান খান, খোরশেদ আলম খসরুসহ চ্যানেল আই পরিবারের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জানাজা শেষে অশ্রুসজল চোখে প্রিয় মানুষকে বিদায় জানান উপস্থিত সকলে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে জবিতে ‘ইউথ ইমপ্যাক্ট সামিট’

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত মুস্তাফা মনোয়ার

আপডেট টাইম : ০৯:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিনোদন প্রতিবেদক: ফুলেল শ্রদ্ধা, গার্ড অব অনার এবং তিন দফা জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী ও দেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সেখানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তার শ্বশুর তোফায়েল উদ্দিন আহমেদের কবরের পাশে। এর আগে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিল্পীর মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এর আগে দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ৯১ বছর বয়সী এই গুণী শিল্পী। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তবে তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। প্রয়াত খ্যাতনামা কবি গোলাম মোস্তফা এবং মা জমিলা খাতুনের সুযোগ্য সন্তান ছিলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিলেন।

তবে মনের টানে সেখান থেকে সরে এসে ভর্তি হন কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে। ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে কৃতিত্বের সাথে পাস করেন তিনি। ভারত থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরার পর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পরামর্শে আর্ট কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন এই কিংবদন্তি।

শিক্ষকতার বাইরেও দেশের সাংস্কৃতিক খাতের আমূল পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। চিত্রকলার পাশাপাশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, শিশুতোষ বিনোদন বিশেষ করে বাংলাদেশে পাপেট চর্চাকে জনপ্রিয় করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন।

দাফনের পূর্বে আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণেই তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন দেশের জ্যেষ্ঠ অভিনেতা আবুল হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, রাশেদ মামুন অপু, হাবিবুর রহমান খান, খোরশেদ আলম খসরুসহ চ্যানেল আই পরিবারের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জানাজা শেষে অশ্রুসজল চোখে প্রিয় মানুষকে বিদায় জানান উপস্থিত সকলে।


প্রিন্ট