ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত মুস্তাফা মনোয়ার

বিনোদন প্রতিবেদক: ফুলেল শ্রদ্ধা, গার্ড অব অনার এবং তিন দফা জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী ও দেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সেখানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তার শ্বশুর তোফায়েল উদ্দিন আহমেদের কবরের পাশে। এর আগে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিল্পীর মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এর আগে দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ৯১ বছর বয়সী এই গুণী শিল্পী। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তবে তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। প্রয়াত খ্যাতনামা কবি গোলাম মোস্তফা এবং মা জমিলা খাতুনের সুযোগ্য সন্তান ছিলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিলেন।

তবে মনের টানে সেখান থেকে সরে এসে ভর্তি হন কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে। ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে কৃতিত্বের সাথে পাস করেন তিনি। ভারত থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরার পর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পরামর্শে আর্ট কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন এই কিংবদন্তি।

শিক্ষকতার বাইরেও দেশের সাংস্কৃতিক খাতের আমূল পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। চিত্রকলার পাশাপাশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, শিশুতোষ বিনোদন বিশেষ করে বাংলাদেশে পাপেট চর্চাকে জনপ্রিয় করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন।

দাফনের পূর্বে আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণেই তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন দেশের জ্যেষ্ঠ অভিনেতা আবুল হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, রাশেদ মামুন অপু, হাবিবুর রহমান খান, খোরশেদ আলম খসরুসহ চ্যানেল আই পরিবারের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জানাজা শেষে অশ্রুসজল চোখে প্রিয় মানুষকে বিদায় জানান উপস্থিত সকলে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত মুস্তাফা মনোয়ার

আপডেট টাইম : ০৯:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিনোদন প্রতিবেদক: ফুলেল শ্রদ্ধা, গার্ড অব অনার এবং তিন দফা জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী ও দেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সেখানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তার শ্বশুর তোফায়েল উদ্দিন আহমেদের কবরের পাশে। এর আগে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিল্পীর মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এর আগে দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ৯১ বছর বয়সী এই গুণী শিল্পী। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তবে তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। প্রয়াত খ্যাতনামা কবি গোলাম মোস্তফা এবং মা জমিলা খাতুনের সুযোগ্য সন্তান ছিলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিলেন।

তবে মনের টানে সেখান থেকে সরে এসে ভর্তি হন কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে। ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে কৃতিত্বের সাথে পাস করেন তিনি। ভারত থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরার পর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পরামর্শে আর্ট কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন এই কিংবদন্তি।

শিক্ষকতার বাইরেও দেশের সাংস্কৃতিক খাতের আমূল পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। চিত্রকলার পাশাপাশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, শিশুতোষ বিনোদন বিশেষ করে বাংলাদেশে পাপেট চর্চাকে জনপ্রিয় করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন।

দাফনের পূর্বে আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণেই তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন দেশের জ্যেষ্ঠ অভিনেতা আবুল হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, রাশেদ মামুন অপু, হাবিবুর রহমান খান, খোরশেদ আলম খসরুসহ চ্যানেল আই পরিবারের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জানাজা শেষে অশ্রুসজল চোখে প্রিয় মানুষকে বিদায় জানান উপস্থিত সকলে।


প্রিন্ট