মাধবপুর প্রতিনিধি:
নারীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক চলাচল নিশ্চিত করতে পৃথক বাস চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন খাতামুন নাবীয়্যীন (সা:) ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান সৈয়দ শিব্বির আহমদ শিবলী (ছোট সাহেব)।
বুধবার (১৯ আগস্ট) এক পৃথক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক উল্লেখ করে বলেন, নারীদের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
সৈয়দ শিব্বির আহমদ শিবলী বলেন, জাহেলি যুগে নারীদের ওপর চলা নানা অন্যায় ও নিষ্ঠুর প্রথার অবসান ঘটিয়ে তাদের মানবিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার এবং সম্মানজনক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন। জাহেলি যুগে কন্যাসন্তান জন্মকে অপমানজনক মনে করে জীবন্ত পুঁতে ফেলার মতো নিষ্ঠুর প্রথা প্রচলিত ছিল। মহানবী (সা:) কন্যাসন্তানকে রহমত ও জান্নাতের উসিলা হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রিয় নবীজি (সা:) নারীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন, তাদের শিক্ষা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এবং পারিবারিক জীবনে নারীদের সঙ্গে সদাচরণের জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন। তাই নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি সরকারের প্রতি নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পরিবহন, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও পরিকল্পিত ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।পৃথক বাস চালুর উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু পৃথক বাস চালু করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। বাসের নিরাপত্তা, নিয়মিত পরিচালনা, চালক ও কর্মীদের দায়িত্বশীলতা এবং যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যানবাহন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়। গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহার ও অন্যমনস্কতা পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি নামাজের সময় হলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি রেখে নামাজ আদায়ের প্রতিও তিনি আন্তরিকভাবে আহ্বান জানান।
সৈয়দ শিব্বির আহমদ শিবলী বলেন, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন পক্ষের দ্বিমত বা সমালোচনা থাকতে পারে। তবে জনকল্যাণমূলক ভালো উদ্যোগকে দল-মত নির্বিশেষে স্বাগত জানানো এবং ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা করাই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনীয় কাজে আরও নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক পরিবেশে চলাচলের সুযোগ পাবেন।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 

























