গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলি সরকারের দুই মন্ত্রীর ধারাবাহিক বক্তব্য ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
তিনি বলেন, ‘এই পরিকল্পনা মোকাবিলায় আরব ও ইসলামি দেশগুলোকে কঠোর ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে হবে। এ এসব পরিকল্পনা ঠেকাতে কার্যকর অবস্থান ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বৃহস্পতিবার গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে গাজা ছাড়তে হবে। এরপর পরবর্তী ছয় বছরে সেখানকার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বাকিদেরও সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর এক দিন আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছিলেন, সমুদ্র ও স্থলপথে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে ইসরাইল প্রস্তুত।
তবে তিনি জানান, জনগণকে কোথায় পাঠানো হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
এর আগে কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ফিলিস্তিনিদের অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকেও সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও ক্রমেই বাড়ছে।
অধিকৃত ভূখণ্ডে বেসামরিক মানুষকে জোরপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া জেনেভা কনভেনশনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর থেকে গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠীই একাধিকবার নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ওই হামলা ছিল ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। ওই হামলায় নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।
ইসরাইলি মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক এসব বক্তব্য এসেছে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে। জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে নির্বাচনী লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নেতানিয়াহু তার সরকারে এমন কয়েকজন কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যারা আগে রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই উপেক্ষিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে বিশ্বকে চমকে দিয়ে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূমধ্যসাগরীয় এই ভূখণ্ডকে একটি বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তবে মিসরসহ বিভিন্ন দেশের তীব্র আপত্তির মুখে পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। ইসরাইল ছাড়া মিসরই গাজার একমাত্র সীমান্তবর্তী দেশ।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 





















